ভিন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের রহস্যমৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় যে অশান্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল তার তদন্ত করবে এনআইএ।

বেলডাঙা অশান্তি
শেষ আপডেট: 30 January 2026 23:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভিন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের রহস্যমৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় যে অশান্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল তার তদন্ত করবে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ (NIA Beldanga Incident)। শুক্রবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের (MHA) তরফে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বেলডাঙাকাণ্ডে তদন্তের জন্য সাত থেকে আট সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হবে, যারা আগামীকালই থানায় গিয়ে কেস ডায়রি নেবে।
সপ্তাহখানেক আগে ঝাড়খণ্ডে (Jharkhand) মুর্শিদাবাদের এক পরিযায়ী শ্রমিকের (Murshidabad Migrant Worker) রহস্যজনক মৃত্যুকে (Death) কেন্দ্র করে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে বেলডাঙা (Beldanga)। তারপরই জাতীয় সড়ক অবরোধ ও রেল রোকো (Protest and Rail Roko Campaign) কর্মসূচিতে নামেন গ্রামবাসীরা। দোষীদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে সুজাপুর–কুমারপুর এলাকা। পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী।
মৃত শ্রমিকের নাম আলাউদ্দিন শেখ (৩৭)। বেলডাঙার সুজাপুর কুমারপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা তিনি। পেশায় ফেরিওয়ালা আলাউদ্দিন কাজের সূত্রে ঝাড়খণ্ডে গিয়েছিলেন। ঝাড়খণ্ডে তাঁর ঘর থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয় বলে জানতে পারে পরিবার। আর এই খবর পাওয়ার পরই তাঁদের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়, আলাউদ্দিনকে পরিকল্পিতভাবে মারধর করে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ ছিল, পশ্চিমবঙ্গের শ্রমিক (West Bengal Migrant Worker) হওয়ার কারণেই তাঁকে টার্গেট করা হয়েছিল। এই অভিযোগ ঘিরেই এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
পথ অবরোধ থেকে শুরু করে এলাকায় ভাঙচুর, ট্রেন থামিয়ে বিক্ষোভ- পরিস্থিতি ক্রমশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে থাকে (Murshidabad violence)। শনিবারও উত্তেজনা কমেনি। পরপর দুদিন আক্রান্ত হন সাংবাদিকরা। শেষ পর্যন্ত পুলিশ পদক্ষেপ নেয় এবং একে একে শুরু হয় গ্রেফতারির পালা। সিসিটিভি ফুটেজ (CCTV Footage) ও সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media) ছড়িয়ে পড়া ভিডিও দেখে দোষীদের শনাক্তকরণ। ধৃতদের মধ্যে আছেন একজন মিম নেতাও।
বেলডাঙার ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের হয়। প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, বেলডাঙার ঘটনায় (Beldanga Unrest) জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA) দিয়ে তদন্ত হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্রীয় সরকারই (State Govt)। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনের ভূমিকায় অসন্তোষও প্রকাশ করেছিল আদালত।
প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল আরও বলেছিলেন, মুর্শিদাবাদে ধারাবাহিক ভাবে হিংসার ঘটনা ঘটছে, যা থেকে বোঝা যাচ্ছে যে পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিয়ে আদালত গভীর ভাবে চিন্তিত বলেও মন্তব্য করা হয়েছিল।
কলকাতা হাইকোর্টের এই মন্তব্যের ক'দিনের মধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশে বেলডাঙার অশান্তির তদন্তভার পেল এনআইএ।