
শেষ আপডেট: 23 March 2022 09:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এবছরের মতো শেষ হল বেহালা শাস্ত্রীয় সঙ্গীত উৎসব (Behala Classical Festival), কিন্তু রেশ ঠেকে গেল আগামীর সূচনার। ধ্রুপদী সঙ্গীতের এমন উৎসব হয়তো কলকাতার (Kolkata) বুকে ডোভার লেন ছাড়া আর কোথাও ভাবা যায় না। চারদিনব্যাপী বেহালার এই অনুষ্ঠানে সঙ্গীতপ্রিয় মানুষের থেকে যে পরিমাণ সাড়া মিলেছে, তা এক কথায় অভাবনীয়। আর শেষদিনেও একের পর এক চমকে ভরপুর ছিল বেহালা ক্লাসিকাল ফেস্টিভ্যাল।

আরও পড়ুন: শুরু হল বহু প্রতীক্ষিত সঙ্গীত উৎসব, সুরে তালে মাতল কলকাতা
শ্যামসুন্দর কোম্পানি জুয়েলার্স প্রেজেন্টেশন বেহালা শাস্ত্রীয় সঙ্গীত উৎসব ঘিরে প্রথম থেকেই মানুষের মধ্যে এক আলাদা উন্মাদনা লক্ষ্য করা গেছে। বিভিন্ন প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্বের সঙ্গীতের টানে বেহালা ব্লাইন্ড স্কুলের মাঠ ছিল দর্শকে ঠাসা। মঞ্জু মেহতা, অজয় চক্রবর্তী, কৌশিকী চক্রবর্তীর মতো তারকাদের গানের সুরে মোহিত হয়েছিলেন সকলে। শেষদিনে ছিল শুধুই চমক।

একদিকে তেজেন্দ্রপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, বিক্রম ঘোষের ডুয়েট তো অন্যদিকে হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়া আর সনাতন দিন্দার অনবদ্য উপস্থাপনা। বেহালা ক্লাসিকাল ফেস্টিভ্যাল শেষদিনে জমে ক্ষীর।
২২ মার্চ উৎসবের শেষদিনে পণ্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়ার হাতে সর্বোত্তম সম্মান তুলে দিলেন শ্যামসুন্দর কোম্পানি জুয়েলার্সের কর্ণধার রূপক সাহা। ছিলেন বকুল সাহাও। এই নিয়ে দশ বছরে পা দিল বেহালার এই শাস্ত্রীয় সঙ্গীত উৎসব। প্রতিবছরই কোনও না কোনও প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্বের হাতে এই সর্বোত্তম সম্মান তুলে দিয়েছে শ্যামসুন্দর কোম্পানি জুয়েলার্স। পণ্ডিত বিরজু মহারাজ, উস্তাদ আমজাদ আলি খান, বেগম পারভিন সুলতানা, পণ্ডিত বিশ্ব মোহন ভাট, বেহালাবাদক এল সুব্রামানিয়ামকে এর আগে এই সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে। এবার সেই তালিকায় যোগ হল পণ্ডিত হরিপ্রসাদ চোরাসিয়ার নামও।

এদিনের এই সম্মান প্রদান নিয়ে হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়া বলেন, 'এটা আমার কাছে এক বিশেষ সম্মান। কারণ ভারতের সংস্কৃতির পীঠস্থান শহর কলকাতা থেকে এই সম্মান পাচ্ছি। এই শহর আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে। আজ আমি কলকাতার মানুষদের কাছ থেকে ভালবাসার দান হিসাবে এই সম্মান নিলাম।'

এই সর্বোত্তম সম্মান হরিপ্রসাদ চোরাসিয়ার হাতে তুলে দিতে পেরে উৎফুল্লিত রূপক সাহা। তিনি জানান, 'এই সর্বোত্তম সন্মান আমাদের কাছে এক বিশেষ ব্যাপার। এবার পণ্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়ার মতো মানুষকে সম্মান জানাচ্ছি, যাঁর জ্ঞানের আলোতে আমরা আলোকিত।'
এই শাস্ত্রীয় সঙ্গীত উৎসবে হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়া ও সনাতন দিন্দার যে যুগলবন্দির উপস্থাপনা হল তা হয়তো আগে কখনও কোনও মঞ্চে দেখা যায়নি।

দুই জগতের দুই নক্ষত্রকে এক ছাদের তলায় এক মঞ্চে এনে উপস্থিত করেছে বেহালার এই সঙ্গীত উৎসব। যখন মঞ্চের এক পাশে বসে হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়া তাঁর বাঁশিতে একের পর এক শাস্ত্রীয় সুর তুললেন, তখন মঞ্চের আরেক পাশে সাদা ক্যানভাসে ফুটে উঠল রঙের জাদু, তুলির টান। তাঁর সঙ্গে একই মঞ্চে পারফরম্যান্স করতে পেরে খুশি সনাতন দিন্দাও। কথায় আছে যার শেষ ভাল তার সব ভাল, সবমিলিয়ে উৎসবের শেষদিনে সঙ্গীতপ্রিয় মানুষেরা যে স্বাদ পেলেন তা মনে রাখবেন বহুদিন।