দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুইপার থেকে ডেপুটি কালেক্টর! ২ সন্তানের মা আশা কান্দারা গোটা দুনিয়ার সামনে সাফল্যের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হতে পারেন। যোধপুরের রাস্তা ঝাড় দিতেন পুরসভা কর্মী হিসাবে। ২ সন্তানকে মানুষ করার পাশাপাশি জেদ, মানসিক দৃঢ়তা, অধ্যাবসায়ের জোরে নিজেকেও নতুন উচ্চতায় তুলে নিয়ে গিয়েছেন তিনি। রাজস্থান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস পরীক্ষায় পাশ করেছেন। শীঘ্রই ডেপুটি কালেক্টর পদে নিয়োগ হবে তাঁর।
দু বছর আগেই রাজস্থান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস পরীক্ষায় বসেছিলেন তিনি। কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারী সংক্রমণ সহ নানা কারণে ফল বেরতে দেরি হয়। সংসার চালাতে পরীক্ষায় বসার ১২ দিনের মাথায় তিনি পুরসভার ঝাড়ুদারের চাকরি নেন। তখন থেকেই একদিকে রাস্তা সাফ, বাচ্চাদের লালন পালন আর পরীক্ষার ফলপ্রকাশের অপেক্ষায় বসে থাকা, এভাবেই দিন কাটছিল আশার। সম্প্রতি ফল বেরয়। আশা জানতে পারেন, তিনি পাশ করেছেন। সাফল্যের জন্য তিনি কৃতিত্ব দিচ্ছেন পরিবারকে। কিন্তু সেই পরিবারের কাণ্ডারী বলতে তিনিই। কেননা ৮ বছর আগে স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। বাচ্চাদের বড় করে তোলার দায়িত্ব নিজের কাঁধেই তুলে নেন আশা। তিনি জানিয়েছেন, বাস্তব জীবনে চলার পথে তিনি যে বৈষম্য, অবিচার সমাজ থেকে পেয়েছেন, সেটাই তাঁর ভিতরে সংকল্প তৈরি করেছিল যে, জীবনের পথ বদলাতে হবেই। কঠিন পরিশ্রমেই এসেছে সাফল্য, বিশ্বাস করেন তিনি। তবে তাঁর স্বপ্ন ছিল আইএএস অফিসার হওয়ার, কিন্তু বয়স সংক্রান্ত বিধিনিষেধ থাকায় তিনি পরীক্ষায় বসতে পারেননি।
তবে আশার মতো উদাহরণ দেশের কোণে কোণে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। যেমন একা মা, কেরলের তিরুবনন্তপুরমের অ্যানি শিবা। যাবতীয় বাধাবিপত্তি পেরিয়ে অ্যানি সাব-ইনস্পেক্টর হয়েছেন।
অ্যানি হতে চেয়েছিলেন পুলিশ অফিসার। কিন্তু একদিন তাঁকে শিশুসন্তান সহ ফেলে চলে যায় অ্যানির লিভ ইন পার্টনার। জীবন সংগ্রাম শুরু হয় তাঁর। লোকের দরজায় ঘুরে ঘুরে সাবান, জামাকাপড় কাচার পাউচার, মুদিখানার সামগ্রী, আইসক্রিম, লেমনেড বিক্রি করতেন। কিন্তু পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছেন। সোসিওলজিতে স্নাতক ডিগ্রি প্রাপ্তির পর ২০১৯এ পুলিশ অফিসার পদের চাকরির পরীক্ষায় বসে পাশ করেন। দেড় বছরের ট্রেনিংয়ের পর এসআই পদে নিয়োগ।
আশা, অ্যানিরা প্রমাণ করে দিয়েছেন, লক্ষ্যে স্থির থাকলে একদিন সাফল্য ধরা দেবেই। লক্ষ্যকে পাখীর চোখ করে এগলে কোনও বাধাই বাধা নয়।