শেষ আপডেট: 11 December 2019 11:19
প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের আনন্দ শর্মা বলেন, “এত তাড়া কিসের? এই বিলটিকে সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো উচিত। বিলটি এমন ভাবে পাশ করানো হচ্ছে যেন মনে হচ্ছে দেশ বিশাল কোনও সমস্যায় পড়েছে। আমরা এই বিলের বিরোধিতা করছি। এই বিরোধিতার কারণ রাজনৈতিক নয়, এই বিরোধিতার কারণ নৈতিক ও সাংবিধানিক। এই বিল ভারতের সংবিধান ও গণতন্ত্রের উপরে আঘাত। এই বিল ভারতের আত্মার উপরে আঘাত, এই বিল নৈতিকতার পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে।”
বিজেপির জগৎপ্রকাশ নাড্ডা অবশ্য এর বিরোধিতা করে বলেন, “২০০৩ সালে যখন আডবাণীজি (লালকৃষ্ণ আডবাণী) উপ-প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তখন রাজ্যসভায় মনমোহন সিং বলেছিলেন উদ্বাস্তু সমস্যা নিয়ে, তিনি বলেছিলেন বাংলাদেশের মতো প্রতিবেশী দেশ থেকে যে সব সংখ্যালঘু আসছেন তাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়ার ব্যাপারে উদার হওয়া দরকার। আমরা শুধু সেটাই করছি যে কথা তিনি (মনমোহন সিং) বলেছিলেন।” মনমোহন সিং দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ২০০৪ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত।
কংগ্রেসের কপিল সিব্বল বলেন, যাঁদের এই দেশ সম্বন্ধে কোনও ধারনা নেই, তাঁরা এই দেশের ধারনাকে রক্ষা করতে পারবেন না। তিনি বলেন, “আমি জানি না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কোন ইতিহাস বই পড়েছেন। দ্বিজাতিতত্ত্ব আমাদের নয়, এই তত্ত্ব সাভারকরের তৈরি। কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তিনি যে অভিযোগ এনেছেন তা প্রত্যাহারের জন্য আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ করছি কারণ আমরা এক জাতিতে বিশ্বাসী এবং আপনারা নন।”
লোকসভায় এই বিল প্রসঙ্গে অমিত শাহ বলেছিলেন, যদি নেহরু-লিয়াকত চুক্তি না হত তা হলে এই বিলও কোনও দিন আনতে হত না। তিনি দেশ ভাগের জন্য দায়ী করেছিলেন কংগ্রেসকে। এ দিন তারই উত্তর দেন সিব্বল।
এই বিলকে অসাংবিধানিক বলেন প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পালানিয়াপ্পান চিদম্বরম। আইনপ্রণেতারা বিষয়টি বিচারবিভাগের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন রাজ্যসভায়।
তৃণমূলের ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেন, “নাগরিকত্ব বিলের বিরুদ্ধে জনগণ আন্দোলনে নামবে। আমরা গণতন্ত্র থেকে একনায়কতন্ত্রের দিকে এগচ্ছি। নাৎসিদের দেখে উদ্বুদ্ধ হয়েই এই নাগরিকত্ব (সংশোধন) বিল।” এনআরসি-র (রাষ্ট্রীয় নাগরিক পঞ্জিকরণ) পাইলট প্রকল্পটাই অসমে ধাক্কা খেয়েছে, তাই কোন সাহসে দেশের আরও ২৭টি রাজ্যে সেই একই কাজ সরকার করতে চলেছে, সেই প্রশ্নও তিনি তোলেন।
অমিত শাহ রাজ্যসভায় অভিযোগ করেন, মানুষকে এই বিল নিয়ে ভুল বোঝানো হচ্ছে।