দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোভিড ১৯ মহামারীর ধাক্কায় মানুষ যখন রুটি-রুজি হারাচ্ছে, তখন ভারতে টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (টিসিএস), ইনফোসিস ও উইপ্রোর মতো তথ্য ও প্রযুক্তি সংস্থা নতুন লোকজন নিচ্ছে বলে খবর। চলতি অর্থবর্ষে এক লাখের বেশি, সদ্য কলেজ পাশ করে বেরনো ছেলেমেয়েদের নিচ্ছে তারা। কোম্পানিগুলি নিজ নিজ ত্রৈমাসিক আপডেটের ভিত্তিতে একথা বলেছে। ২০২১ অর্থনৈতিক বছরের শুরুতে হায়ারিং ৯ হাজার কমিয়েছিল তারা। কিন্তু প্রথম ত্রৈমাসিকেই ৪০ হাজার নতুন কর্মী রিক্রুট করেছে তারা। শুধু জুন ত্রৈমাসিকেই উইপ্রো প্রায় ১২ হাজার লোক নিয়েছে। ইনফোসিস ও টিসিএস যথাক্রমে ৮৩০০ ও ২০ হাজার কর্মী নিয়োগ করেছে। সবাই মিলে প্রায় ৫ লাখ পর্যন্ত নিয়োগ করেছে।
নতুন লোক নিয়োগে ২০২১-২২ এ সবার আগে থাকতে পারে টিসিএস। তারা দেশে ক্যাম্পাস প্লেসমেন্টের মাধ্যমে ৪০ হাজার লোক হায়ার করতে পারে।
গত ২ বছরে টিসিএসের হায়ারিং রেট একই রয়েছে। এমনিতেই ৫ লাখ কর্মচারীর বেস আছে তাদের। টিসিএসের গ্লোবাল হিউম্যান রিসোর্সেসের প্রধান বলেছেন, ভারতে গত বছর ক্যাম্পাস থেকে ৪০ হাজার লোক হায়ার করেছিলাম। চলতি বছরে ভারত থেকে ৪০ হাজারের বেশি হায়ার করব। এবছর লেটারাল হায়ারিংয়েও তাঁরা গুরুত্ব দেবেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। মহামারী এবং লকডাউনের বিধিনিষেধ, কোনওটাই হায়ারিং প্রক্রিয়ায় বাধা হয়নি বলে জানান তিনি। গত বছর ভার্চুয়াল এনট্রান্স পরীক্ষায় প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার নতুন ছেলেমেয়ে বসেছিল।
ইনফোসিসের চিফ অপারেটিং অফিসার প্রবীণ রাওয়ের বিবৃতিতে প্রকাশ, মার্চে শেষ হওয়া ত্রৈমাসিকে তাঁদের কর্মী ছিল ২.৫৯ লাখ। জুন ত্রৈমাসিকে তা বেড়েছে ২.৬৭ লাখ। তিনি বলেছেন, ডিজিটাল মেধার চাহিদা খুব বেড়েছে। ইন্ডাস্ট্রিতে চ্যালেঞ্জও বেড়েছে। ২২ অর্থবর্ষে বিশ্বব্যাপী কলেজ পড়ুয়াদের হায়ারিং কর্মসূচির প্রসার হতে পারে। ৩৫ হাজার নতুন নিয়োগের সম্ভাবনা আছে। কর্মচারীদের সুরক্ষা আমাদের কাছে বিরাট গুরুত্বপূর্ণ। আমরা তাদের ও তাদের ওপর নির্ভরশীল লোকজনকে ভ্যাকসিন দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি।
উইপ্রো এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকে ১২ হাজারের বেশি লোক নিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্ষতির মাত্রা বাড়তে পারে ধরে নিয়ে। ফ্রেশারদের নতুন ৩০ হাজার চাকরির অফার দিতে পারে তারা। তথ্য ও প্রযুক্তি কোম্পানিগুলি বাজার, অর্থনীতির চলতি হাল মাথায় রেখে বড় ক্ষতির ভয় করছে। সম্প্রতি উইপ্রো চেয়ারম্যান রিশাদ প্রেমজি শেয়ারহোল্ডারদের লেখা চিঠিতে বলেছেন, আর্থিক পূুনরুজ্জীবনের সামনের সারিতে থাকবে প্রযুক্তি। ডিজিটাল স্পেসে বদলের কথা মাথায় রেখে বলা যায়, চাহিদা কাজের সরবরাহের তুলনায় অনেক বেশি থাকবে।