দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাবা সাফাইকর্মী, ছেলে ভারতীয় সেনাবাহিনীর অফিসার। নরেন্দ্র মোদীর চা বিক্রেতা থেকে দেশের প্রধানমন্ত্রীর হয়ে ওঠার মতোই রূপকথা, যা বাস্তব হয়েছে।
উত্তরপ্রদেশের চান্দাউলি জেলার বিজেন্দ্র কুমার বছর দশেক আগে নিজের গ্রামেরই পড়শীদের বড় মুখ করে বলেছিলেন, ছেলেকে রাজস্থানের স্কুলে পাঠাচ্ছেন, যাতে সে ভালমতো পড়াশোনা করে একদিন সেনা অফিসার হয়। সেদিন তাঁর স্বপ্নের কথা শুনে হেসে লুটিয়ে পড়েছিল পড়শিরা। বামুন হয়ে চাঁদে হাত বাড়ানোর স্বপ্ন দেখার সাহস কোথা থেকে পেল বিজেন্দ্র! কিন্তু বিজেন্দ্র রাগ করেননি, ভরসা করেছিলেন ছেলের ওপর। ২১ বছরের ছেলে সুরজিত্ মান রেখেছেন তাঁর। দেহরাদুনের ইন্ডিয়ান মিলিটারি অ্যাকাডেমি থেকে স্নাতক হয়েছেন। তাঁদের বাসিলা গ্রামের কেউ এই প্রথম ভারতীয় সেনার অফিসার হলেন। শনিবার টিভিতে পাসিং আউট প্যারেডে ছেলেকে দেখে গর্ব উথলে উঠল বিজেন্দ্রর বুকে। কোভিড বিধির জন্য জেন্টলম্যান ক্যাডেটদের পরিবারের লোকজনের সেখানে থাকার অনুমতি ছিল না এবার।
ছেলেকে দেখতে দেখতে বিজেন্দ্রর মনে পড়ে গেল পুরানো অনেক কথা। ফোনে তিনি সংবাদ সংস্থাকে বলেছেন, আমি একদিন হাতে ঝাড়ু তুলেছি, আমার ছেলে বন্দুক হাতে দেশকে রক্ষা করবে।
বিজেন্দ্রর স্ত্রী আশা কর্মী। সুরজিত যোগ দেবেন সেনার অর্ডিন্যান্স কোরে। তিনি বলেছেন, বাবা-মার মুখে গর্বের আলো দেখার ইচ্ছে করছে। পরিবারে তাঁর ভাইবোনেরাও জীবনে পড়াশোনা করে নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিজেন্দ্র এখন কর্মসূত্রে আছেন বারাণসীতে। তিন ছেলেমেয়েকে তিনি সেখানে নিয়ে যাবেন যাতে তারা ভাল পড়াশোনার সুযোগসুবিধা পায়। গ্রামের মানুষের সেবার জন্য থেকে যাবেন স্ত্রী।
বিজেন্দ্র নিশ্চিত, তাঁর তিন ছেলেমেয়ের স্বপ্ন পূরণ হবেই। তিনি বলেন, চ্যালেঞ্জ মানুষকে বেশি শক্তিশালী, সবল করে। আমার বড় মেয়ে দুবছর আগে স্কুলের পড়া শেষ করে। আমি ওর মেডিকেল কোচিংয়ের পয়সা জোগাড় করতে পারিনি। ও নিজের খরচেই এমবিবিএস পড়ছে। ছোট মেয়ে আইএএস অফিসার হতে চায়। ছোট ছেলের স্বপ্ন আইআইটি পড়বে।