দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাজে চুল কেটেছে (bad hair cut)। এক মডেলের (model) অভিযোগে মান্যতা দিয়ে নামী লাক্সারি হোটেলকে (luxury hotel) ২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের (2crore compensation) নির্দেশ ন্যাশনাল কনজিউমার ডিসপিউটস রিড্রেসাল কমিশনের (consumer redressal commmission)। তিনি যেভাবে চেয়েছিলেন, সেভাবে চুল না কাটায় ওই মডেলের প্রত্যাশিত অ্যাসাইনমেন্ট হাতছাড়া হয়, বিরাট ক্ষতির জেরে তাঁর জীবনযাত্রা (life style) পুরোপুরি বদলে যায়, তাঁর সেরা মডেল হয়ে ওঠার স্বপ্নও চুরমার হয়, বলেছে কমিশন। তাঁর স্বপ্ন ভেঙে গিয়েছে, হোটেলের সেলুনের অবহেলায় তিনি অ্যাসাইনমেন্ট হারিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছিলেন ওই মডেল।
কমিশনের প্রেসিডেন্ট আর কে আগরওয়াল ও সদস্য এস এম কানিতকরকে উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা এএনআই বলেছে, কোনও সংশয় নেই, মেয়েরা নিজেদের চুলের ব্যাপারে যে খুবই সাবধানী, যত্নবান। চুলের পরিচর্যায় তাঁরা প্রচুর টাকা খরচ করেন। চুলের সঙ্গে তাঁদের আবেগের সম্পর্ক। অভিযোগকারিনী হেয়ার প্রোডাক্টের মডেল হয়েছিলেন তাঁর লম্বা চুলের জন্য। ভিএলসিসি, প্যান্টিনের হয়ে তিনি মডেলিংও করেছেন।
কমিশন বলেছে, হোটেলের সেলুনের গাফিলতির ফলে ওই মডেলকে মানসিক বিপর্যয়, আঘাত সইতে হয়, শেষ পর্যন্ত তাঁর কাজ চলে যায়। তিনি একজন সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট পেশাজীবী হিসাবেও কাজ করতেন, সেখান থেকে ভদ্রস্থ আয়ও হোত।
আরও পড়ুন----'স্কুলে যেতে চাই, নইলে আগামী প্রজন্মকে কী শেখাব!' দেখুন আফগান কিশোরীর ঝড় তোলা ভিডিও
মডেল ক্রেতা সুরক্ষা আদালতে জানান, ২০১৮র ১২ এপ্রিল তাঁর একটা ইন্টারভিউ ছিল। তার এক সপ্তাহ আগে তিনি ওই হোটেলের সেলুনে যান। ওখানকার নিয়মিত কাস্টমার ছিলেন তিনি। সেদিন তাঁর বাঁধা হেয়ারড্রেসার না থাকায় আরেকজন তাঁর চুল কাটায় নিযুক্ত হন। তাঁর বদলি হেয়ারড্রেসারের ব্যাপারে আপত্তি ছিল, কিন্তু সেলুন কর্তৃপক্ষ তাঁকে আশ্বস্ত করে, হেয়ারড্রেসারের কাজে উন্নতি হয়েছে।
ক্রেতা সুরক্ষা আদালত বলেছে, অভিযোগ, ওই মডেল কী ধরনের হেয়ারকাট চান, তা বুঝিয়ে দিলেও হেয়ারড্রেয়ার তাঁর লম্বা চুল ছেঁটে দিয়ে মাথা থেকে মাত্র চার ইঞ্চি রেখে দেন, কাঁধ পর্যন্তও নামেনি চুল। এতে এক ঘন্টারও বেশি লাগায় হেয়ারড্রেসার তাঁকে বলেন, ‘লন্ডন হেয়ারকাট’ হচ্ছে! পরে হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেও কোনও সুরাহা মেলেনি, ওই হেয়ারড্রেসারের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি। পরেও তিনি ওই সেলুনে হেয়ার ট্রিটমেন্ট করাতে যান, বেরিয়ে এসে মনে হয়, তাঁর মাথার ওপরটা যেন অ্যামোনিয়া দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, চুলটা রুক্ষ হয়ে গিয়েছে।
চরম হতাশ হয়ে পরিষেবায় গাফিলতির অভিযোগে হোটেলের কাছে লিখিত ক্ষমাপ্রার্থনা দাবি করেন মডেল, পাশাপাশি ‘হেনস্থা, অসম্মান, মানসিক যন্ত্রণা’র জন্য ক্ষতিপূরণও চান। যদিও হোটেল কর্তৃপক্ষের পাল্টা দাবি, ওই মডেলের কার্ড কাজ না করায় বিনা পয়সায় তাঁর চুল কেটে দেওয়া হয়। সুতরাং তিনি কাস্টমারের পর্যায়ে পড়েন না। ক্ষতিপূরণের অঙ্কও তিনি বাড়িয়ে দেখিয়েছেন, যার কোনও ভিত্তি নেই। তিনি হোটেলের সুনাম নষ্ট করতে চেয়েছেন বলেও অভিযোগ তাদের।