দ্য ওয়াল ব্যুরো: চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য্য (chandragupta) আলেকজান্ডারকে (alexander) পরাজিত করলেও ইতিহাসবিদরা (historians) তাঁকে মহান (great) আখ্যা দেননি বলে দাবি যোগী আদিত্যনাথের (yogi adityanath)। ইতিহাস বলছে, ম্যাসিডোনিয়ার অধীশ্বর আলেকজান্ডার মারা যান খ্রিস্টপূর্ব ৩২৩ এ, ভারত অভিযানের কয়েক বছর পর। মৌর্য্য সাম্রাজ্যের স্থপতি চন্দ্রগুপ্ত কবে ক্ষমতায় আসীন হন, তা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও গবেষক মহলের মোটামুটি ধারণা হল, আলেকজান্ডারের মৃত্যুর পরই।
রবিবার ভোটমুখী উত্তরপ্রদেশে বিজেপির ওবিসি মোর্চা আয়োজিত সামাজিক প্রতিনিধি সম্মেলন-এ মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেন, ইতিহাস কখনই সম্রাট অশোক বা চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য্যকে মহান বলেনি, বলেছে আলেকজান্ডারকে যিনি বীর চন্দ্রগুপ্তের হাতে পরাস্ত হয়েছিলেন। ইতিহাসবিদরা এধরনের ইস্যুতে চুপ করে থাকেন। তবে দেশবাসী একবার সত্যিটা জানলেই ভারত বদলে যাবে।
হিন্দি বলয়ের মূল কেন্দ্র উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচনের কয়েক মাস আগে দ্রব্যমূল্যবৃদ্ধি, বেকারি, গরিবি, অর্থনীতি চেয়ে বেশি করে উঠে আসছে দেশ বিভাজন, মহম্মদ আলি জিন্নাহ, চন্দ্রগুপ্ত, তালিবান, আলেকজান্ডাররা। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, এর উদ্দেশ্য ধর্মীয় মেরুকরণ ঘটিয়ে ভোটবাক্সে ফায়দা তোলা।
গত মাসে সমাজবাদী প্রধান অখিলেশ যাদব পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মহম্মদ আলি জিন্নাহকে (jinah) মহাত্মা গাঁধী, বল্লভভাই পটেল, জওহরলাল নেহরুর সঙ্গে একাসনে বসান। আবার সমাজবাদী পার্টির মিত্র সুহেলদেব ভারতীয় সমাজ পার্টির প্রধান ওম প্রকাশ রাজভর একদিন বলেন, জিন্নাহকে দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী করা হলে ভারত ভাগ হোত না। আরেকদিন দেশ বিভাজনের জন্য তিনি দায়ী করেন আরএসএসকে।
আদিত্যনাথ অখিলেশ, রাজভরকে আক্রমণ করে বলেন, যারা দেশভাগের কথা বলছে, তারা কার্যতঃ তালিবানকেই সমর্থন করছে। আপনারা দেখেছেন, তালিবান ফের আফগানিস্তান দখলের পর এদেশের কোনও কোনও মহলের সমর্থন পেয়েছে। কঠোর ব্যবস্থা নিলেই এরা চুপ করে যায়। তালিবানকে সমর্থন করা মানে তো মানবতাবিরোধী শক্তিকে সমর্থন, মহিলা, শিশুদের অপমান। তালিবানকে সমর্থন মানে এমন এক শক্তিকে সমর্থন যারা ভগবান বুদ্ধের শান্তি বাণীতে বিশ্বাস করে না। কিন্তু কিছু লোক সেই লক্ষ্যেই চলছে, যাদের ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।
বিরোধীদের হাতে ইস্যু নেই, ওরা জিন্নাহকে সমর্থন করে অপমান করছে সর্দার পটেলকে, বলেন তিনি।আদিত্যনাথের কটাক্ষ, সর্দার পটেল চিরকাল ভারতের রাষ্ট্রনায়কই থাকবেন, আর জিন্নাহ সবসময় খলনায়ক। ওরা জিন্নাহকে সমর্থন করে, আমরা সর্দার পটেলকে।