দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোভিড ১৯- এ মৃত রোগীর দেহ শেষকৃত্যের আগে এক ঘন্টার জন্য বাড়িতে নিয়ে যাওয়া যাবে, যাতে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে শেষ শ্রদ্ধাটুকু জানাতে পারেন। গুরুত্বপূর্ণ এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলেন কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন।
বহু ক্ষেত্রেই দেশের মধ্যে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে বামশাসিত রাজ্যটি। এই সিদ্ধান্ত সেই ধারাবাহিকতার পথ ধরেই।
বিজয়ন বলেন, কোভিড ১৯ এ মৃত লোকজনের পরিবারের লোকজন, আত্মীয়পরিজনেরা শেষ শ্রদ্ধা, সম্মান জানাতে পারেন না বলে মানসিক কষ্ট পান, মনে মনে গুমরে মরেন।
এখনও পর্যন্ত কোভিড ১৯ এ মৃতদের দেহ হাসপাতাল থেকে সোজা শ্মশানে বা কবরখানায় নিয়ে যাওয়া হয়। যদিও শেষকৃত্যের সময় কজন সেখানে উপস্থিত থাকতে পারেন, সে ব্যাপারে একেক রাজ্যের একেক নির্দেশ আছে। গত বছর সেপ্টেম্বরে কলকাতা হাইকোর্ট রায় দেয়, কোভিড মৃতদের দেহ যাবতীয় সুরক্ষা বিধি মেনে শেষকৃত্যের জন্য তাদের পরিবারের হাতে তুলে দিতে হবে। রাজ্য সরকারকেও বেশ কিছু গাইডলাইন দেয়। হাসপাতালের যাবতীয় প্রক্রিয়াবিধি পর্ব শেষে মৃতদেহ একটি বডি ব্যাগে পুরে ফেলতে হবে। ম়ৃতের মুখ কিছুটা ঢাকতে হবে যাতে তা স্বচ্ছভাবে দেখা যায়। সংক্রমণের বিন্দুমাত্র সম্ভাবনা যাতে না থাকে, সেজন্য ব্যাগটা স্যানিটাইজ করতে হবে। সে সময় ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ, পবিত্র গঙ্গাজল ছেটানো, শস্যদানা দেওয়া সবই চলবে, কেননা এজন্য মৃতদেহ স্পর্শ করার দরকার হয় না।
কিন্তু কোভিডে মৃতের দেহ থেকে কি ভাইরাস ছড়ায়? এ ব্যাপারে কেরল ডিস্ট্রিক্ট মেডিকেল অফিসার কে জে রিনার দাবি, সব প্রটোকল মেনে ঠিকমতো পোড়ানো বা কবর দেওয়া হলে কোভিড মৃতের দেহ থেকে সংক্রমণ ছড়ায় না। সার্স-কোভ-২ ছড়ায় কোনও সংক্রমিত লোক হাঁচি-কাশি দিলে তার মুখ বা নাক থেকে নির্গত ক্ষুদ্র ড্রপলেট থেকে। মৃতের দেহ থেকে বেরনো ফ্লুইড কোনওভাবেই কারও শরীরে লাগার সম্ভাবনা নেই যদি দূর থেকে তা দর্শন করা হয়। গত বছর সেপ্টেম্বর ভোপালের এইমস একটি গবেষণা চালায় যাতে প্রাথমিক ভাবে দেখা গিয়েছে, মৃতদেহ থেকে সংক্রমণ ছড়ায় না।