
ছিনতাইবাজদের খপ্পরে তৃণমুল কাউন্সিলরের স্বামীও! গ্রাফিক্স
শেষ আপডেট: 16 August 2024 18:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: মাঝ রাস্তায় ছিনতাইকারীর খপ্পরে পড়লেন তৃণমূল কাউন্সিলরের স্বামী। আসানসোল পুরনিগমের ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার শিখা ঘটক। স্বাধীনতা দিবসের সন্ধেয় তাঁর স্বামী গণেশ ঘটকের সঙ্গে এই ঘটনা ঘটে।
আসানসোলের হটন রোডের অচলাবালা লেনে এক মিনিটের দূরত্বেই রয়েছে কাউন্সিলার শিখা ঘটকের বাড়ি। বৃহস্পতিবার সন্ধে সাড়ে ৭টা নাগাদ সেই বাড়িতেই ফিরছিলেন শিখাদেবীর স্বামী গণেশবাবু। তিনি পেশায় একজন আইনজীবী। সেই সময়ে এক ছিনতাইকারী তাঁকে ঘিরে ধরে। অস্ত্র বের করে ভয় দেখিয়ে জানতে চায়, তাঁর কাছে কী আছে? গণেশবাবুর কাছে তেমন কিছু ছিল না। ছিনতাই করার মতো কিছু না পেয়ে ছিনতাইকারী তাঁর উপর হামলা চালায়। এতে গুরুতর জখম হন গণেশ ঘটক। ছিনতাইকারী সেখান থেকে চলে গেলে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় কোনমতে বাড়িতে ফেরেন। স্ত্রীকে সব ঘটনা জানানোর পরে খবর দেওয়া হয় আসানসোল দক্ষিণ থানায়। এদিকে জখম গণেশবাবুকে আসানসোল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
এই ঘটনার ঠিক ১০-১৫মিনিট পরে মাস্টারপাড়ায় এক ছিনতাইকারীর খপ্পরে পড়েন আসানসোলের ইসমাইলের বিআরএমবি রোডের এক বাসিন্দা মুকুল চট্টোপাধ্যায়। তিনিও বাড়ি থেকে বেরিয়ে হটন রোডে দিয়ে হেঁটে স্বামীর ওষুধের দোকানে আসছিলেন। সেই সময় এক ছিনতাইকারী তাঁকে প্রথমে ধাক্কা মারে। তাতে তিনি কিছুটা বেসামাল হয়ে গেলে, ছিনতাইকারী তার হাতে থাকা মোবাইল ফোন ও হ্যান্ড ব্যাগ ছিনিয়ে পালায়। মুকুলদেবীর ব্যাগে ২১ হাজার টাকা ও বাড়ির চাবি ছিল। এই ঘটনারও খবরও আসানসোল দক্ষিণ থানায় জানানো হয়।
পর পর দুটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে যাওয়ায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এলাকায় তদন্ত করতে আসেন পুলিশ। প্রথমে তারা তৃণমূল কাউন্সিলরের বাড়িতে যায়। তাঁরা মুকুলদেবীর বাড়িতে গিয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করে। তবে ছিনতাইকারীকে নাগালে তারা পায়নি।
এলাকাবাসীদের অভিযোগ, এই ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের সুমথপল্লিতে গত তিন সপ্তাহে চারটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। সবক্ষেত্রে মোটরবাইক সওয়ার দৃষ্কৃতীরা পথচলতি মহিলাদেরকে টার্গেট করে। সুযোগ পেয়ে মোবাইল ফোন ও ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে পালায় দৃষ্কৃতীরা। গত ২২ জুলাই সকালে প্রথম ছিনতাইয়ের ঘটনাটি ঘটেছিল। তারপর থেকেই ওই রাস্তায় দুষ্কৃতী দৌরাত্ম্য বেড়েছিল। পুলিশের ভূমিকায় তাঁরা ক্ষুব্ধ।
স্বামীর সঙ্গে ঘটে যাওয়া ছিনতাইয়ের ঘটনা প্রসঙ্গে কাউন্সিলার শিখা ঘটক বলেন, "ভাবতেই পারছি না, যে বাড়ির এতো কাছে এই ঘটনা ঘটেছে। আসানসোল দক্ষিণ থানার ইন্সপেক্টর ইনচার্জকে সবকিছু বলেছি।"
মেয়র বলেন, "ঘটনার কথা শুনেছি। পুলিশকে তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলেছি।" আসানসোল দক্ষিণ থানায় দুটি ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত শুরু করা হয়েছে। এলাকায় নজরদারি করা হচ্ছে।