দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরিয়ান খানের প্রমোদতরী মাদক মামলায় তোলাবাজির অভিযোগে বিভাগীয় ভিজিল্যান্স তদন্তের ব্যাপারে নার্কোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরোর (এনসিবি) মুম্বইয়ের জোনাল ডিরেক্টর সমীর ওয়াংখেড়ের (sameer wangkhede) বক্তব্য রেকর্ড করা শুরু করল কেন্দ্রীয় এজেন্সির ৫ সদস্যের টিম। তারা আজ সকালে মুম্বই পৌঁছয়। প্রসঙ্গত, তোলাবাজির দায়ে অভিযুক্ত খোদ ওয়াংখেড়েই।
ক্রুজ মাদক মামলার সাক্ষী প্রভাকর সইলের বিস্ফোরক দাবি, শাহরুখ খান পুত্র আরিয়ান খানকে (aryan khan) ছেড়ে দিতে ওয়াংখেড়ে সহ এজেন্সির কিছু লোকজন ২৫ কোটি টাকা তোলা (extortion) চেয়েছেন। একথা প্রকাশ্যে আসতেই তার সত্যতা খতিয়ে দেখতে ভিজিল্যান্স তদন্তের (vigilance probe) নির্দেশ দেয় এনসিবি (ncb)।
তদন্ত এজেন্সির ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল –নর্দার্ন রিজিয়ন জ্ঞানেশ্বর সিং টিমের মাথায় আছেন। তিনি জানিয়েছেন, টিমের লোকজন দক্ষিণ মুম্বইয়ের ব্যালার্ড এস্টেটে এনসিবি দপ্তর থেকে কিছু নথিপত্র, রেকর্ডিং সংগ্রহ করেছে। তদন্তে সব সাক্ষীকেই বক্তব্য নথিভুক্ত করার জন্য ডেকে পাঠানো হবে। সিং বলেন, কোনও ব্যক্তিবিশেষের নাম করব না। পরে বলেন, ওয়াংখেড়ের বিবৃতি নথিভুক্ত করা হচ্ছে। এটা সংবেদনশীল তদন্ত বলে এই সংক্রান্ত তাজা তথ্য শেয়ার করা সম্ভব নয়। আমরা যাবতীয় বিস্তারিত তথ্য জানাতে পারব না। তদন্ত শুরু করেছি, সাক্ষীদের বক্তব্য রেকর্ড করার জন্য ডাকছি। অবশ্যই তদন্তের ব্যাপারে ওয়াংখেড়ে ও অন্যদের সঙ্গে কথা বলব আমরা।
ক্রুজ মাদক মামলার তদন্ত কি ওয়াংখেড়েই তাহলে চালিয়ে যাবেন? সরাসরি তিনি ওই মামলায় যুক্ত নন বলে জানিয়ে তদন্ত সংক্রান্ত কোনও মন্তব্য করবেন না, বলেন সিং।
ওয়াংখেড়ে মঙ্গলবারই দিল্লিতে এনসিবি সদর দপ্তরে এসে দুঘন্টার বেশি সময় কাটান। সূত্র মারফত জানা গিয়েছিল, আরিয়ান মামলায় কে পি গোসাভি নামে এনসিবির আরেক নিরপেক্ষ সাক্ষীর ব্যাপারেও তদন্ত হবে। ক্রুজে তল্লাসির পর আরিয়ানের সঙ্গে গোসাভির ছবি সোস্যাল মিডিয়া ও সংবাদ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ৩ অক্টোবর মুম্বইয়ের প্রমোদ তরী থেকে ধৃত সকলের হেফাজতের ব্যাপারে গোয়েন্দারা কী পদ্ধতি অনুসরণ করেছিলেন, তা নিয়েও তদন্ত হবে।
মামলার সব অফিসার ও সাক্ষীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হবে। তাঁরা তল্লাসি চলাকালে এনসিবি ম্যানুয়াল, এনডিপিএস আইনে উল্লিখিত পদ্ধতি মেনেছিলেন কিনা, খতিয়ে দেখা হবে সেটাও।
ওয়াংখেড়ে রবিবারই মুম্বইয়ের পুলিশ কমিশনার হেমন্ত নাগরালেকে চিঠি দিয়ে জানান, তাঁকে মিথ্যা ফাঁসাতে অজ্ঞাতপরিচয় লোকজন আইনি পদক্ষেপের ছক কষছে। তা থেকে তাঁকে সুরক্ষা দেওয়া হোক। যদিও সোমবার তিনি সইলের তোলাবাজির দাবি সংক্রান্ত হলফনামায় রেহাই পাননি। বিশেষ আদালত জানিয়ে দেয়, ওই হলফনামা গ্রাহ্য করা থেকে আদালতকে বিরত রাখার একতরফা আদেশ দিতে পারবে না।