দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেরলের লক্ষ লক্ষ মানুষ বিদেশে থাকেন। বিশেষত পশ্চিম এশিয়া তথা আরব দেশগুলিতে। বহুকাল ধরেই ঈশ্বরের আপন দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড এই বিদেশে কর্মরতরা। কিন্তু মহামারীর বছরে ভয়ঙ্কর সংকট তৈরি হয়েছে। এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার তথ্য বলছে ২০২০ সালের মে থেকে এ বছর ১৮ জুন পর্যন্ত কেরলে ফিরেছেন প্রায় ১৫ লক্ষ মানুষ। যাঁদের মধ্যে কাজ হারিয়েছেন কম-বেশি সাড়ে দশ লক্ষ।
প্রশাসনের অনেকের মতে, সরকারি ভাবে কেরলের তথ্য পাওয়া গেলেও এটা শুধু একটি রাজ্যের বিক্ষিপ্ত ছবি ভাবলে ভুল হবে। বহু রাজ্যের ক্ষেত্রেই এটা রূঢ় বাস্তব। তামিলনাড়ু, কর্নাটক, তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, গুজরাত এমনকি পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে কেরলের মতো না হলেও বিদেশ থেকে কাজ হারিয়ে ফেরার সংখ্যাটা নেহাত কম নয়। সার্বিক পরিসংখ্যান না জানা গেলেও অনেকেই মনে করছেন, দেশের বহু রাজ্যেই এরকম অসংখ্য মানুষ কাজ হারিয়ে ভিন দেশ থেকে ফিরে এসেছেন। যা ভারতের ঘরোয়া অর্থনীতিতেও চিন্তার কারণ হতে পারে।
তিরুবনন্তপুরম, কান্নুর, কোচি এবং কোঝিকোড়- কেরলের চারটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং আন্তর্জাতিক এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের পরিসংখ্যান বলছে গত এক বছরে প্রায় ২৭ লক্ষ আন্তর্জাতিক যাত্রী বিভিন্ন দেশ থেকে কেরলে ফিরে এসেছেন। যা দক্ষিণের বাম শাসিত রাজ্যটির অর্থনীতির ক্ষেত্রে উদ্বেগজনক বলেই মত অনেকের।
কাজ হারানো ছাড়া প্রায় তিন লক্ষ মানুষ কেরলে ফিরেছেন ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়া সহ অন্যান্য কারণে। নন-রেসিডেন্ট কেরালাইটস অ্যাফেয়ার্সের তথ্য বলছে বহু মানুষ তাঁদের পরিবার নিয়েই ভিন দেশে থাকতেন। গোটা পরিবার নিয়েই তাঁরা ফিরে এসেছেন রাজ্যে।
যাঁরা ফিরে এসেছেন তাঁদের ৯৬ শতাংশ এসেছেন চারটি দেশ থেকে। সেগুলি হল সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, সৌদি আরব, ওমান ও কাতার। অতীতে উপসাগরীয় যুদ্ধের সময়ে কাতারে কাতারে মানুষ আরব দেশগুলি থেকে ভারতে ফিরেছিলেন। সেই সময়ে জাতীয় অর্থনীতিও ধাক্কার মুখে পড়েছিল। কোভিড মহামারী যেন সেই স্মৃতিই উস্কে দিচ্ছে। তবে অনেকের মতে, এবার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। কারণ মহামারীর অভিঘাত অর্থনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে আশঙ্কা অনেকের।