
শেষ আপডেট: 8 December 2023 13:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: দূরত্ব মেরেকেটে ৮০০ মিটার। এই দূরত্ব অতিক্রম করে বর্ধমান থানা থেকে জেলা আদালতে চার্জশিট পৌঁছতে সময় লাগল দীর্ঘ ১২ বছর।
বিদ্যুৎ সংক্রান্ত বিশেষ আদালতে চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্ট পেশ না হওয়ায় বর্ধমান থানার আইসিকে সশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলেছিলেন বিচারক। কিন্তু, পুলিশ লাইনে স্পোর্টস ও হোমগার্ডদের একটি অনুষ্ঠানে ব্যস্ত থাকার কারণে বৃহস্পতিবার আইসি সশরীরে আদালতে হাজির হতে পারেননি। তিনি কেস ডায়েরি ও চার্জশিট-সহ থানার এক সাব-ইন্সপেক্টরকে আদালতে পাঠিয়েছিলেন। যদিও বিচারক ওই সাব-ইন্সপেক্টরের বক্তব্যকে আমল দিতে চাননি। আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যাখ্যা দিতে আইসিকে ফের সশরীরে হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশ দেন বিচারক। চার্জশিটও ফিরিয়ে দিয়েছেন বিশেষ আদালতের বিচারক আনন চট্টোপাধ্যায়।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি খোসবাগান এলাকায় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হানা দিয়ে বিদ্যুৎ চুরি হাতে-নাতে ধরেন দফতরের আধিকারিকরা। বিদ্যুৎ দফতরের তরফে ইলেকট্রিসিটি অ্যাক্টে মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনায় অভিযুক্ত পার্থ কোনার ওই বছরেরই ৩ মার্চ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান। অপর এক অভিযুক্ত আদালতে হাজির হয়নি। তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। নিয়ম অনুযায়ী এ ধরণের মামলায় ৯০ দিনের মধ্যে চার্জশিট পেশ হওয়ার কথা। চার্জশিট পেশ না হওয়ায় মামলাটি অযথা ঝুলে রয়েছে। হয়রানির শিকার হচ্ছেন অভিযুক্ত।
অভিযুক্তের আইনজীবী হরদীপ সিং অহলুওয়ালিয়া বলেন, “নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চার্জশিট জমা না পড়ায় অভিযুক্তকে মামলা থেকে খালাসের আবেদন জানিয়েছিলাম। এ ব্যাপারে আইসির বক্তব্য জানতে চেয়েছিল আদালত। পুলিশ আদালতে চার্জশিট জমা করতে আসে। কিন্তু চার্জশিটের বিষয়ে বিচারকের কিছু জানার ছিল। তাই বিচারক আইসিকে সশরীরে হাজির হয়ে এ ব্যাপারে ব্যাখ্যা দিতে বলেছেন। ঘটনাটি ২০১১ সালের। চার্জশিট পেশে কেন এই বিলম্ব তা পুলিশই বলতে পারবে।” সরকারি আইনজীবী জ্যোতিপতি কোনার বলেন, “২০১১ সালেই তদন্তকারী অফিসার চার্জশিট তৈরি করেন। কিন্তু তা আদালতে পেশ হয়নি। কেন পেশ হয়নি তা জানতে চেয়েছিলেন বিচারক। এর আগে চার্জশিট তৈরি হয়নি বলে আইসি আদালতে জানান। অথচ ২০১১ সালের চার্জশিট আদালতে পেশ করার জন্য আনা হয়। এ বিষয়ে আইসির ব্যাখ্যা চেয়েছেন বিচারক।”