
শেষ আপডেট: 27 March 2024 19:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: দোল উৎসবকে আঁকড়েই সোমবার থেকে পূর্বস্থলীর দোগাছিয়াতে শুরু হল বড় মিষ্টির মেলা। হরেক রকম মিষ্টি তো আছেই, সঙ্গে দেড় হাজার টাকা দামের পেল্লাই মিষ্টির স্বাদ নিতে উপচে পড়ল মানুষের ভিড়। জমজমাট দোগাছিয়ার বড় মিষ্টির মেলা।
ধর্মীয় উৎসবে দেবতাকে মিষ্টান্ন নিবেদনের রেওয়াজ রয়েছে হিন্দুদের মধ্যে। একে শুভ প্রতীক হিসাবে মানা হয়। পাঁচশ বছরের পুরনো রীতি মেনে পূর্বস্থলী ১ নম্বর ব্লকের দোগাছিয়ায় দোল উৎসব প্রাঙ্গণে দোল পূর্ণিমার দিন শুরু হয়েছে এই মিষ্টিমেলা। চলবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। বহু ব্যবসায়ী মেলা প্রাঙ্গণে মিষ্টির দোকান খুলে বসেছেন। সেইসব মিষ্টির দোকানে নজর কাড়ছে ৫ টাকা থেকে শুরু করে ১০০ ও ১৫০০ টাকা দামের এক একটি পেল্লাই মিষ্টি। দূর-দূরান্তের মানুষ আসছেন মিষ্টি খেতে। বাড়ির লোককে চমক দিতে অনেকেই পেল্লাই মিষ্টি কিনে নিয়ে বাড়ি যাচ্ছেন। সন্দেশ, বরফি, রসগোল্লা তো বটেই, রয়েছে নানা ধরণেরর ফিউশন মিষ্টিও। যে মিষ্টি নিয়ে সব থেকে বেশি আকর্ষণীয়, তা হল এক হাজার ও দেড় হাজার টাকা দামের পেল্লাই মিষ্টি।
ভাস্কর ঘোষ নামে এক মিষ্টান্ন বিক্রেতা জানালেন, তাঁরা প্রতি পিস দেড় হাজার টাকার যে মিষ্টি তৈরি করেছেন, তাতে শুধু ছানাই লেগেছে চার কেজি। এছাড়াও অন্য উপকরণ তো আছেই। মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী বাসুদেব ঘোষ জানান, এক হাজার টাকা দামের এক একটি মিষ্টি তৈরির জন্যে আড়াই কেজি ছানা ব্যবহার করেছেন। সঙ্গে লাগছে ময়দা, অ্যারারুট, সুজি ও চিনি।
মিষ্টি তৈরি হয়ে যাওয়ার পর কোনটি চিনির রসে, আবার কোনওটি গুড়ের রসে ডুবিয়ে রাখা হচ্ছে। এমন এক একটি মিষ্টির ওজন প্রায় সাত-আট কেজি। এই মিষ্টি তৈরিতে সব মিলিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লাগে বলে বাসুদেববাবু জানিয়েছেন। তিনি বলেন, "দাম বেশি হলেও আগে থেকে অর্ডার দিয়ে ভিন জেলার বাসিন্দারাও মেলায় এসে এই মিষ্টি বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন।" দোলের রঙের সঙ্গে মিলেমিশে যাচ্ছে মিষ্টির স্বাদ।