
শেষ আপডেট: 18 February 2024 20:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: আধার কার্ড বাতিল হওয়ার ঘটনায় শঙ্কিত মতুয়াদের একাংশ। এই ঘটনায় সিঁদুরে মেঘ দেখছেন তাঁরা। রবিবার বর্ধমানে অল ইণ্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘের একটি সাংবাদিক বৈঠকে এ কথা জানানো হয়েছে।
জেলা সভাপতি সুপ্রভাত গায়েন জানিয়েছেন, ২০১৯ সালের পরে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে হঠাৎ আধার কার্ড বাতিল হতে শুরু করেছে। আধার কার্ড না থাকলে বিরাট অসুবিধার মধ্যে পড়তে হবে। বাংলাদেশ থেকে আসা উদ্বাস্তু মানুষদের শান্তি কেড়ে নিতে এই কাজ করা হচ্ছে বলেই তাঁর দাবি। তিনি জানান, মতুয়াদের বেশিরভাগ শান্তনু ঠাকুরকে দেখে বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন। কিন্তু কেন্দ্রে মন্ত্রী হওয়ার পরে মতুয়াদের আর পাত্তা দিচ্ছেন না। এতে তাঁরা ক্ষুব্ধ। একই সঙ্গে তাঁরা এও জানিয়েছেন যে, দেশে সবচেয়ে বেশি সিএএ বিরোধী মমতা বন্দোপাধ্যায়। তাই তারা মনে করছেন তিনি মতুয়াদের পক্ষে আছেন।
আধার কার্ড নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে জানিয়ে গত কয়েকদিন ধরে ডাকযোগে এমন চিঠি পেয়েছেন পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর ব্লকের বহু বাসিন্দা। জামালপুর ব্লকের জৌগ্রাম, আবুজহাটি এলাকায় প্রায় ৬০ জনের কাছে ডাকযোগে 'ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (ইউআইডিএআই) এর রাঁচির আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে এই চিঠি পাঠানো হয়েছে।
এই ব্লকের আবুজহাটি ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের জুহিহাটি গ্রামের প্রায় ৫০ জন এমন চিঠি পেয়েছেন। জৌগ্রামের অনেকের কাছেও এই চিঠি এসেছে। প্রিয়া সরকার, পুতুল সরকার, বিপুল বিশ্বাস, লিপিকা বিশ্বাস সহ কয়েকজনের কথায়, "এর জেরে রেশন, ব্যাঙ্কের লেনদেন সহ আধার নির্ভর কাজ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ব্লক প্রশাসনের কাছে এই বিষয়ে কেউ কোনও তথ্য চায়নি। তবে কেন এমনটা হয়েছে কেউই বুঝে উঠতে পারছি না।"
আধার নিষ্ক্রিয় হওয়ার ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসনের কাছেও খবর এসেছে। কেন এমন হল তা নিয়ে কার্যত অন্ধকারে তাঁরাও। জামালপুর ব্লকের বিডিও পার্থসারথি দে বলেন, "ঘটনাটি জানার পর এবিষয়ে খোঁজ খবর নিয়েছিল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও তথ্য হাতে পায়নি।"
পার্থসারথিবাবু জানিয়েছেন, আধারের টোল ফ্রি নম্বরেও( ১৯৪৭) ফোন করে এবিষয়ে তিনি জানার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ওই নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন নি। তবে তার ধারণা এই আধার নিক্রিয়ের সঙ্গে সিএএর কোন যোগ নেই।
রাজ্য তৃণমূলের মুখপাত্র প্রসেনজিৎ দাস বলেন, "কেন্দ্রীয় সরকার আধার কার্ড নিয়ে ছেলেখেলা করছে। ন তুঘলকি নিয়ম চলছে। একবার বলা হচ্ছে, আধারই হল নাগরিকদের একমাত্র পরিচয়পত্র। আবার কখনও বলা হচ্ছে আধার না হলেও চলবে। আসলে সাধারণ মানুষ হয়রানি হচ্ছেন।"
জেলা বিজেপির যুবমোর্চার সাধারণ সম্পাদক দেবজ্যোতি সিংহরায় বলেন, "হয়ত তাদের কাগজপত্রে কিছু ভুল থাকতে পারে। তারজন্য আধার নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।"