আলুর দারুণ ক্ষতির আশঙ্কায় স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে ফসল বাঁচাতে সন্ধের পর থেকে জমি পাহারা দিচ্ছিলেন কুড়চিডাঙা গ্রামের বছর চল্লিশের বাসিন্দা রামপদ হেমব্রম।

শেষ আপডেট: 13 December 2025 14:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো, বাঁকুড়া: ফসল বাঁচাতে গিয়ে হাতির হানায় প্রাণ গেল কৃষকের। পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবিতে সরব এলাকার মানুষ। শুক্রবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে বিষ্ণুপুরের কুড়চিডাঙা এলাকায়। মৃত কৃষকের নাম রামপদ হেমব্রম।
প্রতি বছরের মতো চলতি বছরও অগস্ট মাসে খাবারের খোঁজে পশ্চিম মেদিনীপুরের সীমানা পেরিয়ে দফায় দফায় বাঁকুড়ায় ঢোকে হাতির দল। বন দফতরের খবর, প্রায় ৬৩ টি হাতি ঢুকে পড়েছিল বাঁকুড়ায়। বিষ্ণুপুর, সোনামুখী ও বেলিয়াতোড়ের জঙ্গল পেরিয়ে হাতির দল সটান হাজির হয় বড়জোড়ার পাবয়ার জঙ্গলে। সেখানে প্রায় ৪ মাস কাটিয়ে দিন দুই আগে হাতির দল ফিরতে শুরু করে পশ্চিম মেদিনীপুরের দিকে।
ফেরার পথে বৃহস্পতিবার রাতে ২৩ থেকে ২৫ টি হাতি সোনামুখীর জঙ্গল পেরিয়ে হাতির দলটি ঢুকে পড়ে রাধানগর রেঞ্জের প্রকাশ ও উলিয়াড়া গ্রাম লাগোয়া বিস্তীর্ণ আলুর জমিতে। বিঘের পর বিঘে আলুর জমিতে রাতভর তাণ্ডব চালায় হাতির দলটি। আর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পোখরাজ আলু জমি থেকে তুলতেন এলাকার চাষিরা। তার ঠিক আগে এমন ঘটনায় মাথায় হাত চাষিদের।
শুক্রবার রাতে প্রায় ২৩ টি হাতির একটি দল দ্বারকেশ্বর নদ পেরিয়ে বিষ্ণুপুরের দিকে যাচ্ছিল। হাতির দলের মুখে জমিতে থাকা আলুর দারুণ ক্ষতির আশঙ্কায় স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে ফসল বাঁচাতে সন্ধের পর থেকে জমি পাহারা দিচ্ছিলেন কুড়চিডাঙা গ্রামের বছর চল্লিশের বাসিন্দা রামপদ হেমব্রম। আলুর জমিতে হাতির দল নেমে পড়লে অন্যান্যদের সঙ্গে তিনিও হাতির পালকে খেদানোর চেষ্টা করছিলেন। সেই সময় আচমকাই একটি হাতির সামনে পড়ে যান তিনি। হাতিটি তাঁকে শুঁড়ে করে তুলে মাটিতে আছড়ে পায়ে করে পিষে দিলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
পরে বন দফতর ও পুলিশ তাঁর দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বিষ্ণুপুর জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। রামপদর এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। মৃতের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয় মানুষজন।