বৃহস্পতিবার সল্টলেকের দলীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব এবং রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের (Samik Bhattacharya) উপস্থিতিতে পদ্মশিবিরে (BJP) নাম লেখালেন শ্রম দফতরের প্রাক্তন এই শীর্ষ পদাধিকারী।
.jpeg.webp)
বিজেপিতে যোগ দিলেন বঙ্কিমচন্দ্রের পরিবারের সদস্য
শেষ আপডেট: 26 February 2026 14:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাঙালির জাতীয়তাবাদী আবেগের সলতে পাকিয়েছিলেন যিনি, সেই বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের (Bankim Chandra Chattopadhyay) পরিবারের সদস্য সুমিত্র চট্টোপাধ্যায় (Sumitra Chatterjee BJP) এ বার সরাসরি সক্রিয় রাজনীতিতে নামলেন। বৃহস্পতিবার সল্টলেকের দলীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব এবং রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের (Samik Bhattacharya) উপস্থিতিতে পদ্মশিবিরে (BJP) নাম লেখালেন শ্রম দফতরের প্রাক্তন এই শীর্ষ পদাধিকারী। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার সঙ্গে পারিবারিক ঐতিহ্যের এই মিশেলকে রাজ্যের শাসক দলের বিরুদ্ধে মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ে বড় অস্ত্র হিসেবেই দেখছে বিজেপি।
নিশানায় সরকারের কর্মসংস্থান নীতি
রাজনীতির আঙিনায় পা দিয়েই রাজ্যের কর্মসংস্থান পরিস্থিতি নিয়ে সরব হয়েছেন সুমিত্রবাবু। দীর্ঘকাল শ্রম দফতরে কাজ করার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই প্রাক্তনী সরাসরি আঙুল তুলেছেন বর্তমান সরকারের ‘এমপ্লয়মেন্ট ব্যাঙ্ক’ নীতির দিকে। তাঁর অভিযোগ, ক্ষমতায় আসার পর প্রশাসনিক নির্দেশে পুরনো ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’-এর লক্ষ লক্ষ যুবকের তথ্য মুছে দিয়ে নতুন যে ব্যবস্থা করা হয়েছিল, তা কর্মসংস্থানের চেয়ে প্রচারেই বেশি ব্যস্ত।
সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের কথায়, “প্রায় ৪০ লক্ষ যুবক নাম নথিভুক্ত করলেও প্রকৃত সুরাহা মেলেনি। ‘যুবশ্রী’ প্রকল্প বন্ধ করে এখন ‘যুব সাথী’র নামে দৈনিক মাত্র ৫০ টাকা ভাতা দেওয়া হচ্ছে, যা বেকার যুবকদের সঙ্গে প্রহসন ছাড়া আর কিছু নয়।”
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, একজন প্রাক্তন সরকারি আধিকারিক যখন তথ্য-সহ এই অভিযোগ তোলেন, তখন তা রাজনৈতিক ভাষ্যের বাইরে গিয়ে প্রশাসনিক ব্যর্থতার দলিল হিসেবেই গুরুত্ব পায়।
‘বন্দে মাতরম’ ও জাতীয়তাবাদের তাস
সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে দলে স্বাগত জানাতে গিয়ে কেন্দ্রীয় পরিবেশ ও বন মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব সুকৌশলে বঙ্কিম-স্মৃতি উসকে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “বঙ্কিমচন্দ্রের ‘বন্দে মাতরম’ গানটি এ দেশের জাতীয়তাবাদ ও দেশপ্রেমের মেরুদণ্ড। তাঁর পরিবারের সদস্যকে দলে পাওয়া গর্বের।” বিজেপির লক্ষ্য যে কেবল ভোটব্যাঙ্ক নয়, বরং বাঙালির সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিসরে থাবা বসানো, ভূপেন্দ্রের বক্তব্যে তা স্পষ্ট। তাঁর আশা, বঙ্কিমচন্দ্রের আদর্শই আগামী দিনে ‘উন্নত বাংলা’ গঠনের মূল রসদ হবে।
রাজনৈতিক সমীকরণ
বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এই যোগদানকে ‘ইতিবাচক পরিবর্তন’-এর ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। ইদানীং রাজ্যের একাধিক অবসরপ্রাপ্ত আমলা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের গেরুয়া শিবিরে আসার হিড়িক পড়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তিদের সামনে এনে বিজেপি ভোটারদের এই বার্তাই দিতে চাইছে যে, তাঁরা কেবল আবেগ নয়, বরং যোগ্য প্রশাসনিক বিকল্প হিসেবেও প্রস্তুত।