
শেষ আপডেট: 30 August 2023 10:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অনলাইন জালিয়াতি এই মুহূর্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এক সমস্যা। সাধারণ মানুষ থেকে সেলিব্রিটি, অনলাইন জালিয়াতির ফাঁদে কে যে কখন পড়বে তা বলা কঠিন। হ্যাকিংয়ের যুগে নিরাপদ নয় ব্যাঙ্ক, পোস্টঅফিসের মতো সেই ভরসাযোগ্য সংস্থাগুলিও। ফলে ব্যাঙ্ক (bank fraud) থেকে পাওয়া মেসেজ সবসময়ে ভরসা করা যায় এই বিশ্বাসও আর রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে ক্রমশ। ঠিক যেমন এবার দিল্লির এক গয়নাবিক্রেতা (delhi jewelry shop) পড়লেন অনলাইন জালিয়াতির (fake message) কবলে।
তবে সেই মেসেজ যে জালিয়াতের মেসেজ তা ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারেননি ওই গয়না বিক্রেতা। যে টাকা ঢোকার মেসেজ আসে তাঁর ফোনে সেই অঙ্কটাও বেশ মোটা, প্রায় ২ লক্ষ টাকা ঢুকেছে তাঁর ফোনে, লেখা ছিল সেই মেসেজে। স্বাভাবিক ভাবেই ওই গয়না বিক্রেতা ভাবেন যে তাঁর অর্ডারের টাকাই ঢুকেছে। এরপরই প্রায় ৩ লক্ষ টাকা মুল্যের একটি মোটা সোনার চেন তিনি পাঠিয়ে দেন জালিয়াতের ঠিকানায়। এরপরই ব্যাঙ্কে গিয়ে তাঁর ছেলে দেখেন যে কোনও টাকাই ঢোকেনি ওই গয়না বিক্রেতার অ্যাকাউন্টে। তখনই তিনি বোঝেন যে জালিয়াতের ফাঁদে পড়েছেন। এরপরই পুলিশের দ্বারস্থ হন ওই গয়না বিক্রেতা।
ঠিক কী ঘটেছিল?
কিশোর খান্ডেলওয়াল নামে এই গয়নাবিক্রেতা দিল্লির চাঁদনী চক এলাকায় একটি সোনা-রূপোর গয়নার দোকান চালান। তাঁর অনুপস্থিতিতে সেই দোকান দেখাশোনা করেন তাঁর ছেলে মায়াঙ্ক। অগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে একটি পারিবারিক পুজার কারণে দোকানে উপস্থিত ছিলেন না কিশোর। বদলে দোকান সামলাচ্ছিলেন মায়াঙ্ক। তখনই দোকানে মায়াঙ্কের কাছে একটি ফোন আসে। এক জালিয়াত খদ্দের সেজে ফোন করে দোকানে এবং ১৫ গ্রাম ওজনের একটি সোনার গয়নার অর্ডার দেয়।
ওই জালিয়াত জানায় যে সে দোকানে উপস্থিত হতে পারবে না। বদলে মালিক কিশোর খান্ডেলওয়ালের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য চায় সেই জালিয়াত। জানায় টাকা সরাসরি পাঠিয়ে দেওয়া হবে অ্যাকাউন্টে। সরল বিশ্বাসে বাবার অ্যাকাউন্টের তথ্য জানিয়ে দেন ছেলে। এরপর ১ লক্ষ ৯৫ হাজার ৪০০ টাকা ঢুকেছে এই মর্মে এসএমএস আসে কিশোর খাণ্ডেলওয়ালের ফোনে। সেই চেন পাঠানোও হয় নির্দিষ্ট ঠিকানায়।
এরপরই সন্দেহ হতে ফোনে আসা সেই এসএমএস পরীক্ষা করে তাঁরা বুঝতে পারেন যে ব্যাঙ্ক থেকে যে মেসেজ আসে তার থেকে এই মেসেজ পাঠানোর কায়দা আলাদা। ব্যাঙ্কে গিয়ে এই মেসেজ দেখানো হলে তাঁদের জানানো হয় যে এই ধরনের মেসেজ আদৌ ব্যাঙ্ক থেকে যায়নি এবং এই ধরনের জালিয়াতির সঙ্গে ব্যাঙ্কের কোনও সম্পর্ক নেই। আপাতত পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন কিশোর এবং তাঁর ছেলে মায়াঙ্ক। প্রসঙ্গত, সাধারণত বয়স্কদেরই জালিয়াতরা বেছে নেয় এই ধরনের জালিয়াতির জন্য। এক্ষেত্রেও দেখা গেল প্রায় একই ঘটনা।
কল্যাণীতে বাড়ি ভাড়া নিয়ে রানাঘাটে রেইকি করেছিল ডাকাতরা, মালিককে আটক করল পুলিশ