বাংলাদেশে হামের সংক্রমণ বেড়ে সক্রিয় রোগী ২ হাজার ছাড়িয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।পশ্চিমবঙ্গ-সহ সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 7 April 2026 17:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশে (Bangladesh) হামের (Measles) প্রাদুর্ভাব ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে। ১৫ মার্চ থেকে এখনও পর্যন্ত ১১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর, যাদের বেশিরভাগই শিশু (Children)। ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ হেলথ সার্ভিসেস (Directorate General of Health Services বা DGHS) জানিয়েছে, দেশে এখন ২০০৬ জন সন্দেহভাজন রোগী (Suspected Patients) বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই তথ্য সামনে আসার পরই উদ্বেগ বাড়ছে পশ্চিমবঙ্গে। বাংলাদেশ-সংলগ্ন এলাকাগুলিতে যেকোনও মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়তে পারে এই রোগ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাকরণ (Vaccination) কর্মসূচিতে ধাক্কা লাগার ফলেই এই পরিস্থিতি। প্রাক্তন ডিজিজ কন্ট্রোল ডিরেক্টর (Disease Control Director) বেনজির আহমেদ (Benazir Ahmed) জানিয়েছেন, মহম্মদ ইউনুসের (Muhammad Yunus) নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের (Interim Government) সময়ে ভ্যাকসিন সংক্রান্ত প্রকল্প বন্ধ হওয়ায় সংকট তৈরি হয়। ফলে হামের টিকা (Measles Vaccine) নিয়ে ঘাটতি দেখা দিয়েছিল।
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ (Contagious Viral Disease), যা শুধু র্যাশ (Rash) নয়, নিউমোনিয়া (Pneumonia) বা মস্তিষ্কে প্রদাহর (Brain Inflammation) মতো গুরুতর জটিলতাও তৈরি করতে পারে। সিডিসি (Centres for Disease Control and Prevention বা CDC) সতর্ক করে জানিয়েছে, টিকাহীন বা আংশিক টিকাপ্রাপ্ত (Unvaccinated/Under-vaccinated) মানুষের মধ্যে এই রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং সীমান্ত (Borders) পেরিয়েও সংক্রমণ ঘটাতে পারে।
তাহলে কি ভারতের (India) সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলি সত্যিই ঝুঁকিতে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, আপাতত আতঙ্কের কারণ নেই। ২০২৪-২৫ সালের এইচএমআইএস (HMIS) তথ্য অনুযায়ী, ভারতে এমআর টিকাকরণের (MR Vaccination) কভারেজ প্রথম ডোজে ৯৩.৭ শতাংশ এবং দ্বিতীয় ডোজে ৯২.২ শতাংশ। ২০২৪ সালে দেশে হামের সংক্রমণ ৭৩ শতাংশ কমেছে।
পদ্মশ্রী (Padma Shri) প্রাপক শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ (Paediatrician) ডাঃ সঞ্জীব বাগাই (Dr Sanjeev Bagai) জানিয়েছেন, ইউনিভার্সাল ইমিউনাইজেশন প্রোগ্রাম (Universal Immunisation Programme)-এর ফলে ভারতে একটি ‘হার্ড ইমিউনিটি’ (Herd Immunity) তৈরি হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, বিমান যাত্রা (Air Travel) ও অভিবাসনের (Migration) কারণে ঝুঁকি পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
কীভাবে সতর্ক হবেন?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিরোধের মূল হাতিয়ার এমএমআর ভ্যাকসিন (MMR Vaccine), যা দু’ডোজে ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত সুরক্ষা দেয়। শিশুদের ১২-১৫ মাসে প্রথম ডোজ এবং ৪-৬ বছরে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া জরুরি।
পাশাপাশি নিয়মিত হাত ধোওয়া (Hand Hygiene), ভিড় এড়ানো (Avoid Crowded Places), মাস্ক (Mask) ব্যবহার এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
বার্তা একটাই, সতর্কতা (Vigilance) বজায় থাকলে বিপদ এড়ানো সম্ভব কিন্তু ঢিলেমি মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে।