বিদেশ মন্ত্রীর লিখিত বক্তব্যে বলা হয়েছে ভারত সরকার বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ—যেমন তাদের বাড়িঘর, সম্পত্তি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং উপাসনালয়ের ওপর হামলার ঘটনাগুলির প্রতি নিরন্তর নজর রেখেছে।
.jpeg.webp)
শেষ আপডেট: 13 March 2026 13:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশে ২০২৪ এর অগস্ট মাস থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত হিন্দু বৌদ্ধ সহ সংখ্যালঘুদের উপর হামলা নির্যাতনের ৩১০০ ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাজ্যসভায় এক প্রশ্নের লিখিত জবাব এ বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এই তথ্য পেশ করেছেন। এই প্রথম দিল্লির তরফে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের উপর নিপীড়ন নির্যাতনের ঘটনার একটি লিখিত পরিসংখ্যান পেশ করা হল।
বিদেশ মন্ত্রীর লিখিত বক্তব্যে বলা হয়েছে ভারত সরকার বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ—যেমন তাদের বাড়িঘর, সম্পত্তি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং উপাসনালয়ের ওপর হামলার ঘটনাগুলির প্রতি নিরন্তর নজর রেখেছে।
বিবৃতিতে মানবাধিকার সংস্থাগুলির প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বলা হয়েছে ২০২৪-এর অগস্ট থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশজুড়ে হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে প্রায় ৩১০০টি সহিংসতার ঘটনা ঘটে। সাংসদ বিক্রম জিৎ সানহে এবং শক্তি সিং গোহিল মন্ত্রীর কাছে জানতে চেয়েছিলেন সংখ্যালঘুদের উপর হামলার ঘটনাগুলি নিয়ে ভারত সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছে?
মন্ত্রী জবাবে জানিয়েছেন, ভারত সরকার সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারের সর্বোচ্চ নজরে এনেছে এবং বিষয়টি ধারাবাহিকভাবে উত্থাপন করে চলেছে। এই বিষয়ে বিদেশি অংশীদারদের সঙ্গেও আলোচনা করা হয়েছে। মনে করা হচ্ছে মন্ত্রীর এই বক্তব্যের অর্থ হল অর্থ হল বাংলাদেশে হিন্দু নিপীড়নের ঘটনা নিয়ে অন্যান্য দেশের সঙ্গে বিপাক্ষিক আলোচনায় ভারত বিষয়টি উত্থাপন করেছে এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন।
মন্ত্রী বলেছেন, ভারত সরকারের প্রত্যাশা যে বাংলাদেশ সরকার এই ঘটনাগুলির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ড, অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িত সকল অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করবে। বাংলাদেশে বসবাসকারী সকল নাগরিকের—সংখ্যালঘুসহ—জীবন ও স্বাধীনতার সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রধান দায়িত্ব বাংলাদেশ সরকারের ওপরই বর্তায়, বলা হয়েছে বিদেশ মন্ত্রীর বিবৃতিতে। তবে বলাই বাহুল্য এই বিবৃতিতে উল্লেখিত বক্তব্য বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সম্পর্কে। বর্তমান বিএনপি সরকারের জমানায় এখনো পর্যন্ত সংখ্যালঘু নিপীড়নের বড় ধরনের কোন অভিযোগ শোনা যায়নি। তবে ভারত সরকার প্রত্যাশা করে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সংগঠিত অপরাধগুলির তদন্তের ব্যাপারে বর্তমান নির্বাচিত সরকার আন্তরিক উদ্যোগ নেবে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানসহ বর্তমান সরকারের একাধিক সিনিয়র মন্ত্রী সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার বিষয়ে সরকারের সদিচ্ছার কথা বারে বারে ঘোষনা করেছেন। এখন দেখার বাস্তবে তারেক রহমান সরকার কী পদক্ষেপ নেয়। কারণ ইউনুস সরকার সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনাগুলিকে রাজনৈতিক সংঘর্ষ বলে থানা-পুলিশের নথিপত্রে উল্লেখ করেছে। একটি দুটি বাদে কোন ঘটনাকেই সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বলে মানতে চায়নি ইউনু সরকার।
দিল্লির তরফে আরও বলা হয়েছে বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় মিশন ও অন্যান্য কূটনৈতিক অফিসগুলি সে দেশে বিপদগ্রস্থ ভারতীয় নাগরিকদের দ্রুত সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করে। মিশন অফিস গুলিতে ২৪ ঘণ্টা খোলা জরুরি হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে। ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় মিশনে ভারতীয় নাগরিকদের অভিযোগ ও উদ্বেগের বিষয়গুলো সমাধানের জন্য একজন কনস্যুলার কর্মকর্তা বিশেষ দায়িত্বে আছেন। বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে মিশন নিয়মিতভাবে ভারতীয় সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে। এছাড়াও, মিশন নিয়মিতভাবে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ‘ওপেন হাউস’ আয়োজন করে।