
শেষ আপডেট: 1 February 2019 12:16
কুয়াশা আর দূষণে আচ্ছন্ন শহর।[/caption]
অফিসকর্মী নুত্তাউট সিরিচাইনাউমিত বলছেন, "দিন কয়েক ধরেই প্রশ্বাস নেওয়ার সময়ে জ্বলে যাচ্ছিল নাক। তার পরে রাতে হঠাৎ হাঁচি শুরু হল, আর সকাল থেকে দেখছি, হাঁচির সঙ্গে নাক থেকে বেরিয়ে আসছে দলা দলা রক্ত। প্রচণ্ড চমকে যাই আমি। আগে কখনও হয়নি এমন। ভয়ঙ্কর ধুলোর কারণেই এই অবস্থা মনে হয়।"
[caption id="attachment_76368" align="aligncenter" width="277"]
ক্রমাগত হাঁচির সঙ্গে নাক থেকে রক্ত পড়ছে।[/caption]
সিনি প্রেম্মানুসপাইসাল নামের আর এক শহরবাসী আবার ভুগছেন ফুসফুসের সংক্রমণে। তিন দিন ধরে ক্রমাগত বমি হচ্ছে তাঁর। কফের সঙ্গে উঠে আসছে রক্ত। এর আগে কোনও শ্বাসপ্রশ্বাসের অসুখ হয়নি তাঁর। তিনি বলেন, "দূষিত হাওয়ায় মিশে আছে অসংখ্য জীবাণু। সুস্থ মানুষকেও অসুস্থ করে তুলছে এই পরিস্থিতি।"
[caption id="attachment_76370" align="aligncenter" width="575"]
শিশুদের নিয়ে রীতিমতো আতঙ্ক বাড়ছে।[/caption]
অবস্থা এতটাই বিপজ্জনক, শিশুদের রাস্তায় বেরোতে বারণ করা হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে প্রায় ৫০০টি স্কুল। রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা। এমনকী দূষণের কারণে ধোঁয়াচ্ছন্ন আকাশে উড়তে পারছে না বিমানও। ড্রোন উড়িয়ে আকাশে জল ছিটিয়ে পরিষ্কার করা হচ্ছে দূষণ। তবে উড়ছে বিমান!
[caption id="attachment_76373" align="aligncenter" width="624"]
ড্রোন উড়িয়ে জল ছেটানো হচ্ছে আকাশে।[/caption]
ব্রঙ্কাইটিস ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীতে উপচে পড়ছে ব্যাঙ্ককের হাসপাতালগুলি। আইসিইউ-তেও স্থান সঙ্কুলান হচ্ছে। কারও কারও চোখ থেকেও রক্ত পড়ছে।খুন সংসামুত নামের এক রোগীর কথায়, "এভাবে বাঁচব না। দূষণেই মরে যাব। কিছু করা উচিত।" কিন্তু কিছুই করা হয়নি এখনও। বেড়েই চলেছে আক্রান্তের সংখ্যা। ক্রমে আরও বেশি করে আবছা হয়ে যাচ্ছে গোটা শহর। অসংখ্য পশুপাখিও অসুস্থ হয়ে মারা যাচ্ছে রোজ।
[caption id="attachment_76372" align="aligncenter" width="610"]
পোষ্যেরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে।[/caption]
তিলধারণের জায়গা নেই পশু হাসপাতালগুলোতেও। 'পেট অ্যান্ড অ্যাকোয়াটিক অ্যানিম্যাল হসপিটাল'-এ পোষ্য খরগোশ জুব্বুকে নিয়ে এসেছেন মালিক। তাঁর দাবি, জুব্বুর হাঁচি থামছেই না। সঙ্গে রক্তও পড়ছে। পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, খরগোশটির নাকের ভিতরটা লাল হয়ে ফুলে রয়েছে। চিকিৎসকেরা বলছেন, প্রবল দূষণেই এই অবস্থা জুব্বুর। সংক্রমণ ছড়িয়েছে ফুসফুস পর্যন্ত। মালিক বলছেন, "ওকে বাড়ি থেকে বেরোতে দিই না। তাও বাঁচাতে পারলাম না সংক্রমণ থেকে। আমার বাড়ির ভেতরটাও ধোঁয়া-ধোঁয়া হয়ে আছে।"