
শেষ আপডেট: 12 October 2018 18:30
গৌতমী সেনগুপ্ত
মোট ৭৭ বছর পেরিয়ে এখনও হায়দরাবাদের সেরা বাঙালি পুজো “বাঙালি সমিতি”- দুর্গা পুজো। হায়দরাবাদের চেনা বাঙালি পাড়া মানেই “বাঙালি সমিতি”-র দুর্গা পুজোর বৈঠকী আড্ডা। ১৯৪২ সাল থেকে শুরু পথ চলা, যা আজও একই ভাবে রঙিন। হায়দরাবাদ রামকৃষ্ণ মিশনের পাশেই জাঁকজমকে পূর্ণ বাঙালি সমিতির দুর্গা পুজো। একদিকে মিশনের নিজস্ব নিয়মের একচালার মা দুর্গার পুজো। অন্য দিকে, বিশাল ব্যানার, বিজ্ঞাপনে ভরপুর “বাঙালি সমিতি”-র পুজো, যা হায়দরাবাদ দুর্গোৎসবের প্রাণকেন্দ্র বলাই যেতে পারে। দুটি ভিন্ন স্বাদের দুর্গাপুজো সমান ভাবেই হায়দরাবাদে জনপ্রিয়। যার শেষ প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে।
হায়দরাবাদ রামকৃষ্ণ মিশনের পুজো
বাঙালি সমিতির দুর্গাপুজোর প্রধান আকর্ষণ খাওয়া-দাওয়া। একদিকে বিশাল মণ্ডপে চলে দুর্গা পুজো, অন্যদিকে, মণ্ডপের ঠিক পাশেই বিশাল চত্বর, সেখানেই মিলবে নানা ধরনের বাঙালি খাবার। চিংড়ির মালাইকারি, বাসন্তী পোলাও থেকে সাদা ভাত, কচি পাঠার মাংস থেকে ইলিশ। পর পর বাঙালি খাবারের স্টল মন ভরিয় দেয় তেলেগু শহরের বাঙালিদের। ভিড় করেন অবাঙালিরাও।
বাঙালি সমিতি নিজস্ব রেস্তোরাঁও বেশ প্রসিদ্ধ। নিজামের শহরে কাজ করতে আসা বাঙালিরা তখন বেশ বিপাকে। খাবারের থালা শুধুই ভরছে সম্বর, ধোসা, ইডলিতে। তখনই বাঙালি সমিতি নামেই শুরু হয় খাবারের হোটেল। খুব সস্তায় মাছ, ভাত, ডালে ভরপেট খাবার পেতে শুরু করে হায়দরাবাদের বাঙালি।সেই সুস্বাদু খাবারের স্টলও থাকে বাঙালি সমিতির পুজোয়। বিশেষ আকর্ষণ, বেগুন ভাজা, ধোকার ডালনা, ইলিশ মাছের রকমারি পদ। পাশপাশি থাকে হায়দরাবাদি বিরিয়ানি, নিজাম শহরের বিশেষ ঠান্ডাই।
এরই মাঝে মায়ের প্রসাদ ভোগ বিনামূল্যে বিতরণ করে বাঙালি সমিতি। মণ্ডপের পাশেই ঘেরা জায়গায় ভক্তদের বসিয়ে চলে ভোগ বিতরণ। খিচুড়ি, লাবড়া, বেগুন ভাজায় ভরে ওঠে সবুজ কলা পাতায় মোড়া শাল পাতার প্লেট।