
সুকান্ত মজুমদার, ফিরহাদ হাকিম ও সুজন চক্রবর্তী
শেষ আপডেট: 13 December 2024 19:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি কর হাসপাতালে মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ এবং খুনের মামলায় সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট দিতে পারেনি সিবিআই। ফলে জামিন পেয়ে গিয়েছেন আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ আর টালা থানার প্রাক্তন ওসি অভিজিৎ মণ্ডল। চিকিৎসককে খুন এবং ধর্ষণের মামলায় প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ ছিল এই দু'জনের বিরুদ্ধে।
২০০০ টাকার বন্ডে একদিকে যখন সন্দীপ-অভিজিৎ জামিন পেলেন, তার কিছুক্ষণের মধ্যেই ফরাক্কায় নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় দোষীদের একজনের ফাঁসি আর অন্যজনের যাবজ্জীবন সাজা শুনিয়েছে আদালত। এখানে যেমন পুলিশি তদন্ত প্রশংসা কুড়োচ্ছে, তেমনই অন্যদিকে সিবিআই তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু হয়ে গিয়েছে।
যেমন মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলছেন, 'সিবিআই আর কী? এতদিনে পুলিশি তদন্তে ছেলেটার ফাঁসি হয়ে যেত। সিবিআই আরও সময় লাগালো। 'অপরাজিতা বিল' আসলে ক্রিমিনালগুলোর এসব করার সাহস হত না। আমাদের রাষ্ট্রপতি মহিলা, আশা করেছিলাম তিনি রাজি হয়ে যাবেন। দুর্ভাগ্য এটাই আমাদের এখানে রাজনীতি বেশি হয়।'
অন্যদিকে, সন্দীপ-অভিজিতের জামিনের ঘটনা ন্যক্কারজনক বলেই মনে করছেন সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী। তাঁর কথায়, আমরা আগেই বলেছিলাম যে, দিল্লির বিজেপি আর আমাদের রাজ্যের সরকার খেলাটা বুঝে নিয়েছে। এটা স্পষ্ট হয়ে গেল। যারা মনে করেছিল যে তৃণমূলের এই অপরাধিদের বুঝি বিজেপি খানিকটা আটকাবে, সেটা ভুল প্রমাণ হল। বরং বিজেপি এদের সাহায্য করবে।'
সুজন আরও বলেন, 'যে বাহিনী হাথরস কাণ্ডে তদন্তে ধামাচাপা দিয়ে মোদীকে খুশি করেছিল, সিবিআইয়ের সেই বাহিনীই অভয়া কাণ্ডের তদন্তে স্বভাবতই মমতাকে খুশি করল।'
বিজেপির সুকান্ত মজুমদার অবশ্য বিঁধতে ছাড়েননি পুলিশ প্রশাসনকে। তাঁর কথায়, 'দুটো মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছিল দু'জনকে। স্বাভাবিক ভাবেই খুন এবং ধর্ষণের যে মামলা তাতে জামিন পেয়েছে। একটায় পায়নি। আমি আগে থেকে বলে এসেছি, পাঁচ দিন ধরে পুলিশ ঘটনাস্থলে যে তাণ্ডব নৃত্য করেছিল তার পর কোনও প্রমাণ পাওয়া যাবে না সেটা নিশ্চিত ছিল। গরু-ছাগলের মতো চারণভূমিতে ঘুরে বেরিয়েছে পুলিশ। এরপর আর কী করতে পারে সিবিআই?'
কুণাল ঘোষ বলছেন, 'মিডিয়া ট্রায়াল হয়ে গেল, এর মদতে এই হয়েছে, ওই হয়েছে বলা হল, এ প্রভাবশালী, পুলিশ খারাপ, প্রশাসন খারাপ সব হয়ে গেল। শুধু যে ডক্তাররা সরকারি জায়গায় কর্মবিরতি করে বেসরকারি জায়গায় গিয়ে চিকিৎসা দিলেন, কোটি কোটি টাকা স্বাস্থ্যসাথী দিয়ে নার্সিংহোমে ভরালেন, নিজেদের পকেট ভরলেন, সেই অসাধু ডাক্তারচক্রের এখনও কোনও বিচার হল না। অনেক শুনেছিলাম, সিবিআই পেয়েছে তদন্তের ভার, এবার কী হল?'