বিসর্জনের সময় রাজপরিবারের পুরনো ঐতিহ্যও বজায় রাখা হয়। তরোয়াল, গদা-সহ নানা ঐতিহাসিক সামগ্রী নিয়ে শোভাযাত্রা বের হয়। রাজপরিবারের নিজস্ব পুকুরেই প্রতিমা নিরঞ্জন সম্পন্ন হয়।

ছবি- সংগৃহীত
শেষ আপডেট: 2 October 2025 20:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জলপাইগুড়ির বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়ির দুর্গাপুজো (DURGAPUJA 2025) বেশ জনপ্রিয়। শতাব্দী প্রাচীন এই পুজো আজও রাজকীয় ঐতিহ্য বজায় রেখে পালিত হয়। এবছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। দশমীর (Dashami) দিন সকালেই মায়ের উদ্দেশে ফল, দুধ ও মিষ্টি নিবেদন করা হয়। এরপর দুপুরে মাকে পরিবেশন করা হয় রাজকীয় ভোগ- পান্তা ভাত, ইলিশ মাছ ভাজা, ইলিশের মাথা দিয়ে কচুশাক, শাপলার ঝোল, পাঁচ রকম ভাজা, দই, চাটনি ও মিষ্টি।
বিশেষ এই দিনে রাজপরিবারের সদস্যরা একটি আলাদা রীতি মেনে আসছেন। প্রতিমা মন্দির থেকে বের হয়ে গেলে আর কেউ মায়ের মুখ দেখেন না। দেবীকে বিদায় জানানোর আগে আকাশে গুলি ছুঁড়ে শুরু হয় বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা। এরপর সিঁদুর খেলায় মাতেন রাজপরিবারের মহিলারা এবং শহরের দূরদূরান্ত থেকে আসা ভক্তরা। সবাই মিলে মাকে একে একে বরণ করে নেন।
বিসর্জনের সময় রাজপরিবারের পুরনো ঐতিহ্যও বজায় রাখা হয়। তরোয়াল, গদা-সহ নানা ঐতিহাসিক সামগ্রী নিয়ে শোভাযাত্রা বের হয়। রাজপরিবারের নিজস্ব পুকুরেই প্রতিমা নিরঞ্জন সম্পন্ন হয়।
রাজপরিবারের এক সদস্য জানান, '১৫১০ সালে বিশু সিংহ ও শিশু সিংহের হাতে এই রাজবাড়িতে দুর্গাপুজোর সূচনা হয়েছিল। সেই প্রথা আজও অটুট রয়েছে।' বিসর্জনের দিনে হাজার হাজার মানুষ ভিড় করেন রাজবাড়ির চত্বরে।
বছরের পর বছর ধরে এই পুজো শুধু রাজপরিবার নয়, সমগ্র জলপাইগুড়ির মানুষের আবেগকে একসূত্রে বেঁধে রেখেছে। বিসর্জনের মুহূর্তে রাজবাড়ি যেন রূপ নেয় এক জনসমুদ্রে, যেখানে রাজকীয় ঐতিহ্য ও মানুষের ভক্তি মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়।