
কলকাতা হাইকোর্ট
শেষ আপডেট: 4 October 2024 22:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'দুর্ব্যবহারের' অভিযোগ তুলে দু’জন শিক্ষিকার বেতন ৫ মাস ধরে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বহরমপুর পুরসভার বিরুদ্ধে। এই নিয়ে হাইকোর্টে রুজু হওয়া মামলায় আজ, শুক্রবার বিচারপতি কৌশিকচন্দ্র নির্দেশ দিলেন, ২২ নভেম্বর বহরমপুরের পুরপ্রধান তৃণমূলের নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়কে হাজিরা দিতে হবে আদালতে।
গীতা চৌধুর এবং শিবানী সাহা নামের দুই শিক্ষিকার অভিযোগ, সেই মে মাস থেকে তাঁরা বেতন পাচ্ছেন না নিয়মিত স্কুলে যাওয়া সত্ত্বেও। কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করার পাশাপাশি, তাঁদের হয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠিও দিয়েছেন বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ তথা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। পুজোর আগেই তাঁদের প্রাপ্য বেতন মিটিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেছেন তিনি। এমনকি আদালতও এই মামলার শুনানিতে নির্দেশ দিয়েছে, ৭ দিনের মধ্যে দু'জনেরই বেতন মেটাতে হবে। অভিযোগ, তার পরেও কোনও নড়চড় নেই পুরসভার।
হাইকোর্টের মামলায় এর আগেই আদালত বহরমপুরের ওই পুরসভাকে নির্দেশ দিয়েছিল দুই শিক্ষিকার বেতন দিয়ে দেওয়ার। তা না হওয়ায় তাঁরা ফের আদালত অবমাননার মামলা করেছিলেন বিচারপতি কৌশিক চন্দ্রর এজলাসে। সেই শুনানিতেই এবার নির্দেশ দেওয়া হল নাড়ুগোপাল বাবুর হাজিরা দেওয়ার।
কেন ওই দুই শিক্ষিকার বেতন বন্ধ করা হয়েছে? শিক্ষিকা শিবানী সাহা বলেন, 'এর আগেও করোনার সময়ে আমাদের বেতন বন্ধ করা হয়েছিল, পুরসভায় গিয়ে দেখা না করার কারণে। এইবার আমাদের শো কজ করা হয়, আমরা নাকি বাচ্চাদের সঙ্গে ভাল ব্যবহার করছি না। আমরা উত্তরও দিই এর। কিন্তু তার পরেও বেতন দেওয়া হয়নি। অভাবের সংসারে খুবই বিপদে পড়েছি।'
অধীর চৌধুরী এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘কিছু না বলেই বহরমপুর পুরপ্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওই দু’জন শিক্ষিকার বেতন বন্ধ করা হয়েছে। হাইকোর্টে ওঁরা মামলাও করেছে। তাতেও ফল হয়নি। মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষে সব দিকে খেয়াল রাখা সম্ভব নয়, তাই আমি নিজে ওঁকে চিঠি দিয়ে এই অমানবিক কাজের কথা জানাই, যাতে দুর্গাপুজোর আগে তাঁদের প্রাপ্য বেতন মিটিয়ে দেওয়া হয়। রাজ্যজুড়ে বিচারের দাবিতে আন্দোলন চলছে। তার মধ্যে এই দুই শিক্ষিকারও বিচার চাই আমি।'
বহরমপুরের পুরপ্রধান নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায় আগেই দাবি করেছিলেন, ওই দুই কর্মী অধীর চৌধুরীর পরামর্শে প্রশাসনিক বিষয়ে রাজনীতি করছেন। পুরসভার সঙ্গে আলোচনায় বসার প্রস্তাব রেখেছিলেন তিনি। কিন্তু হাইকোর্টের নির্দেশ তাঁর কাছে এসে পৌঁছলেও, বেতন তিনি মেটাননি।
এবার নাড়ুগোপালবাবু বললেন, 'এইবিষয় নিয়ে কোনও মন্তব্য করব না। তবে আদালতের নির্দেশ মানতে আমরা বাধ্য।' এখন দেখার বিষয় হল, নির্ধারিত দিনে তিনি কোর্টে হাজিরা দেন কিনা।