
শেষ আপডেট: 11 October 2023 17:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: ফাঁকা ঘরে ছাত্রীর সঙ্গে অশালীন আচরণ করার অভিযোগ উঠল প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনা কথা ছড়িয়ে পড়তেই বুধবার স্কুলের সামনে বিক্ষোভ দেখালেন পড়ুয়া ও অভিভাবকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ওই প্রধান শিক্ষককের নাম সুভাষচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। তিনি হুগলির চণ্ডীতলার মশাট আপতাপ মিত্র উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক।
অভিযোগ, ক্লাস ইলেভেনের এক ছাত্রীকে সুভাষবাবু একটি ফাঁকা ঘরে ডেকে নিয়ে গিয়ে তার সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন। তাকে কুপ্রস্তাব দেন। সোমবার এই ঘটনা ঘটেছিল। ওই ছাত্রী বাড়ি ফিরে তার মাকে সব কথা জানায়। এর পরে ছাত্রীর মা স্কুল পরিচালন কমিটির কাছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানান।
ছাত্রীর মায়ের অভিযোগ, ''ওই প্রধান শিক্ষক ছাত্রীদের ব্রেন ওয়াশ করে নিজের দিকে আকর্ষণ করার চেষ্টা করেন। মেয়ের বয়সি ছাত্রীকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। ওঁর মানসিক চিকিৎসা প্রয়োজন।''
ছাত্রীর অভিযোগ, প্রধান শিক্ষকের আগেও এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন। তার সঙ্গেও একই আচরণ করায় প্রতিবাদ করছে সে। তাই সে প্রধান শিক্ষকের অপসারণের দাবি জানিয়েছে সে। বাকি ছাত্র-ছাত্রী একই দাবি করেছে।
বুধবার বিক্ষোভ চলার সময়ে চণ্ডীতলা-১ বিডিও অফিসে ছাত্রীর বাবাকে নিয়ে আলোচনায় বসেন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ও মশাট স্কুলের পরিচালন কমিটির সভাপতি মলয় খাঁ।
বৈঠকের শেষে সভাপতি বলেন, '' এই ঘটনা নিয়ে লিখিতভাবে কোনও অভিযোগ আমাদের কাছে এখনও আসেনি। কিন্তু ঘটনার কানে আসার পরেই আমরা বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করেছি। ছাত্রীর বাবাকে বলা হয়েছে আইননত ভাবে বিষয়টা অভিযোগ জানাতে। আমরা অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। স্কুল শিক্ষা দফতরকে জানাব।''
হুগলি জেলা পরিষদ সদস্যা স্কুলের জমিদাতা পরিবারের সদস্যা দেবযানী বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, '' ওই স্কুলে আমি পড়েছি। আমার দাদুর নামে স্কুল । আমি চণ্ডীতলা ব্লকের তৃণমূল সভানেত্রী এবং একজন মহিলা হিসাবে বলব অভিযোগ যদি সত্যি হয়, অভিযুক্ত যিনি হোক না কেন তাঁর শাস্তি হওয়া উচিত।''
বুধবার স্কুলে অনুপস্থিত ছিলেন অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক। তাঁরা মোবাইলে ফোন করা হলে এক সহ শিক্ষিকা ফোন ধরে বলেন, '' শ্রীরামপুর এডিআই অফিসে আছেন পিএফ সংক্রান্ত কাজে। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রী ও তাঁর পরিবারের অভিযোগ মিথ্যা। প্রধান শিক্ষক চক্রান্তের শিকার।''