“১৬টা ব্লক, ১৩টা বিধানসভা, কোথাও কিছু হচ্ছে না, শুধু আমার বিধানসভা থেকে দু’জন ব্লক সভাপতি নিয়ে গিয়ে পেছনে ম্যাউ ম্যাউ করানো হচ্ছে! আমি সাফ বলে দিচ্ছি, যেদিন লাগব, গর্তও খুঁজে পাবে না লুকোবার।”

হুমায়ুন কবীর।
শেষ আপডেট: 16 July 2025 12:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের একবার দলের অন্দরে প্রকাশ্যে বিদ্রোহের সুর তুললেন হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। দলবিরোধী কার্যকলাপে জড়িয়ে আগেই তিনবার শোকজ খেয়েছেন। কিন্তু তাতে যে তাঁর রণংদেহী মেজাজ বদলে যায়নি, তা বুঝিয়ে দিলেন ফের। ২১ জুলাইয়ের প্রস্তুতি সভার মঞ্চ থেকেই দলের জেলা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে নাম না করে তোপ দাগলেন। জানিয়ে দিলেন, সংযমের সময়সীমা ১৫ অগস্ট (August15 Ultimatum) পর্যন্ত, তার পর ‘অলআউট’ (All Out Warning) লড়াই!
মঙ্গলবার দুপুরে সালারে ২১ জুলাইয়ের প্রস্তুতি সভায় দাঁড়িয়ে হুমায়ুন বলেন, “আমি অন্যায় করিনি, অন্যায়ের সঙ্গে কম্প্রোমাইজও করিনি। আজ এখানে দাঁড়িয়ে ফের বলছি, আমার নামটা নেত্রী ঘোষণা করেছিলেন। তারপরও বহু প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে লড়াই করে এই জায়গায় এসেছি। আজও সেই লড়াই চলছে। আর এবার আমি তৈরি।”
এরপরেই জেলা নেতৃত্বর উদ্দেশে তাঁর হুঁশিয়ারি, “১৫ অগস্ট পর্যন্ত সংযত থাকব। তার পরে, এই তৃণমূলের প্রতীক নিয়েই 'অলআউট' যুদ্ধে যাব। জেলায় যদি কেউ কান্দি থেকে ভরতপুরের নেতাদের অক্সিজেন দেয়, আমি তখন গোটা জেলায় ‘সংগঠন’-এর বিরুদ্ধেই অক্সিজেন জোগাব। কারা সেই অক্সিজেন দেবে, কী হবে তার পরিণতি— তৈরি থাকো বন্ধু, তৈরি থাকো।”
তাঁর অভিযোগ, বহরমপুর-মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূল সভাপতি অপূর্ব সরকার ও তৃণমূল যুব কংগ্রেস সভাপতি ভীষ্মদেব কর্মকার ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর বিধানসভার দুই ব্লক সভাপতিকে ২১ জুলাইয়ের যুব মিটিংয়ে নিয়ে গিয়েছেন। হুঁশিয়ারির সুরে বলেছেন “১৬টা ব্লক, ১৩টা বিধানসভা, কোথাও কিছু হচ্ছে না, শুধু আমার বিধানসভা থেকে দু’জন ব্লক সভাপতি নিয়ে গিয়ে পেছনে ম্যাউ ম্যাউ করানো হচ্ছে! আমি সাফ বলে দিচ্ছি, যেদিন লাগব, গর্তও খুঁজে পাবে না লুকোবার।”
হুমায়ুনের আক্রমণ থামেনি এখানেই। জেলা নেতৃত্বকে নিশানা করে বলেন, “কিছুদিন আগে রাজ্যের এক মন্ত্রী এসেছিলেন জেলায়। জেলার বাকি ব্লক সভাপতি দূরে থাক, শুধু ভরতপুরের ব্লক সভাপতি ফুলের তোড়া নিয়ে সার্কিট হাউসে ঢুকেছে অভিনন্দন জানাতে! এটা স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হচ্ছে আমাদের— কে জায়গা পাবে, কে পাবে না। জেলার সভাপতি ভাবছেন ডুবে ডুবে জল খাচ্ছেন, কেউ বুঝতে পারছে না। ভুল ভাবছেন।”
তৃণমূলের অন্দরেই এই প্রকাশ্য বিদ্রোহে জেলা জুড়ে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক শোরগোল। হুমায়ুনের এই ‘অলআউট’ ঘোষণার পর জেলা তৃণমূলে সমীকরণ কী দাঁড়ায়, রাজ্য নেতৃত্ব কোনও পদক্ষেপ করে কিনা, সেদিকে তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।