বৃহস্পতিবার সকালে পুরপ্রধান উত্তম দাসের কাছে একটি ফোন আসে। ফোনের ও প্রান্ত থেকে একজন ব্যক্তি নিজেকে কলকাতা সাইবার ক্রাইম দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিক হিসেবে পরিচয় দেন।

শেষ আপডেট: 15 January 2026 18:14
প্রতীতি ঘোষ ,ব্যারাকপুর: ডিজিটাল অ্যারেস্ট নামক সাইবার প্রতারণার নিশানায় এবার জন প্রতিনিধিও। ব্যারাকপুরে পুরপ্রধান উত্তম দাসকে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ এর চেষ্টা হয় বলে অভিযোগ।
কলকাতা সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ আধিকারিক পরিচয় দিয়ে তাঁকে ফোন করে হুমকি দেওয়ার ও ভয় দেখানোর অভিযোগ উঠল অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে। তবে নিজের উপস্থিত বুদ্ধির জেরে বড়সড় বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার সকালে পুরপ্রধান উত্তম দাসের কাছে একটি ফোন আসে। ফোনের ও প্রান্ত থেকে একজন ব্যক্তি নিজেকে কলকাতা সাইবার ক্রাইম দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিক হিসেবে পরিচয় দেন। ওই ব্যক্তি দাবি করেন, উত্তম দাসের নামে নথিভুক্ত একটি সিম কার্ড ব্যবহার করে বড়সড় কোনও অপরাধ সংগঠিত হয়েছে। এই অপরাধের প্রেক্ষিতে মুম্বই সাইবার ক্রাইম বিভাগে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাঁকে অবিলম্বে মুম্বইয়ে হাজিরা দিতে হবে।
এরপরই ওই ব্যক্তি জানায়, সরাসরি ফোনের বদলে হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও কলের মাধ্যমে তাঁকে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ দেওয়া হবে। উত্তমবাবু জানান, ওই ব্য়ক্তির কথাবার্তায় অসংগতি লক্ষ্য করে তাঁর মনে সন্দেহ দানা বাঁধে। তিনি বুঝতে পারেন এটি একটি 'ফেক কল' বা ডিজিটাল জালিয়াতির ফাঁদ। সময়ের অপচয় না করে তৎক্ষণাৎ ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং পুরো বিষয়টি সবিস্তারে জানান।
এই ঘটনার পর সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানান, পুলিশ বা সরকারি কোনও আধিকারিক ভিডিও কলের মাধ্যমে কাউকে ‘অ্যারেস্ট’ বা ‘ডিজিটাল নজরদারি’তে রাখার কথা বলতে পারেন না। এই ধরনের ফোন এলে আতঙ্কিত না হয়ে সরাসরি স্থানীয় থানায় যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।