
জেলা পুলিশের সাংবাদিক বৈঠক।
শেষ আপডেট: 11 September 2024 18:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডায়মন্ড হারবারে বিচারকদের আবাসনে দুষ্কৃতী-তাণ্ডবের ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করল জেলা পুলিশ। একই সঙ্গে বিচারকদের আবাসনে নিরাপত্তাও বাড়ানো হল। বুধবার বিকেলে এক সাংবাদিক বৈঠকে একথা জানাল ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশ।
অভিযোগ, রায় পছন্দ না হওয়ায় গত ৮ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে বিচারকদের আবাসনে বিদ্যুতের লাইন কাটার জন্য জোর করে ঢোকার চেষ্টা করে দুষ্কৃতীরা। ওই কাজে ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার ওসি কুমারেশ দাসও যুক্ত ছিলেন বলে তিন বিচারক লিখিতভাবে অভিযোগ জানিয়েছেন জেলা বিচারকের কাছে। এরপরই তিনি বিচারকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের রেজিস্টারকে চিঠি লেখেন।
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতে শোরগোল তৈরি হয়। টুইট করে রাজ্য সরকারকে কটাক্ষ করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। এরপরই এদিন বিকেলে এক সাংবাদিক বৈঠক থেকে ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার রাহুল গোস্বামী ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুপার মিতুন কুমার দে বলেন, "গুরুতর অভিযোগ। বিষয়টি জানা মাত্রই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হয়েছে। জেলা বিচারকের সঙ্গেও কথা হয়েছে। বিচারকদের এবং তাঁদের আবাসনের নিরাপত্তাও বাড়ানো হয়েছে।"
একই সঙ্গে দুষ্কৃতী হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, হামলার ঘটনায় ইতিমধ্যে সন্দেহভাজন একজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনায় আর কে বা কারা জড়িত তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার সূত্রপাত, গত ২৭ অগস্ট নবান্ন অভিযানের ডাক দিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ ছাত্র সমাজ। সেদিন নবান্ন অভিযানে যাওয়া তিনজন মহিলা নেত্রীকে পকসো কেস দিয়ে গ্রেফতার করে ডায়মন্ড হারবার পুলিশ। আদালত সূত্রের খবর, ধৃতদের ১৪ দিনের পুলিশ রিমান্ড চাওয়া হয়। আইন না মানায় বিচারক পুলিশ রিমান্ড দেননি। এরপরই গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে দুজন দুষ্কৃতীকে সঙ্গে নিয়ে ডায়মন্ড হারবারের পুলিশ অফিসার কুমারেশ দাস বিচারকদের আবাসনে হামলা চালায় বলে অভিযোগ।
ওই ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে জেলা বিচারককে চিঠি দিয়েছিলেন তিন বিচারক। এরপরই পুরো ঘটনাটি হাইকোর্টের রেজিস্টারকে জানিয়ে নিরাপত্তার দাবি জানান জেলা বিচারক।