দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১৭ লাখ ছুঁলেও, সংক্রমণ সারিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠাদের সংখ্যাও আশা জাগাচ্ছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের হিসেব বলছে, দেশে সংক্রমণ সারিয়ে উঠেছেন প্রায় ১১ লাখ মানুষ। সেই সঙ্গেই ভাইরাসের সংক্রমণে মৃত্যুহারও এক ধাক্কায় কমে গেছে। জুনের মাঝামাঝি দেশে করোনায় মৃত্যুহার ছিল ৩.৩৩ শতাংশ, আজকের হিসেবে সেই হারই কমেছে ২.১৫ শতাংশে।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারতে করোনায় মৃত্যুহার সবচেয়ে কম। জুলাই মাসের মাঝামাঝি থেকেই মৃত্যুহার কমতে শুরু করেছিল। কয়েকদিন আগেই কোভিড ডেথ রেট ছিল ২.৩৩%। আজ স্বাস্থ্যমন্ত্রকের বুলেটিনে দেখা গেল, মৃত্যুহার কমে দাঁড়িয়েছে ২.১৫ শতাংশে। গত ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমণ সারিয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৩৬ হাজার ৫৬৯ জন কোভিড রোগী। দেশে এখন করোনা জয়ীদের সংখ্যা ১১ লাখ ছুঁয়েছে। কোভিড রিকভারি রেট তথা সুস্থতার হারও তাই এক লাফে বেড়ে গেছে ৬৪.৫৩ শতাংশ।
স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানাচ্ছে, মার্চ মাসে লকডাউন শুরুর পর থেকে এই প্রথম করোনায় মৃত্যুহার এতটা কমল। এর কারণ কোভিড টেস্ট, কমট্যাক্ট ট্রেসিং এবং ট্রিটমেন্ট। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের বক্তব্য, দেশে করোনা পরীক্ষা অনেক বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কোভিড চিকিৎসায় কী কী ওষুধ ব্যবহার করা হবে, কী থেরাপির প্রয়োগ হবে সেটা জানতে ক্লিনিকাল ম্যানেজমেন্ট প্রোটোকল তৈরি হয়েছে। কোভিড চিকিৎসা ও গবেষণা সংক্রান্ত বিষয়ের খুঁটিনাটি খেয়াল রাখার জন্য তৈরি হয়েছে টাস্ক ফোর্স। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের অধীনস্থ বায়োটেকনোলজি বিভাগ, সরকারি সংস্থা সিএসআইআর, আয়ুষ মন্ত্রকের বিশেষজ্ঞরা রয়েছে সেই টাস্ক ফোর্সে। নিয়মমাফিক ও সুর্নিদিষ্ট প্রোটোকল মেনে সব কাজ করা হচ্ছে।
আইসিএমআর আগেই জানিয়েছিল করোনা সংক্রমণ রোখা যাবে তিন ‘টি’ এর নিয়মে। টেস্ট, ট্রেসিং ও ট্রিটমেন্ট। গত মার্চের পর থেকে দেশে করোনা পরীক্ষার জন্য সরকারি ও বেসরকারি ল্যাবরেটরির সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। ৯১১টি সরকারি ল্যাব ও ৪২৮টি বেসরকারি ল্যাবে এখন করোনা পরীক্ষা হচ্ছে। ৩১ জুলাই অবধি ১ কোটি ৯৩ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৯ অর্থাৎ প্রায় ২ কোটি কোভিড টেস্ট হয়েছে দেশজুড়ে। শুধুমাত্র ৩১ জুলাই করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৫ লাখ ২৫ হাজার, এখনও অবধি যা সর্বাধিক।
কনট্যাক্ট ট্রেসিং বাড়ানো হয়েছে দিল্লি, বেঙ্গালুরু, মহারাষ্ট্রে। করোনা রোগী বা সংক্রমণ সন্দেহে থাকা রোগীদের কাছাকাছি আসাদের শনাক্ত করে আলাদা করা হচ্ছে। যাঁদের বিন্দুমাত্র সংক্রমণের উপসর্গ দেখা দিচ্ছে, তাঁদের কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হচ্ছে। তাছাড়া দেশজুড়েই চলছে সেরো সার্ভে। রক্তে অ্যান্টিবডির উপস্থিতি ও পরিমাণ দেখে সংক্রমণ কতটা ছড়াল খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্বাস্থ্য আধিকারিকরা বলছেন, এই সেরো সার্ভেতেই বোঝা যাবে কোন ক্লাস্টারে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হচ্ছে। এই হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হওয়া মানেই সংক্রমণ নির্দিষ্ট গণ্ডিতেই আটকে যাবে, বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারবে না। তাছাড়া করোনা চিকিৎসায় প্লাজমা থেরাপিও ভাল কাজ করছে বলেই দাবি স্বাস্থ্যমন্ত্রকের। রেমডেসিভির, ফ্যাভিপিরাভিরের মতো কিছু ওষুধের প্রয়োগ সন্তোষজনক। তাই রোগ সারিয়ে ওঠাদের সংখ্যা বাড়ছে। সুস্থতার হার বাড়ছে, সেই সঙ্গে মৃত্যুহারও কমছে।