
শেষ আপডেট: 2 September 2020 18:30
এই দুই ব্ল্যাকহোলের লড়াই নিয়ে এখন বিশ্বজুড়েই মাথা ঘামাচ্ছেন মহাকাশবিজ্ঞানীরা। তার কারণ আছে। সাধারণত দুটি ব্ল্যাকহোল বা কৃষ্ণগহ্বরের মারামারি নতুন কিছু নয়, আবার তারাদের সঙ্গেও বিবাদ লেগে যায় ব্ল্যাকহোলদের। তারা-শিকারি ব্ল্যাকহোলরাও ঘাপটি মেরে থাকে গ্যালাক্সিতে। এই দুই ব্ল্যাকহোল লড়াই করতে করতে একে অপরের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। তাদের মিশ্রণ থেকেই নতুন ব্ল্যাকহোলের জন্ম হচ্ছে। এটা সত্যিই বিরল ঘটনা। অন্তত মহাকাশবিজ্ঞানীরা তাই বলছেন। এই নতুন পর্যবেক্ষণে সমান কৃতিত্ব আছে আইআইটি-বম্বে ও আইআইটি-গান্ধীনগরে মহাকর্ষীয় তরঙ্গ নিয়ে গবেষণারত বিজ্ঞানীদের। দুটি সায়েন্স জার্নাল ‘দ্য ফিজিকাল রিভিউ লেটারস’ও ‘অ্যাস্ট্রোফিজিকাল জার্নাল লেটারস’-এ এই পর্যবেক্ষণের খবর প্রকাশিত হয়েছে বুধবার।
গবেষকরা বলছেন, এই কৃষ্ণগহ্বরদের চেহারা ও ভর সূর্যের থেকে বেশি। একটি ব্ল্যাকহোলের ভর সূর্যের থেকে ৮৫ গুণ বেশি। তার সঙ্গে সরাসরি সংঘাত হচ্ছে যার তার ভর সূর্যের থেকে প্রায় ৬৬ গুণ বেশি। তবে মাঝপথে যে ব্ল্যাকহোল বা মার্জার গজিয়ে উঠছে তার দানবের মতো চেহারার। ভর আবার সূর্যের চেয়ে প্রায় ১৪২ গুণ বেশি। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই মার্জারের নাম GW190521। প্রবল ভর আর মাংসল চেহারার জন্য তার আকর্ষণ শক্তিও বিশাল। প্রবল অভিকর্ষজ বলের টানে বাকি দু’জনকে নিজের দিকে টেনে আনছে সে। আর এই ভীষণ লড়াইয়ে প্রবল গতিতে মহাকর্ষীয় তরঙ্গ ছিটকে বের হচ্ছে মহাকাশে।
এই দুই ব্ল্যাকহোলকে প্রথম ঝগড় করতে দেখা গিয়েছিল গত বছর। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এখন রীতিমতো যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। দু’মাস আগেই লাইগো ও ভার্গো ডিটেক্টরে ধরা পড়েছিল দশাসই কোনও নিউট্রন তারার সঙ্গে অশান্তি চলছে পেল্লায় এক ব্ল্যাকহোলের। তেড়েফুঁড়ে যাচ্ছে একে অপরের দিকে। টেনে নেওয়ার চেষ্টা করছে নিজের দিকে। মহাজাগতিক বস্তুদের মধ্যে সংঘাত এতটাই তীব্র যে তার ধাক্কায় উথালপাথাল হচ্ছে মহাশূন্য। পৃথিবী থেকে ৮০ কোটি আলোকবর্ষ দূরেই এই যুদ্ধ চলছে। গান্ধীনগরের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি ও চেন্নাইয়ের ম্যাথেমেটিক্যাল ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা এই মহাকর্ষীয় তরঙ্গের খোঁজ পেয়েছিলেন। পৃথিবী থেকে ১৫ হাজার আলোকবর্ষ দূরে আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতেও রয়েছএ এমনই এক দানব ব্ল্যাকহোল যার নাম ‘এলবি-১’। এই কৃষ্ণগহ্বর আয়তনে সূর্যের চেয়ে প্রায় ৭০ গুণ বড়। বিজ্ঞানীরা একে বলেন সুপার ম্যাসিভ ব্ল্যাকহোল।
পৃথিবী থেকে ২৫ কোটি আলোকবর্ষ দূরে জিএসএন-০৬৯ (GSN-069) রাক্ষুসে ব্ল্যাকহোলের সন্ধান আগেই পেয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা।নাসার চন্দ্রা এক্স-রে অবজ়ারভেটরি (Chandra X-ray Observatory) এবং ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির (ESA) এক্সএমএম নিউটন (XMM-Newton) এই ব্ল্যাকহোলের খোঁজ দিয়েছিল। নাসা এর আগে আবিষ্কার করেছিল দু’টি স্টেলার-মাস (Steller-Mass) ব্ল্যাক হোল, যারা আড়ে বহরে সূর্যের প্রায় দ্বিগুণ।
২০১৫ সালে দুটি ব্ল্যাকহোলের সংঘর্ষে এমন মহাকর্ষীয় তরঙ্গ দেখা গিয়েছিল, যার উৎস্থল ছিল পৃথিবী থেকে প্রায় ১৩০ কোটি আলোকবর্ষ দূরে। ২০১৭-তে ১৮০ কোটি আলোকবর্ষ দূরে মহাকর্ষীয় তরঙ্গ দেখেছিলেন বিজ্ঞানীরা।