
জগদীপ ধনকড় এবং বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 28 June 2024 21:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফল প্রকাশের পর কেটে গিয়েছে ২৩ দিন। কিন্তু রাজ্যের দুই বিধানসভার নব নির্বাচিত বিধায়কদের শপথ জট এখনও কাটেনি। রাজভবন এবং রাজ্য সরকারের মধ্যে দড়ি টানাটানি চলছে সপ্তমে। সমস্যা সমাধানে এবার উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড়কে ফোন করলেন বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়।
ধানসভায় স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের কাছে শপথ নিতে চাইছেন উপনির্বাচনে তৃণমূলের দুই জয়ী বিধায়ক। এই নিয়ে রাজভবনে চিঠিও পাঠিয়েন তাঁরা। কিন্তু দুই নবনির্বাচিত বিধায়কের প্রস্তাবে রাজি নন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস। পাল্টা চিঠিতে তিনি জানিয়েছেন, বিধায়কদের শপথ গ্রহণ নিয়ে রাজ্যপালই শেষ কথা বলবেন। আর এই জটিলতা কাটাতেই রাজ্যের প্রাক্তন রাজ্যপাল ধনকড়ের দ্বারস্থ হয়েছেন স্পিকার। শুক্রবার তাঁর সঙ্গে ফোনে কথা বলে পরামর্শ নিয়েছেন বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়।
বর্তমানে ভারতের উপরাষ্ট্রপতি ধনখড় এর আগে বাংলার রাজ্যপাল ছিলেন। তাঁর সময়কালে রাজভবন ও নবান্নের সংঘাত পৌঁছেছিল চরমে। সেই সময়ও শপথগ্রহণকে ঘিরে রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাত তৈরি হয়েছিল। পরে বিধানসভায় এসে জয়ী বিধায়কদের শপথবাক্য পাঠ করান ধনকড়। এখন তিনি দেশের উপরাষ্ট্রপতি। বাংলার পরিস্থিতি সম্পর্কে ওয়াকিবহল তিনি। তাই বর্তমান রাজ্যপালকে বিধানসভায় এসে নতুন বিধায়কদের শপথ গ্রহণ করানোর বিষয়ে যাতে তিনি পরামর্শ দেন, সেই অনুরোধ জানাতেই ধনখড়কে স্পিকার ফোন করেন বলে সূত্রের খবর।
বৃহস্পতিবারই রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর পাশাপাশি উপরাষ্ট্রপতিকেও চিঠি দিয়েছিলেন বিমান। তৃণমূলের দুই বিধায়কের শপথগ্রহণ নিয়ে রাজ্যপাল এবং রাজ্য সরকারের টানাপড়েনের কথা সেই চিঠিতে সবিস্তারে বলা রয়েছে। এবার শুক্রবার ফোনেও এই নিয়ে জানিয়েছেন তিনি।
চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনের সঙ্গে রাজ্যের দুই বিধানসভা কেন্দ্র বরানগর ও ভগবানগোলায় উপনির্বাচন হয়। বরানগর কেন্দ্রে জয়ী হন তৃণমূলের সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভগবানগোলায় জেতেন শাসক দলের রেয়াত হোসেন। এই দুই জয়ী প্রার্তীকেই শপথ নেওয়ার জন্য রাজভবনে যেতে বলেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস। তবে দু’জনেই জানান যে বিধানসভাতেই তাঁরা শপথ নিতে চান। রাজ্যপাল যাতে তাঁদের বিধানসভায় শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা করেন। কিন্তু আনন্দ বোস তা মেনে নেওয়ায় বিধানসভাতে ধর্নায় বসেছেন সায়ন্তিকা এবং রেয়াত হোসেন। শুক্রবারও বিধানসভা চত্বরে তাঁদের ধর্না চালু ছিল।