
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 23 November 2024 08:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত ১৩ নভেম্বর উপ নির্বাচনের দিন সাত সকালে রক্ত ঝরেছিল নৈহাটিতে। ভাটপাড়া পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডে বাজার করতে বেরিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছিল তৃণমূলের প্রাক্তন ওয়ার্ড সভাপতি অশোক সাউয়ের। বিরোধীদের তরফে শাসকদলের গোষ্ঠী কোন্দলের অভিযোগ এনে দাবি করা হয়েছিল, মানুষের মধ্যে ভয়ভীতি তৈরি করতেই এই খুনের ঘটনা ঘটানো হল। পাল্টা হিসেবে বিরোধীদের দুষেছিল তৃণমূল।
১০ দিনের ব্যবধানে শনিবার ভোট গণনার মুহূর্তে ওই প্রসঙ্গ তুলে ধরে তৃণমূলকে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন নৈহাটির বিজেপি প্রার্থী রূপক মিত্র। এদিন সকাল ৮টার কিছু আগে ভোট গণনা কেন্দ্রে প্রবেশের সময় বিজেপি প্রার্থী বলেন, "ভোটের দিন নৈহাটিতে বডি পড়েছিল। সেদিন যা অশান্তি হওয়ার হয়ে গেছে। আজকে যদি তৃণমূল আবার নতুন করে অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করে তাহলে সমগ্র নৈহাটি অবরুদ্ধ হয়ে যাবে। এর জন্য দায়ী থাকবে তৃণমূল।"
স্বচ্ছভাবে ভোট গণনা হলে তিনিই জিতবেন বলেও দাবি করেছেন রূপক।
যার জবাবে তীব্র কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছেন ব্যারাকপুরের তৃণমূল সাংসদ পার্থ ভৌমিক। পার্থ বলেন, "হারবে জেনেই আগে থেকে গোলমালের প্ররোচনা দিচ্ছে। এসব না করে ওঁকে বলুন, সমস্যা হলে আমাকে ফোন করতে। আমি সব সামলে দেব!"
এদিকে শাসক-বিরোধীর তরজার মধ্যে নৈহাটিতে শুরু থেকেই এগিয়ে তৃণমূল প্রার্থী সনৎ দে। কমিশন সূত্রের খবর, ব্যালট বাক্সের গণনায় প্রথম রাউন্ড শেষে ৪ হাজার ৭২২ ভোটে বিজেপি প্রার্থীর চেয়ে এগিয়ে রয়েছে তৃণমূল।
ভোটের দিন ঠিক কী ঘটেছিল নৈহাটিতে?
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাজারের পথে একটি চায়ের দোকানে এসে দাঁড়ান তৃণমূলের প্রাক্তন ওয়ার্ড সভাপতি অশোক সাউ। সেইসময় কয়েক জন দুষ্কৃতী পায়ে হেঁটে এসে ঘিরে ধরে তৃণমূল নেতা অশোককে। এরপর এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। পরে তাঁকে লক্ষ্য করে সকেট বোমা ছোড়া হয় বলেও অভিযোগ।
গুরুতর আহত অবস্থায় ভাটপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় ওই তৃণমূল নেতাকে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় ব্যারাকপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর। ঘটনার জেরে ভোটের দিনে রীতিমতো আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল এলাকায়।