দ্য ওয়াল ব্যুরো: এ যেন সদর দফতরে কামান দাগা!
মার্ক জুকারবার্গ তথা ফেসবুক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে চাকরি ছাড়লেন ২৮ বছর বয়সী সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার। অশোক চান্দেওয়ানে ১৩০০ শব্দের ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছেন ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে। তারপর ওয়াশিংটন পোস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি যা বলেছেন তা শুধু বিস্ফোরক নয়, এর যদি চার আনাও সত্যতা থাকে তাহলে ফেসবুকের নিরপেক্ষতা, মূল্যবোধ নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন অনেকে।
কী বলছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার?
তাঁর কথায়, "ফেসবুক এখন ঘৃণার স্বর্গরাজ্য। সংস্থার এখন উদ্দেশ্যই হয়ে দাঁড়িয়েছে ঘৃণা থেকে মুনাফা করা।" আমেরিকা থেকে সারা বিশ্বে কী ভাবে ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে তাও ওই চিঠিতে লিখেছেন অশোক। তাঁর কথায়, এক এক জায়গায় এক এক কায়দায় ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে। কোথাও বর্ণবিদ্বেষ, কোথাও লিঙ্গ বিদ্বেষ আবার কোথাও জাতি বা ধর্মীয় বিদ্বেষ। ভাষা বিদ্বেষের ঘৃণার কথাও উল্লেখ করেছেন তরুণ এই ইঞ্জিনিয়ার।
যদিও ফেসবুকের অন্যতম মুখপাত্র লিজ বর্জওইস বলেছেন, "আমরা ঘৃণা ছড়িয়ে মুনাফা করি না। বরং প্রতি বছর কোটি কোটি ডলার খরচ করা হয় কী ভাবে সমাজকে ঘৃণা, বিদ্বেষ থেকে দূরে রাখা যায়।"
মায়ানমার ও কেনেশা হিংসায় ফেসবুকের প্রচ্ছন্ন ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেছেন অশোক। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, বারবার বলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাংঘাতিক একটি পোস্টকে সরানো যায়নি। জুলাই মাসে ট্রাম্প ফেসবুকে লিখেছিলেন, "লুট শুরু হলে শ্যুট শুরু হবে।"
কড়া কড়া শব্দে ওই নিজের ইস্তফা পত্র লিখেছেন অশোক। তরুণ ইঞ্জিনিয়ার লিখেছেন, সভ্যতার রাস্তার উল্টোদিক দিয়ে হাঁটছে ফেসবুক। নাগরিক অধিকারের প্রশ্নেও ফেসবুক বহু জায়গায় পাঁচিল তুলে দিচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।
ফেসবুকের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা কেমন তা নিয়ে সম্প্রতি কম জল ঘোলা হয়নি। ভারতে নিযুক্ত ফেসবুকের নীতি নির্ণায়ক আধিকারিক আঁখি দাস ও বিজেপির সখ্য নিয়ে ঝড় বয়ে গিয়েছে জাতীয় রাজনীতিতে। রাহুল গান্ধী-সহ বিরোধীরা অভিযোগ তোলেন, বিজেপি-আরএসএস মিলে.ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপকে নিয়ন্ত্রণ করছে। তরুণ ইঞ্জিনিয়ারের ক্ষোভে চাকরি ছাড়ার ঘটনায় আরও একবার ফেসবুকের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেল বলেই মত পর্যবেক্ষকদের।