
শেষ আপডেট: 25 February 2024 16:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম বর্ধমান: চারদিন আগে আসানসোলের হোটেলের কামরা থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গেছিল কলেজ ছাত্রের দেহ। রহস্য ঘনিয়েছিল ছাত্রের বান্ধবীকে নিয়ে। সেই তরুণীর পরিচয় জানতে পেরে তাঁকে হন্যে হয়ে খুঁজছিল পুলিশ। অবশেষে শনিবার রাতে তাঁকে গ্রেফতার করে আসানসোল দক্ষিণ থানার তদন্তকারীরা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত ওই তরুণীর নাম শাবানা পরভীন ওরফে জয়নাভ খাতুন। তার বাড়ি কুলটি থানার নিয়ামতপুরের আকনবাগান এলাকায়। রবিবার ধৃতকে আসানসোল আদালতে তোলা হয়েছিল। সেখানে তরুণীর আইনজীবী জামিনের আবেদন চান। কিন্তু বিচারক সেই আবেদন নাকচ করে তরুণীকে ৫ দিনের জন্য পুলিশের হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।
গত ২০ ফেব্রুয়ারি আসানসোল জিটি রোডের ধারে অবস্থিত একটি হোটেল থেকে রোহন প্রসাদ নামে এক কলেজ ছাত্রের গুলিবিদ্ধ দেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয় গোটা এলাকায়। জানা যায় রোহনের সঙ্গে গত ১৯ তারিখে এক তরুণী ওই হোটেলে এসেছিলেন। রাত ৯ নাগাদ তরুণী হোটেল থেকে চলে যান। তার পর থেকে হোটেলের একটি কামরায় রোহন একাই ছিলেন। পরেদিনও রোহন কামরার দরজা না খোলায় হোটেল কর্মীদের সন্দেহ হয়। পুলিশ ডাকেন তাঁরা। পুলিশ এসে দরজা খুলতেই রোহনের রক্তাক্ত দেহ মেলে। সেদিন থেকেই ওই তরুণীর খোঁজ চলছিল।
বুধবার সকালে আসানসোল জেলা হাসপাতালে যুবকের মৃতদেহের ময়নাতদন্ত হয়। তাতে একটি রিভলভারের গুলি যুবকের মাথার পেছন থেকে পাওয়া যায়। পুলিশ সেই গুলি জেলা হাসপাতালের মর্গ থেকে সিজ করেছিল। হোটেলের ঘর থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করার সময় যুবকের কাছ থেকে একটি রিভলভারও পাওয়া যায়। সেটিকেও পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে। সেই রিভলভার ও গুলির ফরেনসিক পরীক্ষা করা হয়।
পরে বিকেল সাড়ে চারটে থেকে দেহ নিয়ে সঠিক বিচারের দাবিতে কুলটি থানার নিয়ামতপুরে জিটি রোড অবরোধ করেছিলেন যুবকের পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী ও এলাকার বাসিন্দারা।
এই ঘটনায় আসানসোল দক্ষিণ থানার পুলিশকে তদন্তে সাহায্য করে আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডিডি বা গোয়েন্দা দফতর। বুধবার বিকেলে ওই হোটেলে যায় দুর্গাপুরের ফরেনসিক (আরএফএসএল) টিমের সদস্যরা। তারা এই ঘটনার তদন্তে থাকা পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে কামরার সবকিছু পরীক্ষা করে দেখেন। সেখান থেকে খোঁজ মেলে একটি হ্যান্ডব্যাগের । যার মধ্যে থেকে পাওয়া যায় রোহনের মোবাইল ফোন।
এই প্রসঙ্গে এক আধিকারিক বলেন, মৃত যুবকের বাবার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে এই যুবতীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার ভিত্তিতে খুনের মামলা করা হয়েছে। এই ঘটনার পেছনে সম্পর্কের টানাপোড়েন না অন্য কিছু আছে সেটা ধৃতকে জেরা করে জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।