
শেষ আপডেট: 18 March 2023 05:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য ভেঙে রাজ্য, জেলা ভেঙে জেলা, নতুন কোনও বিষয় নয়। প্রশাসনিক সুবিধা, জনসাধারণের দাবির মুখে নতুন জেলা তৈরি একটি লাগাতার প্রক্রিয়া। তাই বলে কোনও রাজ্যে এক সঙ্গে ১৯টি জেলা (Districts) বেড়ে যাওয়ার (increased) নজির নেই দেশে। রাজস্থানে (Rajasthan) মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট (Ashok Gehlot) সেই অভিনব সিদ্ধান্তই ঘোষণা করেছেন। এতদিন এই সংক্রান্ত রেকর্ড ছিল অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াইএস জগনমোহন রেড্ডির দখলে। গত বছর তিনি রাজ্যের ১৩টি জেলাকে ভেঙে ২৬ করে নিয়েছেন।
স্বাধীনতার সময় রাজস্থানে জেলার সংখ্যা ছিল ২৬। পরবর্তীকালে প্রশাসনিক কাজের সুবিধার্থে দফায় দফায় তা বেড়ে হয় ৩৩। শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট বিধানসভায় বাজেট অধিবেশনে আচমকাই নতুন ১৯টি নতুন জেলা গঠনের কথা ঘোষণা করেন।
নতুন ১৯টি যুক্ত হলে জেলার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৫২ হওয়ার কথা। কিন্তু তা হচ্ছে না। রাজ্যের জেলার সংখ্যা হবে ৫০। কারণ, দুই প্রধান শহর জয়পুর এবং যোধপুর আর জেলার তালিকায় থাকছে না। কলকাতা, দিল্লি, মুম্বই, চেন্নাইয়ের মতো সেই জেলা দুটি থাকবে সরাসরি রাজ্য প্রশাসনের হাতে। কলকাতার মতো সেগুলিতে কোনও জেলাশাসক থাকবেন না।
বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার পর কলকাতাকে জেলা ঘোষণার প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল। তৈরি হয়েছিল জেলা শাসকের দফতর। কিন্তু নানা জটিলতার কারণে কলকাতাকে জেলা ঘোষণা করা হয়নি। এই শহরে এখনও তাই জেলাশাসক নেই। জেলাশাসকের কাজকর্ম দেখভাল করেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক।
প্রশ্ন হল, রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট এমন অভিনব সিদ্ধান্ত কেন নিলেন। কেন রাতারাতি ১৯টি নতুন জেলা তৈরি করলেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, বছর শেষে বিধানসভা ভোটের আগে ঘরে-বাইরের বিরোধীদের মোকাবিলায় জেলাভাগের সিদ্ধান্তকে নয়া অস্ত্র করলেন তিনি। নতুন জেলার দাবি ছিল বহুদিন ধরে। সেই দাবি এমনভাবে পূরণ করলেন যাতে রাজ্যের সব অংশের মানুষের চাহিদা পূরণ হয়।
গেহলট সমর্থকেরা মনে করছেন, এর সুবিধা ভোটের বাক্সে মিলবেই। শুক্রবার সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া দেখেও গেহলট শিবির নিশ্চিত, আগামী ভোটে রাজস্থান রাজনীতিতে ‘জাদুকর’ বলে খ্যাত গেহলট ফের মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন। আগামী তিন মাসের মধ্যে নতুন জেলাগুলি গঠন করে ফেলা হবে, নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
নভেম্বরে বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপি ঘুঁটি সাজাচ্ছে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। কিন্তু গেহলটের বড় কাঁটা ঘরের লোক শচীন পাইলট। মাঝবয়সি এই কংগ্রেস নেতা তথা রাজ্যের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী আগামী ভোটে মুখ্যমন্ত্রী মুখ হতে মুখিয়ে আছেন। মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যেই যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন তিনি। কংগ্রেস হাইকমান্ড দু’জনই দলের সম্পদ বলে বিবাদ চাপা দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
রাজস্থানে গেহলট-পাইলট বিবাদ নতুন নয়। গেহলটকে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে শচীনকে বসানোর কোনও ইঙ্গিত এখনও পর্যন্ত দেয়নি কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব। তাৎপর্যপূর্ণভাবে জাতীয় কংগ্রেসে তাদের অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে শুক্রবারই গেহলটের ছবি সহ তাঁর সরকারের বিভিন্ন কল্যাণমূলক কাজের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, রাজস্থানে ফের সরকার গড়বে কংগ্রেস। যা থেকে অনেকেই অনুমান করছেন, গেহলটই ফের দলকে নেতৃত্ব দেবেন, মুখ্যমন্ত্রী বদলের কোনও সম্ভাবনা নেই, এমন আভাসই দেওয়া হয়েছে দলের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে। স্বভাবতই শচীন এরপর কী করেন, তা নিয়ে কৌতুহল তৈরি হয়েছে।
অন্ডালে চাকরি দেবে বলে কোটি টাকা হাতিয়ে ফেরার শ্বশুর, নাগাল পেতে জামাইকে ধরল পুলিশ