
শেষ আপডেট: 11 July 2023 09:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জম্মু-কাশ্মীরে সংবিধানের ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ (Article 370) সংক্রান্ত মামলার পূর্ণাঙ্গ শুনানি শুরু হবে আগামী ২ অগস্ট থেকে। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ মঙ্গলবার জানিয়েছে, ২ অগাস্ট থেকে প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১০’টায় এই মামলার শুনানি হবে (hearing on 2 August)। সব পক্ষের বক্তব্য শোনা পর্যন্ত চলবে শুনানি।
জম্মু-কাশ্মীরের (Kashmir) প্রথমসারির সব রাজনৈতিক দল এবং একাধিক সামাজিক সংগঠন ও ব্যক্তি ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ পুনরায় চালু করার আর্জি জানিয়ে শীর্ষ আদালতে মামলা করেছে। তাদের বক্তব্য, কেন্দ্রীয় সরকার সংবিধানের ওই অনুচ্ছেদটি বাতিল করে দেওয়ায় জম্মু-কাশ্মীরের মানুষ স্বাধিকার হারিয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্ত কাশ্মীরের ভারতভুক্তির শর্তের পরিপন্থী।
অন্যদিকে, শুনানি শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে সোমবার রাতে ভারত সরকারের তরফে সুপ্রিম কোর্টে পেশ করা হলফনামাটিকে মঙ্গলবার শীর্ষ আদালত অর্থহীন বলেছে। আদালতের বক্তব্য, মামলায় যে সাংবিধানিক প্রশ্নগুলি তোলা হয়েছে হলফনামায় পেশ করা বক্তব্যের সঙ্গে তার কোনও সম্পর্ক নেই। প্রধান বিচারপতি অ্যাটর্নি জেনারেলের উদ্দেশে বলেছন, সরকার চাইলে ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে মামলায় উত্থাপিত সাংবিধানিক প্রশ্নগুলির বিষয়ে তাদের জবাব অতিরিক্ত হলফনামায় আদালতকে জানাতে পারে।
প্রসঙ্গত, ২০১৯-এর ৫ অগাস্ট ভারত সরকার সংসদে বিল এলে সংবিধানের ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদটি বাতিল করে দেয়। ওই অনুচ্ছেদে জম্মু-কাশ্মীরের জন্য বিশেষ সুবিধা ও মর্যাদার উল্লেখ ছিল। বিশেষ সুবিধাগুলির অন্যতম ছিল ওই রাজ্যে বহিরাগতরা জমি-সম্পত্তি কিনতে পারতেন না। রাজ্যের নিজস্ব পতাকা, প্রতীক, সঙ্গীত, রেডিও স্টেশন চালু ছিল। চালু ছিল রাজ্যের নিজস্ব কিছু আইনও ছিল। আবার দেশের অনেক আইন জম্মু-কাশ্মীরের বলবৎ হত না। ২০১৯-এর ৫ অগাস্টের পর থেকে পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে। দেশের আর পাঁচটা রাজ্যের মতোই জম্মু-কাশ্মীর চালিত হচ্ছে।
সংসদে বিরোধীরা সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হয়। বিজেপি সরকারের সিদ্ধান্তে অবশ্য চমক ছিল না। বিজেপি দল হিবাবে আত্মপ্রকাশ করার সময়ই ঘোষণা করেছিল তারা সংসদে পূর্ণাঙ্গ ক্ষমতা অর্জন করলে ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ বাতিল করে দেবে। তাদের মতে, ওই অনুচ্ছেদ অখণ্ড ভারতের ধারণার পরিপন্থী।
মামলার বিষয় অবশ্য শুধুই ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ নয়। এর সঙ্গে আছে ওই রাজ্যকে ভেঙে কেন্দ্র শাসিত রাজ্যে পরিণত করা নিয়ে আপত্তি। কেন্দ্রীয় সরকার জন্মু-কাশ্মীরকে দু-টুকরো করে লাদাখকে পৃথক কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল ঘোষণা করেছে।
অন্যদিকে, পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদা হারিয়েছে জম্মু-কাশ্মীর। বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের আগেই সেখানে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয়ে আছে। রাজ্যের বিজেপি বিরোধী দলগুলির দাবি অবিলম্বে সেখানে বিধানসভা ভোট করে নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা তুলে দিতে হবে।
গ্রাম পঞ্চায়েতের ভোট গণনা চলছে, বাম-কংগ্রেসের থেকে অনেকটাই এগিয়ে গেল বিজেপি