দ্য ওয়াল ব্যুরো : সোমবার এক ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে রিপাবলিক টিভির সম্পাদক অর্ণব গোস্বামীর বিরুদ্ধে 'রিম্যান্ড নোট' জমা দেয় মুম্বই পুলিশ। তাতে বলা হয়েছে, টিভি রেটিং এজেন্সির প্রাক্তন সিইও পার্থ দাশগুপ্ত অর্ণবের হয়ে টেলিভিশন রেটিং পয়েন্টে কারচুপি করতেন। সেজন্য পার্থবাবুকে ঘুষ দেওয়া হয়েছিল লক্ষ লক্ষ টাকা। গত সপ্তাহে গ্রেফতার হয়েছেন পার্থবাবু। পুলিশের বক্তব্য, রিপাবলিক টিভির দর্শকের সংখ্যা বাড়িয়ে দেখানোর জন্য একটি চক্র কাজ করত। পার্থবাবু ছিলেন তার পাণ্ডা।
পার্থবাবু বাদে টিভি রেটিং এজেন্সির আর এক কর্তার বিরুদ্ধেও ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তাঁর নাম রোমিল রামঘরিয়া। তিনি এজেন্সির সিওও ছিলেন। অভিযোগ, ঘুষ নিয়ে তিনি কয়েকটি চ্যানেলকে নানা গোপন তথ্য জানিয়ে দিতেন। রিপাবলিক টিভির হিন্দি ও ইংরেজি চ্যানেলের দর্শক বাড়িয়ে দেখাতে সাহায্য করতেন।
মুম্বই পুলিশের ক্রাইম ব্র্যাঞ্চ জানিয়েছে, পার্থবাবু তাঁর ক্ষমতার অপব্যবহার করে রিপাবলিক ভারত ও রিপাবলিক টিভির টিআরপি বাড়িয়ে দেখাতেন। অর্ণব গোস্বামী ও আরও কয়েকজনের সঙ্গে তাঁর যোগসাজশ ছিল। ২০১৩ সালের জুন মাস থেকে ২০১৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত পার্থবাবু এজেন্সির সিইও ছিলেন। এই সময় তিনি বার বার অর্ণবের থেকে টাকা নিয়েছেন। সেই টাকায় তিনি অনেক দামি জিনিসপত্র কিনতেন। রায়গড়ে পার্থবাবুর বাড়িতে তল্লাশি করে পুলিশ সেই জিনিসগুলি উদ্ধার করেছে। এখনও তদন্ত চলছে।
আগামী বুধবার অবধি পুলিশ হেপাজতে থাকবেন পার্থবাবু। রিপাবলিক টিভির রেটিং কেলেংকারিতে এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার হয়েছেন ১৫ জন। ডিসেম্বরের শুরুতে এআরজি আউটলিয়ার মিডিয়া প্রাইভেট লিমিটেডের সিইও বিকাশ খানচন্দানি গ্রেফতার হন। এআরজি মিডিয়াই রিপাবলিক টিভির মালিক। নভেম্বরে গ্রেফতার হয়েছিলেন রিপাবলিক টিভির ডিস্ট্রিবিউশন শাখার প্রধান ঘনশ্যাম সিং।
নভেম্বরের শুরুতে গ্রেফতার হন খোদ অর্ণব গোস্বামী। আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁকে ১৪ দিনের জেল হেপাজতে পাঠানো হয়। তালোজা জেলে যাওয়ার সময়ে প্রিজন ভ্যান থেকে অর্ণব চিৎকার করে দাবি করেন, তাঁর উপর অত্যাচার করা হয়েছে, তাঁর জীবন বিপন্ন। অর্ণবের স্ত্রী সাম্যব্রতা রায় গোস্বামী বিবৃতি দিয়ে বলেন, "আমার স্বামী চার রাত জেলে কাটিয়েছেন। একটা ব্ল্যাক আউট করা পুলিশ ভ্যানে তাঁকে তালোজা জেলে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি বারবার বলেছেন, তাঁর জীবন বিপন্ন। কেউ তাঁর কথায় কান দেয়নি।" জেলে অত্যাচারের প্রসঙ্গ তুলে অর্ণবের স্ত্রী বলেন, "আমার স্বামী উকিলের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন। জেলার তাঁকে মারধর করেছেন।