আইনজীবী মহলের একাংশ মনে করছেন, আদালতের এই অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা অর্জুনের পক্ষে বড় স্বস্তি হলেও তদন্তের গতিপ্রকৃতি যে এখনও অনিশ্চয়তার মধ্যেই রয়েছে, তা স্পষ্ট। পরবর্তী শুনানিতে নথি-প্রমাণ কতটা শক্তিশালী হয়, সেদিকেই এখন নজর।

অর্জুন সিং।
শেষ আপডেট: 27 November 2025 15:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গুলিকাণ্ডে বিজেপি নেতা অর্জুন সিংয়ের (Arjun Singh) বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগের মধ্যেই বড় স্বস্তি মিলল তাঁর। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) বিচারপতি জয় সেনগুপ্তার ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দিল—১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত অর্জুনকে গ্রেফতার করা যাবে না। ফলে এই সময়ের মধ্যে ব্যারাকপুরের বিজেপির নেতার বিরুদ্ধে বড় কোনও আইনি পদক্ষেপ করতে পারবে না রাজ্য পুলিশ।
গত সেপ্টেম্বর অর্জুন সিংয়ের বাসভবনের অদূরে জুট মিল এলাকার ভিতর ঘটে গিয়েছিল গুলির ঘটনা। রাজ্য সরকারের অভিযোগ, অর্জুনের ব্যক্তিগত রিভলভার থেকেই নাকি সেই গুলি ছোড়া হয়েছিল। অভিযোগের তীর সোজা অর্জুনের দিকে। রাজ্যের দাবি—তদন্তে উঠে এসেছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, যা বিজেপি নেতাকে ‘মূল অভিযুক্ত’-এর জায়গায় রাখে। তবে অর্জুন শিবির এই অভিযোগকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে বাতিল করে দিয়েছে শুরু থেকেই।
এই মামলায় আগের শুনানিতে আদালত ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত গ্রেফতারি থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা দিয়েছিল। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার মুখেই বৃহস্পতিবার ফের মামলার শুনানি হয়। রাজ্যের আইনজীবী কেস ডায়েরি পেশের জন্য কিছুটা অতিরিক্ত সময় চান। তাঁর বক্তব্য—তদন্তের নথিপত্র বিচারপতির সামনে যথাযথভাবে তুলে ধরতে আরও প্রস্তুতির প্রয়োজন।
শুনানি শেষে বিচারপতি সেনগুপ্ত জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে গ্রেফতারির প্রয়োজনীয়তা নেই। সেই কারণেই রক্ষাকবচের মেয়াদ বাড়িয়ে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হল। পাশাপাশি মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ ডিসেম্বর। ওই দিন কেস ডায়েরি জমা পড়বে এবং সেই ভিত্তিতে আদালত পরবর্তী নির্দেশ দেবে।
আইনজীবী মহলের একাংশ মনে করছেন, আদালতের এই অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা অর্জুনের পক্ষে বড় স্বস্তি হলেও তদন্তের গতিপ্রকৃতি যে এখনও অনিশ্চয়তার মধ্যেই রয়েছে, তা স্পষ্ট। পরবর্তী শুনানিতে নথি-প্রমাণ কতটা শক্তিশালী হয়, সেদিকেই এখন নজর।
অন্যদিকে বিজেপি শিবিরের দাবি, আদালতের এই নির্দেশ আবারও প্রমাণ করল—অর্জুনের বিরুদ্ধে মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তৃণমূল অবশ্য এই নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ, কারণ বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন।