দ্য ওয়াল ব্যুরো : শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পুনের সেরাম ইনস্টিটিউটে গিয়ে কোভিডের ভ্যাকসিন তৈরি সম্পর্কে খোঁজ নেন। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং ওষুধ কোম্পানি অ্যাস্ট্রাজেনেকা যৌথভাবে যে ভ্যাকসিন তৈরি করবে, তা ভারতের জন্য উৎপাদন করবে সেরাম ইনস্টিটিউট। সংস্থার প্রধান আদার পুনাওয়ালা এদিন মোদীর সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে তিনি বলেন, অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন জরুরি ভিত্তিতে ব্যবহারের জন্য আর দু'সপ্তাহের মধ্যে আবেদন করবে সেরাম।
আদার পুনাওয়ালার কথায়, "এখনও পর্যন্ত আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি ভারত সরকার কতগুলি ডোজ কিনবে। কিন্তু যতদূর ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে, ২০২১ সালের মধ্যে ৩০ থেকে ৪০ কোটি ডোজ কেনা হবে।" এর পরেই তিনি জানান, জরুরি ভিত্তিতে ভ্যাকসিন ব্যবহারের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আগামী দু'সপ্তাহের মধ্যে সেজন্য আবেদন জানানো হবে।
ভারতে করোনার প্রতিষেধক তৈরির কাজ কতদূর এগোচ্ছে, তা নিজে দেখার জন্য মোদী এদিন তিনটি শহরে ভ্যাকসিন হাব পরিদর্শন করেন। প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে জানানো হয়েছে, মোদী নিজে ভ্যাকসিন তৈরির প্রস্তুতি খতিয়ে দেখে স্থির করবেন, কীভাবে দেশের মানুষকে করোনার প্রতিষেধক দেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী এদিন প্রথমে যান গুজরাতে। সেখানে ওষুধ কোম্পানি জাইদাস ক্যাডিলার প্ল্যান্ট পরিদর্শন করেন। এরপর তিনি যান হায়দরাবাদে। সেখানে ভারত বায়ো-টেক সংস্থার প্ল্যান্টে কোভ্যাক্সিন তৈরি হচ্ছে। সবশেষে তিনি যান পুনের সেরাম ইনস্টিটিউটে। তাঁকে আদার পুনাওয়ালা বলেন, এখনও পর্যন্ত যথেষ্ট সংখ্যক মানুষের ওপরে অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন পরীক্ষা করা হয়েছে। এরপর ১৮ বছরের কমবয়সীদের দেহে ওই ভ্যাকসিন পরীক্ষা করা হবে। এখন প্রতি মাসে সেরাম পাঁচ থেকে ছয় কোটি ভ্যাকসিন তৈরি করতে পারে। জানুয়ারির পরে তারা মাসে ১০ কোটির বেশি ভ্যাকসিন তৈরি করতে পারবে।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের বুলেটিন অনুযায়ী, শুক্রবার দেশে নতুন করে ৪১ হাজার ৩২২ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর ফলে ২৮ নভেম্বর, শনিবার, সকাল ৮টা পর্যন্ত ভারতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৯৩ লাখ ৫১ হাজার ১০৯ জন।
বুলেটিন জানাচ্ছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে করোনা আক্রান্ত হয়ে ৪৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা ১ লাখ ৩৬ হাজার ২০০ জন। ভারতে করোনায় মৃত্যুহার ১.৪৬ শতাংশ।
স্বাস্থ্যমন্ত্রকের বুলেটিন জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছে উঠেছেন ৪১ হাজার ৪৫২ জন। ভারতে মোট সুস্থ হয়ে ওঠা ব্যক্তির সংখ্যা ৮৭ লাখ ৫৯ হাজার ৯৬৯ জন। এই মুহূর্তে দেশে সুস্থতার হার ৯৩.৬৮ শতাংশ। অর্থাৎ এই মুহূর্তে দেশে কোভিড অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যা ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৯৪০ জন। মোট আক্রান্তের ৪.৮৭ শতাংশ রোগী এই মুহূর্তে অ্যাকটিভ রয়েছেন।