
অনুব্রত মণ্ডল ও কাজল শেখ।
শেষ আপডেট: 1 March 2025 13:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বীরভূম রয়েছে বীরভূমেই (Anubrata Mondal vs Kajal Sheikh)!
গত বৃহস্পতিবার নেতাজি ইনডোরের সভা থেকে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বীরভূমের 'বাঘ' অনুব্রত মণ্ডলকে গুরু দায়িত্ব সঁপে সকলকে নিয়ে চলার বার্তা দিয়েছিলেন। স্থানীয় সূত্রের খবর, তারপরও পরিস্থিতি বিশেষ বদলায়নি। কোথাও অনুব্রত মণ্ডলের অনুগামীরা কাজল শেখের গোষ্ঠীকে 'হিসেব' বোঝাচ্ছেন তো কোথাও কাজল অনুগামীরা কেষ্ট মণ্ডলের অনুগামীদের 'জবাব' দিচ্ছেন।
শুক্রবারই তেমনই একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের শোরগোল তৈরি হয়েছে বীরভূমের রাজনৈতিক মহলে। সূত্রের খবর, শুক্রবার পুরন্দরপুরে তৃণমূলের দলীয় একটি সভায় বক্তব্য রাখছিলেন কেষ্ট অনুগামী হিসেবে পরিচিত পুরন্দরপুর অঞ্চলের সভাপতি বলরাম বাগদি।
গত বৃহস্পতিবার নেতাজি ইন্ডোরের সভা থেকে সারা রাজ্যের ভোটার লিস্টের জন্য কমিটি গড়ে দিলেও বীরভূমের ক্ষেত্রে কোনও কমিটি গড়েননি দলনেত্রী। মমতা বলেন, "বীরভূমকে রাখিনি, কারণ ওদের কোর কমিটি রয়েছে। ওরা ওদের মতো করে করবে।" এরপরই অনুব্রত মণ্ডলের উদ্দেশে মমতা বলেন, "কেষ্ট কাউকে কিন্তু বাদ দেওয়া যাবে না। কাজলকেও নিতে হবে। আশিসদা আর শতাব্দীকে ডেকে নেবে।"
ওই প্রসঙ্গ টেনে নিজের বক্তৃতায় অনুব্রতর গুনগান করতে শুরু করেন বলরাম। সঙ্গে সঙ্গে ইশারায় তাঁকে থামতে বলেন দলের পুরন্দরপুরের ব্লক সভাপতি নুরুল ইসলাম। তাতেও কাজ না হওয়ায় মুখেও নির্দেশ দেন।
পরে এ বিষযে ক্ষোভ উগড়ে কেষ্ট অনুগামী হিসেবে পরিচিত পুরন্দরপুর অঞ্চলের সভাপতি বলরাম বাগদি বলেন, "দলনেত্রী সকলকে নিয়ে চলার কথা বলছেন। অথচ কাজল শেখ ও তার অনুগামীরা নিজেদের ঢাক পেটাতেই ব্যস্ত। এ জিনিস চলতে পারে না। আমি কেষ্টদার নাম নিয়েঠচি বলে ওদের গায়ে জ্বালা ধরছে।"
পাল্টা হিসেবে ব্লক সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেন, "দিদি অনুব্রতকে মনে করিয়েছেন যে সকলকে নিয়ে চলতে হবে। অঞ্চল সভাপতি ভুল ব্যাখ্যা করছিলেন। এতে দলের কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। তাই থামতে বলেছি।"
ঘটনার জেরে পুরন্দরপুরে নতুন করে দুই গোষ্ঠীর অনুগামীদের মধ্যে কোন্দলের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সূত্রের খবর, শুধু পুরন্দরপুর নয় সমগ্র জেলাজুড়েই কেষ্ট বনাম কাজল অনুগামীদের কোন্দল অব্যাহত। দলের এক জেলা নেতার কথায়, "দিদি সব জানেন। হয়তো নজরে রাখছেন। বাড়াবাড়ি করলে নিশ্চয়ই পদক্ষেপ করবেন।"
বস্তুত, নেতাজি ইনডোরের সভা থেকে গোষ্ঠী রাজনীতি প্রসঙ্গেও কড়া বার্তা শুনিয়েছেন দলনেত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাফ কথা, "আমি ফেসবুক, টুইটার সব দেখি। অনেকে বলেন আমি তৃণমূল করি না, প্রতীক চিনি না, আমি অমুক দাদার রাজনীতি করি। এসব আমি নজর করি। প্রতীক না থাকলে আপনি কাউন্সিলর, বিধায়ক, সাংসদ কিছুই হতে পারতেন না। আপনার যদি কেউ নেতা হয় তাহলে সেটা হল জোড়াফুল।"