ডেডলাইন পেরিয়ে গিয়েছে। এখনও তাঁর দেখা নেই। যদিও অনুব্রতর আইনজীবীরা ইতিমধ্যেই থানায় পৌঁছেছেন। তৃণমূল সূত্রে খবর বেলা দুটো নাগাদ এসডিপিও অফিসে হাজিরা দিতে পারেন কেষ্ট।

অনুব্রত মণ্ডল
শেষ আপডেট: 1 June 2025 11:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুলিশ অফিসারকে 'কুকথা'। শনিবার অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে নিজে হাজিরা না দিয়ে আইনজীবীদের এসডিপিও (SDPO) অফিসে পাঠিয়েছিলেন অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal)। সময় চেয়ে নেন পুলিশের (POlice) কাছে। পুলিশ একদিন সময়ও দিয়ে দেয়। বলে দেয় রোববার বীরভূমের তৃণমূল নেতাকে (Birbhum TMC Leader) হাজিরা দিতেই হবে। তাও সকাল ১১টার মধ্যে। কিন্তু সেই ডেডলাইন পেরিয়ে গিয়েছে। এখনও তাঁর দেখা নেই। যদিও অনুব্রতর আইনজীবীরা ইতিমধ্যেই থানায় পৌঁছেছেন। তৃণমূল সূত্রে খবর বেলা দুটো নাগাদ এসডিপিও অফিসে হাজিরা দিতে পারেন কেষ্ট।
বোলপুর থানার আইসি (Bolpur PS IC) লিটন হালদারকে (Liton Halder) ফোনে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল দেওয়া এবং অশ্লীল কথাবার্তা বলার অভিযোগ উঠেছে অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে। সেই অডিও ভাইরাল হতেই রাজ্য-রাজনীতিতে হইচই শুরু হয়। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে তাঁকে এই ঘটনায় ৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছিল। অনুব্রত অবশ্য অল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষমা চেয়ে নেন। তবে পুলিশও তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে। সেই প্রেক্ষিতেই শনিবার থানায় তলব করা হয়েছিল অনুব্রতকে। অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে অনুব্রত যাননি। সময় চেয়ে নেন। পুলিশও ২৪ ঘণ্টা সময় দিয়ে বলে ১১টার মধ্যে দেখা করতে হবে তাঁকে। তৃণমূল সূত্রে খবর সকাল সাড়ে ১০টার পরে জানা যায়, কেষ্ট আজ যেতে পারেন থানায়। তবে বেলা দুটো নাগাদ। কেষ্টর এক অনুগামী জানিয়েছেন, দাদার শরীর খুব একটা ভাল নেই। তবে দুপুরের দিকে তিনি হাজিরা দিতে পারেন।
রোববার যদি অনুব্রত মণ্ডল হাজিরা না দেন তাহলে কি পুলিশ কঠোর পদক্ষেপ করবে? এ ব্যাপারে পুলিশের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও জানা যায়নি। তবে পুলিশ সূত্রের খবর, আরও একবার নোটিস দেওয়া হবে। তার মধ্যে হাজিরা না দিলে কঠোর পদক্ষেপ করা হতে পারে। তবে তৃণমূল নেতার ঘনিষ্ট মহল সূত্রের খবর, পুলিশের তলবে অনুব্রত নাও সাড়া দিতে পারেন। পরিবর্তে সোমবার জেলা আদালত বা কলকাতা হাইকোর্টে জামিনের আবেদন জানাতে পারেন।
বৃহস্পতিবার সন্ধে থেকে সোশ্যাল মাধ্যমে একটি অডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়। তাতে শোনা যায় বোলপুর থানার আইসি লিটন হালদারকে অশ্রাব্য ভাষায় গালমন্দ করছেন বীরভূম জেলার প্রাক্তন জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। সেই গালমন্দের বহর এমনই যে কান পাতা দায়। শুধু সেই পুলিশ অফিসার নয়, ফোনে গালমন্দ করার সময়ে তাঁর স্ত্রী ও মা সম্পর্কে নোংরা কথা বলেন অনুব্রত মণ্ডল। যা শুনে পুলিশ ও প্রশাসনের অন্দর আন্দোলিত হয়ে যায়। পরে নবান্নের নির্দেশে অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে পুলিশ।