বোলপুর থানার আইসিকে গালিগালাজ ও হুমকির অভিযোগ বীরভূমের দাপুটে তৃণমূল নেতা (Birbhum TMC Leader) অনুব্রত মণ্ডল। সেই অডিও ভাইরাল হতেই রাজ্য-রাজনীতিতে হইচই শুরু হয়। তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে পুলিশ।

অনুব্রত মণ্ডল (ছবি-গুগল)
শেষ আপডেট: 1 June 2025 17:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবারের পর রবিবারও হাজিরা এড়িয়ে গেলেন বীরভূমের তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal)। গুরুতর অসুস্থ তিনি, চিকিৎসকদের পরামর্শে আপাতত কয়েকদিন বাড়িতেই বিশ্রামে থাকবেন তিনি। জানিয়েছেন তৃণমূল নেতার আইনজীবী।
বোলপুর থানার আইসিকে গালিগালাজ ও হুমকির অভিযোগ বীরভূমের দাপুটে তৃণমূল নেতা (Birbhum TMC Leader) অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে। সেই অডিও ভাইরাল হতেই রাজ্য-রাজনীতিতে হইচই শুরু হয়। তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে পুলিশ। সেই প্রেক্ষিতেই থানায় হাজিরা দিতে বলা হয় তাঁকে। শনিবার অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে নিজে হাজিরা না দিয়ে আইনজীবীদের এসডিপিও (SDPO) অফিসে পাঠিয়েছিলেন অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal)। সময় চেয়ে নেন পুলিশের (Police) কাছে। পুলিশ একদিন সময়ও দিয়ে দেয়।
রবিবার সকাল ১১ টার মধ্যে থানায় হাজিরা দিতে বলা হয়েছে অনুব্রতকে। কিন্তু ডেডলাইন পেরিয়ে গেলেও দেখা মেলেনি তাঁর। পৌঁছে যান অনুব্রতর আইনজীবীরা।
অনুব্রত মণ্ডলের আইনজীবী বলেন, 'তদন্তকারী অফিসারদের জানিয়েছি যে অনুব্রত মণ্ডল অসুস্থ। সরকারি হাসপাতাল থেকে নেওয়া মেডিক্যাল সার্টিফিকেট জমা দেওয়া হয়েছে। একাধিক শারীরিক সমস্যা রয়েছে তাঁর। নানা রোগের ওষুধও খান।' ভাইরাল-অডিও ক্লিপকাণ্ডটিকে সম্পূর্ণভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। 'কেষ্টদা'কে ফাঁসানোর চক্রান্ত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন আইনজীবী। চিকিৎসক জানিয়েছেন, অন্তত পাঁচদিন বিশ্রাম প্রয়োজন তাঁর।
এরইমধ্যে এক নয়া বিতর্ক দানা বেঁধেছে। অনুব্রত মণ্ডল নয়, পুলিশ অফিসারকে গালিগালাজ করা অডিওটি আসলে এআই (AI) দিয়ে তৈরি, আর এসবের নেপথ্যে রয়েছে বিজেপি, এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেছেন কেষ্ট ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা। এই একই সন্দেহের কথা জানান কেষ্টর আইনজীবী। বলেন, 'দুজনের মধ্যে কথোপকথন হলে কীভাবে ভাইরাল হল? কে করল? একজন পুলিশ আধিকারিকের কল রেকর্ডিং ভাইরাল হয়ে যাচ্ছে, তদন্তকারীদের বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত।'
পুলিশের তরফে যে দ্বিতীয় নোটিস অনুব্রত মণ্ডলকে দেওয়া হয়েছিল, সেখানে উল্লেখ করা হয়, আজ হাজিরা দিতেই হবে তাঁকে। কিন্তু অসুস্থতার কারণে তো তাঁকে বাড়ি থেকেই বেরোতে বারণ করা হয়েছে, তাহলে হাজিরা দেবেন কীভাবে? এবার কি পুলিশ কঠোর পদক্ষেপ করবে? এ ব্যাপারে তাদের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও জানা যায়নি। তবে পুলিশ সূত্রের খবর, আরও একবার নোটিস দেওয়া হবে। তার মধ্যে হাজিরা না দিলে কঠোর পদক্ষেপ করা হতে পারে। তবে তৃণমূল নেতার ঘনিষ্ট মহল সূত্রের খবর, পুলিশের তলবে অনুব্রত নাও সাড়া দিতে পারেন। পরিবর্তে সোমবার জেলা আদালত বা কলকাতা হাইকোর্টে জামিনের আবেদন জানাতে পারেন।
বৃহস্পতিবার সন্ধে থেকে সোশ্যাল মাধ্যমে একটি অডিও ক্লিপ ভাইরাল (Viral Audio Clip) হয়। তাতে শোনা যায় বোলপুর থানার আইসি লিটন হালদারকে অশ্রাব্য ভাষায় গালমন্দ করছেন বীরভূম জেলার প্রাক্তন জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। সেই গালমন্দের বহর এমনই যে কান পাতা দায়। শুধু সেই পুলিশ অফিসার নয়, ফোনে গালমন্দ করার সময়ে তাঁর স্ত্রী ও মা সম্পর্কে নোংরা কথা বলেন অনুব্রত মণ্ডল। যা শুনে পুলিশ ও প্রশাসনের অন্দর আন্দোলিত হয়ে যায়। পরে নবান্নের নির্দেশে অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে পুলিশ।