
শেষ আপডেট: 25 August 2023 12:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভাল নেই আন্টার্কটিকা (Antarctica)।
হিমবাহের সাম্রাজ্যে ঘোরতর বিপদ ঘনিয়ে এসেছে।
গত ৪০ বছর ধরে গবেষণার পর পরিবেশবিজ্ঞানীরা বলছেন, আন্টার্কটিকায় (Antarctica) ঘোর দুর্দিন আসছে। বিশাল বিশাল সব হিমবাহ ভেঙে পড়ছে, বরফের রাজ্যের প্রাণীদের মৃত্যু হচ্ছে, সমুদ্রে ভাসমান বরফের চাঁই উধাও হয়ে যাচ্ছে। শুধু তাই নয় ম্যাজেস্টিক প্রজাতির পেঙ্গুইনরা বিলুপ্তপ্রায়। পেঙ্গুইনদের এক একটা কলোনি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। আগামী আরও ৪০ বছরে পৃথিবীর কুমেরুর বাস্তুতন্ত্রই বদলে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, আন্টার্কটিকা থেকে ২৫০ ট্রিলিয়ান টনের মতো ঠান্ডা, অক্সিজেন সমৃদ্ধ জলের প্রবাহ (Ocean Current) ভারত মহাসাগর, প্রশান্ত মহাসাগর ও আটলান্টিক সাগরের দিকে প্রবাহিত হয়। আন্টার্কটিকার (Antarctica) তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও হিমবাহ গলনের কারণে এই অক্সিজেন সমৃদ্ধ জলের স্রোতের পরিমাণ কমছে। ওই জলের প্রবাহ অন্য সাগর-মহাসাগর অবধি যেতেই পারছে না। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, একটা সময় আসবে যখন পৃথিবীর সমস্ত সাগর-মহাসাগরের ব্যালান্সটাই বদলে যাবে। বিশ্ব উষ্ণায়ণ ও তার জেরে জলবায়ু বদলের কারণে সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রে বড় প্রভাব পড়বে।

আন্টার্কটিকায় (Antarctica) হাজার হাজার পেঙ্গুইনের মৃত্যু নিয়েও চিন্তায় পরিবেশবিজ্ঞানীরা। উরুগুয়ের পরিবেশ মন্ত্রকের এক আধিকারিক কারমেন লেজাগোয়েন জানিয়েছেন, বেশিরভাগ পেঙ্গুইনের শরীরেই কোনও খাবার পাওয়া যায়নি। মৃতদেহ পরীক্ষা করে বোঝা গেছে, তাদের কোনও অসুখের কারণে মৃত্যু হয়নি। মৃত্যুর কারণ অনাহার। দিনের পর দিন না খেতে পেয়ে, ধুঁকতে ধুঁকতে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে হাজার হাজার পেঙ্গুইনের। সংখ্যাটা এখনও ২ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।
আরও পড়ুন: মরচে ধরেছে চাঁদে? ক্ষয়ে যাচ্ছে দুই মেরু, কী দেখে এমন ভয়ঙ্কর খবর পাঠিয়েছিল চন্দ্রযান-১
আন্টার্কটিকার (Antarctica) ‘নর্থ রিফ্ট’ নিয়ে বিজ্ঞানী, পরিবেশবিদদের চিন্তা ছিল আগেই। কারণ, গত কয়েক বছর ধরে আন্টর্কটিকায় যেভাবে হিমবাহ ভেঙে গলে যাচ্ছে তাতে ঘুম উড়েছে বিশ্বের তাবড় পরিবেশবিদদের। পৃথিবীর তাপ বাড়ছে, মেরুপ্রদেশে বরফ গলছে, সমুদ্রের জল বাড়ছে, জলবায়ুর বদল আসন্ন সর্বনাশের খাঁড়া ঝুলিয়েই রেখেছে। তার মধ্যেই নর্থ রিফ্টের ওই পাহাড়প্রমাণ বিশাল বরফের চাঁই ভেঙে পড়াকে মোটেই ভাল চোখে দেখছেন না পরিবেশ বিজ্ঞানীরা। আন্টার্কটিকার বরফের বিশাল বিশাল পুরু চাঙড়গুলির ইতিমধ্য়েই ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। ভাঙলেই দ্রুত বরফ গলতে শুরু করবে আন্টার্কটিকার (Climate Change)। চিড় ধরতে শুরু করেছে আন্টার্কটিকার বিশাল বিশাল গ্লেসিয়ারগুলিতেও। পরিণতিতে আর ১০০ বছরে অন্তত ১০ ফুট উঠে আসতে পারে সমুদ্রের জল-স্তর। তাতে বহু দেশের বহু শহর তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা।