Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
রহস্য আর মনের অন্ধকারে ঢুকে পড়ল ‘ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড’! টিজারে চমকজিৎ-প্রযোজক দ্বন্দ্বে আটকে মুক্তি! ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’-এর মুক্তি বিশ বাঁও জলে?কিউআর কোড ছড়িয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ! কীভাবে রাতারাতি নয়ডার বিক্ষোভের প্ল্যানিং হল, কারা দিল উস্কানি?নয়ডা বিক্ষোভ সামাল দিতে 'মাস্টারস্ট্রোক' যোগী সরকারের! শ্রমিকদের বেতন বাড়ল ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত Jeet: ভুয়ো প্রচার! ভোট আবহে গায়ে রাজনীতির রঙ লাগতেই সরব জিৎ৪ হাজার থেকে নিমেষে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ফলোয়ার! এক স্পেলেই সোশ্যাল মিডিয়ার নতুন তারকা প্রফুল্লসামনে কাজল শেখ, মমতা কথা শুরু করতেই হাত নেড়ে বিরক্তি প্রকাশ অনুব্রতর! সিউড়িতে কী ঘটলEPL: নায়ক ওকাফর! ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ৪৫ বছরের অভিশাপ মুছল লিডস, রক্ষণের ভুলে ডুবল ম্যান ইউAsha Bhosle: 'এত ভালবাসার সবটাই তোমার...,' ঠাকুমার স্মৃতি আঁকড়ে আবেগঘন পোস্ট নাতনি জানাইয়েরSupreme Court DA: ডিএ নিয়ে সময়সীমা বৃদ্ধির আর্জি, বুধবার রাজ্যের মামলা শুনবে সুপ্রিম কোর্ট

১০ কোটি বছর পরে জাগল আণুবীক্ষণিক জীবেরা, প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে ঘুমিয়ে ছিল সমুদ্রের গভীরে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: যেন কুম্ভকর্ণের ঘুম। সময়টা ছ’মাস নয়, প্রায় ১০ কোটি বছর। ঘুম ভেঙেছে তাদের। আর ঘুম ভেঙেই খাই খাই শুরু করেছে। প্রচণ্ড খিদে তাদের। এতদিন যেন কেউ জোর করে ঘুম পাড়িয়ে রেখেছিল। জেগে উঠেই ছটফট করতে শুরু করেছে। তারা আণুবীক্ষণিক জীব

১০ কোটি বছর পরে জাগল আণুবীক্ষণিক জীবেরা, প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে ঘুমিয়ে ছিল সমুদ্রের গভীরে

শেষ আপডেট: 28 July 2020 18:30

দ্য ওয়াল ব্যুরো: যেন কুম্ভকর্ণের ঘুম। সময়টা ছ’মাস নয়, প্রায় ১০ কোটি বছর। ঘুম ভেঙেছে তাদের। আর ঘুম ভেঙেই খাই খাই শুরু করেছে। প্রচণ্ড খিদে তাদের। এতদিন যেন কেউ জোর করে ঘুম পাড়িয়ে রেখেছিল। জেগে উঠেই ছটফট করতে শুরু করেছে। তারা আণুবীক্ষণিক জীব। ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, প্রোটোজোয়া, শৈবাল-ছত্রাক, আর্কিয়া সবই আছে। সংখ্যায় লক্ষাধিক। এক একজনের বয়স দশ কোটি বছরেরও বেশি। প্রাগৈতিহাসিক যুগের এই অণুজীবদের খুঁজে পেয়েছেন জাপানের বিজ্ঞানীরা। সমুদ্রের একেবারে তলদেশে যেখানে খাবার, অক্সিজেনের অভাব সেখানে কীভাবে কোটি কোটি বছর ধরে বেঁচে রইল আণুবীক্ষণিক জীবেরা সেটাই আশ্চর্যের ব্যাপার। কেউ মৃত নয়, শুধু সুপ্ত হয়ে ছিল সমুদ্রের গভীরে। নিষ্ক্রিয় হয়ে ছিল। তুলে আনতেই তাদের ঘুম ভেঙেছে। ফের সজীব হয়ে উঠেছে। https://twitter.com/NatureComms/status/1288140426738884609 ‘মাইক্রোবিয়াল লাইফ‘ নিয়ে বড় গবেষণা চলছে জাপানে। সেই ২০১০ সাল থেকেই সমুদ্রের গভীরে হানা দিয়ে আণুবীক্ষণিক জীবদের খোঁজ করছেন বিজ্ঞানীরা। ‘জাপান এজেন্সি ফর মেরিন-আর্থ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’ (JAMSTEC)-র সমুদ্রবিজ্ঞানীরা এই আণুবীক্ষণিক জীবদের খোঁজ পেয়েছেন প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সমুদ্রের গভীরে। এই গবেষণায় জাপানের এজেন্সির সঙ্গে রয়েছে আমেরিকার ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভান্সড ইন্ডাস্ট্রিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’, জাপানের কোচি ইউনিভার্সিটি ও মেরিন ওয়ার্কস। ‘নেচার কমিউনিকেশন’ সায়েন্স জার্নালে এই গবেষণার রিপোর্ট প্রকাশিত হয় গতকাল, মঙ্গলবার। [caption id="attachment_244974" align="alignnone" width="624"] ইউকি মোরোনোর সঙ্গে অন্য বিজ্ঞানীরা[/caption] বিজ্ঞানীরা বলছেন, সমুদ্রের তলদেশে মাটির সঙ্গে মিশে ছিল এই আণুবীক্ষণিক জীবরা। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৭০০ থেকে ৫৭০০ মিটার গভীরে। জাপান এজেন্সি অব মেরিন আর্থের গবেষক ইউকি মোরোনো বলেছেন, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যেখান থেকে ওই জীবদের খোঁজ মিলেছে সেখানে খাবার, অক্সিজেন বলতে কিছুই নেই। আর আণুবীক্ষণিক জীবরা শক্তিতেই বাঁচে। তাই কীভাবে এত বছর ধরে তারা জীবিত ছিল সেটাই আশ্চর্যের ব্যাপার। গবেষক ইউকি বলছেন, ল্যাবরেটিতে নিয়ে আসতেই সক্রিয় হয়ে ওঠে ব্যাকটেরিয়া, প্রোটোজোয়া, আর্কিয়ারা। খাবার দেওয়া হলে গপ গপ করে খেয়ে বিভাজিত হতেও শুরু করে দেয়। গবেষকের বক্তব্য, এই আণুবীক্ষণিক জীবদের সক্রিয়তা এতটুকু নষ্ট হয়নি। শক্তি পেয়েই আবার তারা আগের অবস্থায় ফিরে গেছে। দশ কোটি বছরের এই সময় যেন কিছুই নয় তাদের কাছে। পরীক্ষা করে দেখা গেছে, তারা শুধু সুপ্ত হয়ে ছিল এই সময়টা। https://www.youtube.com/watch?time_continue=240&v=fUCai1MHHNg&feature=emb_logo আণুবীক্ষণিক জীবদের এখন কাচের কন্টেনারে রাখা হয়েছে। খেতে দেওয়া হয়েছে অ্যামোনিয়া। এক লক্ষেরও বেশি আণুবীক্ষণিক জীবের খোঁজ মিলেছিল সমুদ্রের তলায়। তাদের মধ্যে ১০০০ রকমের ব্যাকটেরিয়া রয়েছে। আলফাপ্রোটিওব্যাকটেরিয়া ও গামাপ্রোটিওব্যাকটেরিয়া গ্রুপের ব্যাকটেরিয়ারা ছাড়াও প্রোটোজোয়া, আর্কিয়া, শৈবালও উদ্ধার হয়েছে সমুদ্রের তলদেশ থেকে। গবেষকরা বলছেন, যবে থেকে এই আণুবীক্ষণিক জীবদের তুলে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে তার ৬৮ দিনের মাথায় এদের সংখ্যা প্রায় চারগুণ বেড়ে গেছে। এই জীবদের ডিএনএ-র বিন্যাস করা হচ্ছে। প্রাগৈতিহাসিক যুগের এই আণুবীক্ষণিক জীবদের জিনের গঠন বিন্যাস বার করলে সেই সময়কার পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ও জীববৈচিত্র্যের আরও বিস্তারিত খোঁজ পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

```