
শেষ আপডেট: 28 July 2020 18:30
ইউকি মোরোনোর সঙ্গে অন্য বিজ্ঞানীরা[/caption]
বিজ্ঞানীরা বলছেন, সমুদ্রের তলদেশে মাটির সঙ্গে মিশে ছিল এই আণুবীক্ষণিক জীবরা। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৭০০ থেকে ৫৭০০ মিটার গভীরে। জাপান এজেন্সি অব মেরিন আর্থের গবেষক ইউকি মোরোনো বলেছেন, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যেখান থেকে ওই জীবদের খোঁজ মিলেছে সেখানে খাবার, অক্সিজেন বলতে কিছুই নেই। আর আণুবীক্ষণিক জীবরা শক্তিতেই বাঁচে। তাই কীভাবে এত বছর ধরে তারা জীবিত ছিল সেটাই আশ্চর্যের ব্যাপার।
গবেষক ইউকি বলছেন, ল্যাবরেটিতে নিয়ে আসতেই সক্রিয় হয়ে ওঠে ব্যাকটেরিয়া, প্রোটোজোয়া, আর্কিয়ারা। খাবার দেওয়া হলে গপ গপ করে খেয়ে বিভাজিত হতেও শুরু করে দেয়। গবেষকের বক্তব্য, এই আণুবীক্ষণিক জীবদের সক্রিয়তা এতটুকু নষ্ট হয়নি। শক্তি পেয়েই আবার তারা আগের অবস্থায় ফিরে গেছে। দশ কোটি বছরের এই সময় যেন কিছুই নয় তাদের কাছে। পরীক্ষা করে দেখা গেছে, তারা শুধু সুপ্ত হয়ে ছিল এই সময়টা।
https://www.youtube.com/watch?time_continue=240&v=fUCai1MHHNg&feature=emb_logo
আণুবীক্ষণিক জীবদের এখন কাচের কন্টেনারে রাখা হয়েছে। খেতে দেওয়া হয়েছে অ্যামোনিয়া। এক লক্ষেরও বেশি আণুবীক্ষণিক জীবের খোঁজ মিলেছিল সমুদ্রের তলায়। তাদের মধ্যে ১০০০ রকমের ব্যাকটেরিয়া রয়েছে। আলফাপ্রোটিওব্যাকটেরিয়া ও গামাপ্রোটিওব্যাকটেরিয়া গ্রুপের ব্যাকটেরিয়ারা ছাড়াও প্রোটোজোয়া, আর্কিয়া, শৈবালও উদ্ধার হয়েছে সমুদ্রের তলদেশ থেকে। গবেষকরা বলছেন, যবে থেকে এই আণুবীক্ষণিক জীবদের তুলে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে তার ৬৮ দিনের মাথায় এদের সংখ্যা প্রায় চারগুণ বেড়ে গেছে। এই জীবদের ডিএনএ-র বিন্যাস করা হচ্ছে। প্রাগৈতিহাসিক যুগের এই আণুবীক্ষণিক জীবদের জিনের গঠন বিন্যাস বার করলে সেই সময়কার পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ও জীববৈচিত্র্যের আরও বিস্তারিত খোঁজ পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।