নিজের ছেলেকে বলি দিলেই মিলবে সিদ্ধি, চিঠি লিখে পুলিশের অনুমতি চাইল তান্ত্রিক বাবা
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মানুষ বলি দিতে পুলিশের অনুমতি? এমন তাজ্জব কথা শুনেছেন কখনও? আবার সেই মানুষ যদি হয় নিজেরই সন্তান তাহলে? এমনই অবিশ্বাস্য ঘটনাই ঘটেছে বিহারে বেগুসরাইতে।
নিজের ছেলেকে বলি দিলেই কাটবে সকল বাধা। তান্ত্রিক উপাসনাতেও মিলবে সিদ্ধি।
শেষ আপডেট: 1 February 2019 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মানুষ বলি দিতে পুলিশের অনুমতি? এমন তাজ্জব কথা শুনেছেন কখনও? আবার সেই মানুষ যদি হয় নিজেরই সন্তান তাহলে? এমনই অবিশ্বাস্য ঘটনাই ঘটেছে বিহারে বেগুসরাইতে।
নিজের ছেলেকে বলি দিলেই কাটবে সকল বাধা। তান্ত্রিক উপাসনাতেও মিলবে সিদ্ধি। পুলিশকে চিঠি লিখে এই কথাই জানিয়েছেন তান্ত্রিক বাবা। দিনক্ষণ জানিয়ে ছেলেকে বলি দেওয়ার জন্য চেয়েছেন পুলিশের অনুমতিও।
এমন আজব চিঠি পেয়েই তোলপাড় শুরু হয়ে গেছে বেগুসরাইয়ের মফুসিল থানায়। সাব ডিভিশনাল অফিসারকে (সদর) উল্লেখ করেই চিঠির আগাগোড়া লিখেছেন ওই ব্যক্তি। সেই চিঠি এখন ঘুরছে পুলিশ কর্তাদের হাতে হাতে। চিঠির বয়ান ভাইরালও হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। এসডিও সঞ্জীব চৌধুরী জানিয়েছেন, চিঠি যদিও তিনি নিজে পড়েননি, তবে চিঠির ঠিকানা দেখে ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করা গেছে। তাঁকে অবিলম্বে গ্রেফতার করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
কী লেখা রয়েছে সেই চিঠিতে? ব্যক্তি লিখেছেন, তন্ত্রসাধনা করেন তিনি। নিজের মন্দির বানানোর জন্য টাকা যোগাড় করছেন। সব কাজ যাতে দ্রুত ও সুষ্ঠু ভাবে হয় তার জন্য বলি দেওয়ার প্রয়োজন। তান্ত্রিক মতে সর্বপ্রথম নিজের ছেলেকেই বলি দিতে চান। এবং মানুষ বলি যে কোনও অংশেই পাপ কাজ নয় তার বিবরণ দিয়ে তাই আগেভাগেই পুলিশের অনুমতি চেয়ে রাখছেন।
আরও পড়ুন: আমেরিকায় আটক ১২৯ ভারতীয় পড়ুয়া, ফিরিয়ে আনতে তৎপর বিদেশ মন্ত্রক
পুলিশ জানিয়েছে, ওই ব্যক্তির নাম সুরেন্দ্র প্রসাদ সিংহ। মোহনপুর পাহাড়পুর গ্রামের বাসিন্দা। ঝাড় ফুঁক, তন্ত্র সাধনার জন্য এলাকায় তার নাম রয়েছে। স্থানীয়রা ডাকেন ‘পাগলা বাবা।’ প্রায়ই নাকি তাঁকে নানা আজগুবি কাজ করতে দেখা যায়। কখনও নগ্ন হয়েই রাস্তায় বেরিয়ে পড়েন, আবার কখনও মাথায় খুলি চাপিয়ে মন্ত্র আওড়াতে আওড়াতে রাস্তা দিয়ে হাঁটেন। এলাকার লোকজন তাই বিশেষ তাঁর কাছ ঘেঁষেন না।
পুলিশের অনুমতি ছাড়াও তান্ত্রিক সুরেন্দ্র সংবাদ মাধ্যমের কাছে একটা ভিডিও ক্লিপও পাঠিয়ে দিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, ‘‘তন্ত্র মতে মানুষ বলি মোটেও খারাপ কাজ নয়। কামাখ্যায় আমি বলি দিতে যাচ্ছি। আমার ছেলে পেশায় ইঞ্জিনিয়ার। ও এইসব বিশ্বাস করে না, মন্দির তৈরির জন্য টাকাও দিতে রাজি নয়। তাই ছেলেকেই আগে মায়ের কাছে উৎসর্গ করবো।’’
‘পাগলা বাবা’র দ্রুত গ্রেফতারির আর্জি জানিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, যে নিজের ছেলেকে বলি দিতে চাইছে, তার পরবর্তী শিকার যে এলাকার বাকি শিশুরা, তাতে কোনও সন্দেহই নেই।