জীবন ও আত্মজীবনী সাহিত্য নিয়ে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে অনুষ্ঠিত হল একদিনের আন্তর্জাতিক আলোচনাসভা।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 5 February 2026 23:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মানুষ শুধু বেঁচে থাকে না, সে তার জীবনকে মনে রাখে, বোঝে, ব্যাখ্যা করে। আর এই বোঝা ও ব্যাখ্যার মধ্যেই জন্ম নেয় আত্মজীবন। সাহিত্যে জীবন ও আত্মজীবন বিষয়কে কেন্দ্র করে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের জার্নালিজম সার্টিফিকেট কোর্সের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হল একদিনের আন্তর্জাতিক আলোচনাসভা। এই আলোচনাসভায় জীবন ও আত্মজীবন বিষয়টি ঘিরে উঠে আসে এমনই বহুস্তরীয় ভাবনা, যেখানে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা মিশে গেল সাহিত্য ও সময়চেতনার সঙ্গে।
সভার উদ্বোধন করে প্রবাসী কথাসাহিত্যিক নবকুমার বসু বলেন, 'সাহিত্যে আত্মজীবনী একটা গুলগপ্পো। বিয়ের পর তিনটে প্রেম করবে, সেটা আত্মজীবনীতে থাকবে? বউয়ের হাতে ঝাঁটা খাওয়ার কথাও কী আত্মজীবনীতে থাকবে?' এই প্রশ্ন উসকে দিয়ে তিনি আরও বলেন, 'বিদেশি সাহিত্যেও জীবননির্ভর সাহিত্য-সৃষ্টি খুবই কম হয়েছে। রামকিঙ্কর বেইজের জীবন অবলম্বনে সমরেশ বসু ‘দেখি নাই ফিরে’-তে চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু সেটি শেষ হয়নি। এ ধরনের সাহিত্য রচনা খুবই কষ্টসাধ্য ও সময় সাপেক্ষ। অনেকের এই ধরনের লেখার দায়ও নেই। ইংল্যান্ডে থেকেও আমি এই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।'
সাহিত্যে আত্মজীবনী কি প্রকৃতপক্ষেই লেখকের জীবনী? তাই যদি হয় তবে তো রবীন্দ্রনাথের কথা অসত্য প্রমাণিত হয়, ‘কবিরে পাবে না তার জীবনচরিতে।’

জানা গেল এই বিষয় নিয়ে লন্ডনেও গবেষণা চলছে। সেই রেশ টেনে জার্নালিজম সার্টিফিকেট কোর্সের ডিরেক্টর অধ্যাপক সুখেন বিশ্বাস বলেন, 'সাহিত্যে জীবন ও আত্মজীবন একে অপরের পরিপূরক। ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতা যখন সাহিত্যিক ভাষায় রূপ পায়, তখন তা আর কেবল ব্যক্তির থাকে না—তা হয়ে ওঠে সমষ্টিগত অনুভবের দলিল।
আত্মজীবনীমূলক সাহিত্য আমাদের সময়, সমাজ ও মানুষের অন্তর্লোককে গভীরভাবে চিনে নিতে সাহায্য করে এবং পাঠকের সঙ্গে এক নিবিড় মানবিক সম্পর্ক গড়ে তোলে।'
সাহিত্য ও জীবন পরস্পরের পরিপূরক। তবে লেখক ভেদে প্রবণতা ভিন্ন। জীবননির্ভর লেখার প্রতি টান ক্রমশ কমছে বলে মত প্রকাশ করেন বক্তারা। বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. সুমিতা চ্যাটার্জি বলেন, '১৬৪১ সালে মুঘল সাম্রাজ্যের আধিপত্যে থেকে বেনারসি দাস জৈন, কাশীর নিকটবর্তী জৌনপুর তালুকার এক প্রসিদ্ধ ব্যবসায়ী তাঁর আত্মকথামূলক কাব্যগ্রন্থ ‘অর্ধকথানক’ রচনা করেন, যা প্রমাণ করে দেয় যে আত্মকথামূলক রচনা ভারতীয় পরম্পরার ফসল।'
অন্যদিকে অসম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলার অধ্যাপক বরুণজ্যোতি চৌধুরী জানান, “আত্মজীবনী কেবল ব্যক্তিগত জীবনের খতিয়ান নয়, বরং সমকালকে ধরে রাখার এক শৈল্পিক প্রয়াস। সাধারণ স্মৃতিচারণের পাশাপাশি এগুলি আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক একটি অমূল্য ও জীবন্ত দলিল।' এ ছাড়াও বক্তব্য রাখেন কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক নন্দিনী বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রায় চারশো ছাত্রছাত্রী, গবেষকসহ উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক প্রবীর প্রামাণিক, ড. তুষার পটুয়া, ড. শ্যামশ্রী বিশ্বাস সেনগুপ্ত, ড. পীযূষ পোদ্দার প্রমুখ।