দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত ২ জানুয়ারি কেরলের শবরীমালা মন্দিরে প্রবেশ করেছিলেন বিন্দু আম্মিনি। কিছুদিন আগে সেই মন্দিরের দরজা খুলেছে ফের। বিন্দু আম্মিনিও আরও একবার সেই মন্দিরে প্রবেশ করতে যাচ্ছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন পুনের সমাজকর্মী তৃপ্তি দেশাই। কিন্তু সোমবার পথে তাঁদের লঙ্কাগুঁড়ো নিয়ে আক্রমণ করে একদল লোক।
https://twitter.com/Neethureghu/status/1199162798955089920
দুই মহিলা সোমবার ভোরে কোচি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে নামেন। পরে তাঁরা কোচির পুলিশ কমিশনারের অফিসে যান। শবরীমালা মন্দিরে প্রবেশের জন্য তাঁরা পুলিশের কাছে নিরাপত্তা দাবি করেন। কথা ছিল, মঙ্গলবার আরও পাঁচ মহিলার সঙ্গে তাঁরা মন্দিরে যাবেন।
পুলিশ জানায়, এক দক্ষিণপন্থী সংগঠনের সমর্থকদের সঙ্গে তাঁদের বিতর্ক শুরু হয়। তারা আম্মিনির মুখে লঙ্কাগুঁড়ো ছুঁড়ে মারে। তাঁকে দ্রুত নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। তৃপ্তি দেশাই বলেন, ২৬ নভেম্বর যেহেতু সংবিধান দিবস, তাই তাঁরা ওইদিন মন্দির দর্শনে যেতে চেয়েছিলেন।
তৃপ্তি দেশাই জানিয়েছেন, এই আক্রমণের পরেও তিনি শবরীমালা মন্দিরে যেতে চান। তাঁর কথায়, "২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে, যে কোনও বয়সের মহিলারা শবরীমালা মন্দিরে প্রবেশ করতে পারবেন। আমি শবরীমালা মন্দির দর্শন না করে কেরল থেকে যাচ্ছি না।"
বিন্দু আম্মিনি কেরলের কান্নুর বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারার। এবছরের শুরুতেই কনকদুর্গা নামে অপর এক মহিলার সঙ্গে তিনি শবরীমালা মন্দিরে প্রবেশ করেন। শবরীমালা মন্দিরে প্রবেশ করতে ইচ্ছুক মহিলাদের জন্য গত বছর ডিসেম্বরে একটি ফেসবুক গ্রুপ খোলা হয়। সেখানেই বিন্দু আম্মিনির সঙ্গে আলাপ হয় ৩৯ বছর বয়সী কনকদুর্গার। তিনি সরকারি কর্মী। তাঁর পরিবারও সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বিরোধী। যে মহিলারা শবরীমালা মন্দিরে প্রবেশে আগ্রহী, তাঁরা ফেসবুকের মাধ্যমে জোট বাঁধেন। প্রায় ৪ হাজার মহিলা ওই মন্দির দর্শনের জন্য পুলিশের কাছে নিরাপত্তা চান।