ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে অমিত শাহের পুজোর সময় বাইরে কংগ্রেসের তুমুল বিক্ষোভ। উন্নাও ও পুলওয়ামা ইস্যুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কুশপুতুল পোড়ানো হয়।

ঠনঠনিয়া কালীবাড়ি চত্বর
শেষ আপডেট: 31 December 2025 17:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বঙ্গ সফরে অমিত শাহের শেষদিন। দুপুরে পৌঁছেছিলেন ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে (Thanthania Kalibari)। মন্দিরে ঢুকতে বাইরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকরা। উন্নাও (Unnao) গণধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত কুলদীপ সেঙ্গার (Kuldeep Sengar)-কে নিরাপত্তা দেওয়া, বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাঙালিদের উপর নির্যাতন-সহ একাধিক অভিযোগে তারা প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগান তুলতে শুরু করেন। উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারও।
বিক্ষোভ চলাকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কুশপুতুল পোড়ানো হয়। ওঠে পুলওয়ামায় ৪০ সেনা মৃত্যুর প্রসঙ্গও।
হাতে প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে দুপুরের আগেই কালীবাড়ি সংলগ্ন এলাকায় জড়ো হতে শুরু করেন কংগ্রেস কর্মীরা। প্রশ্ন তোলা হয়, বিজেপি শাসিত রাজ্যে কেন বাঙালিদের মরতে হচ্ছে, ধর্ষণে অভিযুক্ত একজন ব্যক্তিকে কেন সরকারি নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে, পুলওয়ামা হামলার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত কেন আজও সামনে এল না। বিক্ষোভ ঘিরে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়ায়।
এদিনই বঙ্গ সফরের শেষ দিন ছিল। বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, সকালে হোটেল অল্ট এয়ারে (Hotel Alt Air) দলীয় সাংসদ ও বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করেন অমিত শাহ। সেখানে উপস্থিত ছিলেন দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)-সহ একাধিক শীর্ষ নেতা। এরপর দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে সায়েন্স সিটি (Science City)-তে কলকাতার সমস্ত বুথ কর্মীদের নিয়ে সাংগঠনিক বৈঠক করেন তিনি। বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে পুজো দিতে যান।
দরজায় কড়া নাড়ছে ২০২৬-এর বিধানসভা ভোট (2026 Assembly Election)। নতুন বছর শুরুর মুখে রাজ্যের রাজনীতির পারদ তুঙ্গে। গতকাল কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠক থেকে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জিতে সরকার গঠনের হুঙ্কার দেন শাহ। বাঁকুড়ার বড়জোড়া (Barjora) থেকে তার জবাব দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও (Mamata Banerjee)।
ভোটের আগে দুর্নীতিকে হাতিয়ার করে রাজ্যের তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) সরকারকে আক্রমণ শানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। নিয়োগ দুর্নীতি, ১০০ দিনের কাজ, গরু পাচার, চিটফান্ড মামলা, আবাস যোজনায় দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব হন তিনি। পাল্টা SIR ইস্যুতে অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করেন মমতা। পাশাপাশি দুর্যোধন-দুঃশাসনের সঙ্গে তুলনা টেনে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করতে ছাড়েননি।
অমিত শাহ যখন তৃণমূলকে সমূলে উপড়ে ফেলার কথা বলছেন, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কটাক্ষ, “জিতবে না, কচু হবে।” বিজেপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাবির পাল্টায় তৃণমূলের স্লোগান, “খেলা হবে, ফাটাফাটি খেলা হবে।” সব মিলিয়ে বিধানসভা ভোটের আগে চ্যালেঞ্জ-পাল্টা চ্যালেঞ্জে দিনভর তেতে রইল পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি।