দ্য ওয়াল ব্যুরো: সামনের বছর ত্রিপুরার বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে এবার উত্তর-পূর্বের রাজ্যটির জন্মদিনের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব ও উপমুখ্যমন্ত্রী যিষ্ণু দেববর্মা জুটির ভূয়সী প্রশংসা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
এদিন ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে অমিত শাহ বলেন, মুখ্যমন্ত্রী ও উপমুখ্যমন্ত্রীর যৌথ নেতৃত্বে ত্রিপুরা এগিয়ে চলেছে। ২৫ বছরের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে এই রাজ্য। যাতে স্বাধীনতার শতবর্ষে ২০৪৭ সালে দেশের অন্যতম সেরা রাজ্য হয়ে ওঠে ত্রিপুরা। আগরতলা বিমান বন্দরের আন্তর্জাতিক টার্মিনাল সম্প্রতি উদ্বোধন হয়েছে। মহারাজা বীর বিক্রমের নামাঙ্কিত সেই টার্মিনাল চোঝ ধাঁধানোই বটে। এদিন অমিত শাহ বলেন, উত্তর-পূর্বের রাজ্যে এমন বিমানবন্দর এর আগে কেউ কখনও কল্পনা করেননি। তা ছাড়া হাইওয়ে নির্মাণ, ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট ইত্যাদির উদাহরণ দিয়ে শাহ বলেন, যোগাযোগ, শিল্প নির্মাণেও ত্রিপুরার বিজেপি সরকার ব্যাপক অগ্রগতি ঘটাচ্ছে। ডবল ইঞ্জিনের প্রসঙ্গ টেনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই সরকারের চালিকা শক্তি মুখ্যমন্ত্রী আর উপমুখ্যমন্ত্রীর জুটি।
বিপ্লব দেব বাঙালি। আর যিষ্ণু জনজাতি অন্তর্ভুক্ত। অনেকের মতে, এই জুটির কথা বলে বলে আসলে বাঙালি-জনজাতি ঐক্যের বার্তাই দিতে চাইলেন শাহ। রাজনৈতিক মহলের অনেকের মতে, সেই অর্থে ত্রিপুরার মাটিতে ধর্মীয় মেরুকরণের সুযোগ বিজেপির সামনে নেই। তাই জনজাতি আবেগকে ছুঁয়ে যাওয়ার চেষ্টা থাকে সবেতেই। তাঁদের বক্তব্য, সেই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই বিপ্লব দেব গলায় সারাক্ষণ রিসা রাখেন। যা জনজাতিদের সিগনেচার। তা ছাড়া অতীতে বাম সরকারের সঙ্গে ত্রিপুরা রাজবাড়ির যে দূরত্ব ছিল এই জমানায় তা অনেকটাই ঘুচেছে। এদিন রাজবাড়ি সম্পর্কেও শাহের গলায় প্রশংসা ধ্বনিত হয়েছে।
আবার অনেকের মতে, দলের মধ্যেও হয়তো অমিত শাহ ঠারেঠোরে বার্তা দিতে চাইলেন, ত্রিপুরার সরকার বিপ্লব নির্ভর নয়। এখানে যিষ্ণু দেববর্মারও সমান ভূমিকা রয়েছে। যা তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন অনেকে। ত্রিপুরার রাজনীতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল অনেকের মতে, উপর উপর বিপ্লব-যিষ্ণুর সংঘাত নেই। কিন্তু ভিতরে ঠান্ডা লড়াই আছে। সেটাতেই এদিন জল ঢালতে চাইলেন শাহ।
১৯৫১ সালে ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল ত্রিপুরা। তারপর ’৭২ সালে এই রাজ্য পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা পায়। মহারাজা বীরবিক্রমের হাত ধরেই ভারতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল ত্রিপুরা। এদিন ছিল ত্রিপুরার ৫০ তম রাজ্য দিবস। যদিও এদিনের অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন না বিরোধী দলনেতা তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। তবে তাঁকে আর পাঁচজনের মতো আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কী কারণে মানিকবাবু ছিলেন না তার ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।